বিটকয়েন কি?

বিটকয়েন কি? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?

 দৈনিন্দ জীবনে লেনদেনের জন্য আমরা নানান ধরণের মুদ্রা ব্যবহার করি। গোটা বিশ্বের লেনদেন চলে বিশেষভাবে তৈরি কাগজের টুকরো এবং কয়েন দিয়ে যা মুদ্রা-ব্যবস্থার অন্তর্গত। আমরা সচরাচর যে কাগজের টাকা বা কয়েনের সাথে পরিচিত তা বাদেও অন্য একটি মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন আছে মার্কেটে। এই মুদ্রার নাম বিটকয়েন।

বর্তমান সময়ে বিটকয়েন একটি প্রচলিত কারেন্সি। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী এই ভার্চুয়াল মুদ্রার প্রচলন বাড়ছেই। যেহেতু এটি ভার্চুয়াল সেহেতু বহন করার ঝামেলা নেই। মার্কেটে আরও অনেক ধরণের ভার্চুয়াল মুদ্রা আছে কিন্তু বিটকয়েন বেশি প্রচলিত এবং অনেক কাস্টমার সাপোর্ট পেয়েছে। 

বিট কয়েন কি?

অনেক প্রচলিত ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে বিটকয়েন অন্যতম। ফিজিক্যাল মুদ্রার প্রচলন অনেক পুরনো হলেও সময় এখন পরিবর্তন হয়েছে। মানিব্যাগ ভর্তি টাকা পকেটে নিয়ে মার্কেটে গেলে হয় দোকানদার আপনাকে লুটবে অথবা ছিনতাইকারীর কবলে পরতে পারেন। এসব দিক বিবেচনা করলে ভার্চুয়াল মুদ্রা একটি ভালো এবং সময়োপযোগী অল্টারনেটিভ।

২০০৯ সালে সাতোসি নাকামতো বিটকয়েন নামে একটি ভার্চুয়াল মুদ্রার প্রচলন করেন, এবং এটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের আওতায় উন্মুক্ত করে দেন। যদিও তিনি ২০০৭ সাল থেকে বিটকয়েনের উপর কাজ করা শুরু করে। এর সিকিউরিটি এবং ব্যবহার উপযোগিতার জন্য বর্তমানে মার্কেটে রাজত্ব করছে।

 বিটকয়েন সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গেলে সবার প্রথমে আসে এটি একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা, এর বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। এটি সাধারণত জমা হয় ডিজিটাল সিগনেচার হিসেবে মালিকের কম্পিউটার বা মোবাইলের স্টোরেজে। সাধারণ মুদ্রা মাপার যেমন একক আছে তেমনি বিটকয়েন মাপার একক আছে। সাধারণ টাকা তৈরি এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার, ব্যাংক এবং অথরিটি থাকে। যেমন বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক যা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করে। টাকার মান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নোট তৈরি এবং বিতরণ করা পর্যন্ত এদের দায়িত্ব।

বিশ্বসেরা হ্যাকার কেভিন মিটনিক এর জীবনি

কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে এমন কোন ব্যবস্থা নেই। এর কোন অথরিটি নেই যারা এর নিয়ন্ত্রণ বা বণ্টন করবে। বিটকয়েন পেতে গেলে আপনাকে সাধারণ মুদ্রার মতো ব্যাংকে যেতে হবে না। এর লেনদেন সম্পূর্ণটাই হয় অনলাইনে। বিটকয়েনের মাণ সবসময় শেয়ার বাজারের মতো ওঠা নামা করে। 

1 BTC বা ১ বিটকয়েনের বর্তমান মূল্য 22,725 USD যার টাকায় মূল্য ২,২৬৬,২১০ টাকা । তাহলে চিন্তা করুন কতো দামী এই মুদ্রা। তাই ইনভেস্ট করার আগে ভালো করে ভেবে নিবেন।  এখন চলুন দেখে নেই বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে। 

বিট কয়েন কিভাবে কাজ করে?

বিটকয়েন একটি ডিজিটাল কারেন্সি। এর আদান-প্রদান সবকিছুই হয় অনলাইনে ডিভাইস টু ডিভাইস। অর্থাৎ বিটকয়েন জমা হয় হার্ডডিস্ক বা ফোন স্টোরেজে এবং আপনার হার্ডডিস্ক বা স্টোরেজ ক্রাশ করলে আপনার পুরো টাকাটাই পানিতে ভেসে যাবে। বিটকয়েন স্টোরেজে জমা হওয়ার কারণে এর একধরণের ত্রুটি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কারণ এই ভার্চুয়াল মুদ্রার অনেক কপি বানিয়ে তা বারবার বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু অনেক গবেষণার পর একটি সফল সিস্টেম আবিষ্কার করা হয়। প্রতিটি বিটকয়েনের সাথে গাণিতিক কোড যোগ করে দেওয়া থাকে। যা দিয়ে বিট কয়েন কোথায় বা কার কাছে আছে তা ভেরিফাই করা যায়। এই কারণে আপনি একবার বিটকয়েন বিক্রি করলে তার মালিকানা হারাবেন এবং আপনি যাকে সেন্ড করবেন সেটি একটি ভেরিফিকেশন এর মধ্য দিয়ে যাবে।

যার ফলে প্রতিটি বিটকয়েন ট্র্যাক করা যায় এবং এর সঠিক মালিকানা বের করা যায়। এখানে বিটকয়েন মাইনিং এর কথা না বললে পুরো ব্যাপার ক্লিয়ার হবে না। প্রতিদিন যে হাজার হাজার বিটকয়েন লেনদেন হচ্ছে এগুলো কোথায় থেকে আসছে বা কে বানাচ্ছে? আসলে  বিটকয়েন যেহেতু অনলাইন কারেন্সি সেহেতু এর কোন ব্যাংক নেই। অর্থাৎ এই কয়েন বানানোর কোন প্রতিষ্ঠান নেই। তাহলে মানুষ এই কয়েন ক্রয় করে কিভাবে? এই পুরো প্রসেস সম্পূর্ণ করে বিটকয়েন মাইনারস রা। আর এই কাজে তাদের ব্যবহার করতে হয় অনেক দামী আর শক্তিশালী জিপিইউ দিয়ে। কারণ তাদের অনেক জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে দিতে হয় ট্রানজেকশন সম্পন্ন হতে। এতে অবশ্য তাদের নিজেদেরও লাভ আছে কারণ প্রতিটা সফল ট্রানজেকশন শেষে তারাও বোনাস হিসেবে কিছু বিটকয়েন পায়। মাইনারস দ্বারা যখন ট্রানজেকশন ভ্যালিড চেক করা হয় তা তখন ব্লকচেইন সিস্টেমের মাধ্যমে আনডিটেকটেড ভাবে ট্রানজেকশন সম্পন্ন হয়।

হ্যাকিং কি? হ্যাকার কে?

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা এনক্রিপশন বা ডিক্রিপশন শব্দ গুলোর সাথে পরিচিত। এই ক্রিপশনের কাজ হলও কোন ফাইল বা ডাটাকে একটি বিশেষ কোডে (যা পড়ার অযোগ্য) রূপান্তর করে প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়। এই কোড কোন মানুষ পড়তে পারে না এবং কোন কম্পিউটার একে ডিক্রিপশন কোড ছাড়া পড়তে পারে না। অর্থাৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এমন একটি সিকিউর পদ্ধতি যা কম্পিউটার অ্যালগোরিদম প্রযুক্তি এবং একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক কোড দ্বারা তৈরি। এটি পরিচালিত হয় ব্লকচেইনের মাধ্যমে তাই একে হ্যাক করা যায়না। বর্তমানে অনেক গুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিটকয়েন অন্যতম। এবং বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে অনেক পপুলার একটি সিস্টেম।

 বিটকয়েন এমন একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি যা অনেক দামী এবং সুরক্ষিত। ব্লকচেইন টেকনোলজি ব্যবহার করার কারনে একে হ্যাক করা যায়না। নানারকম মিথ প্রচলিত থাকলেও ভবিষ্যৎ বাজারে মুদ্রার বিটকয়েন একমাত্র সম্বল হবে। পুরো আর্টিকেলে বিটকয়েন এবং ক্রিপ্টোকারেন্স নিয়ে আলোচনা করেছি। কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন ধন্যবাদ। 

Leave a Reply