অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর আগে যা জানা জরুরী

অনলাইন ইনকাম এখনকার সময়ের একটি পপুলার টপিক। তরুণ সমাজ চাকরি না পেয়ে বা চাকরির বাজারের এই কম্পিটিশন থেকে বের হয়ে সেলফ এমপ্লয়েড হওয়ার জন্য অনলাইন ইনকামের পথ বেঁছে নিচ্ছে। অনলাইনে ইনকাম করার জন্য আমাদের রকেট সাইন্স সম্পর্কে জানার দরকার নেই। কিন্তু নানান ধরনের ইনকাম স্ক্রীনশর্ট দেখে আমরা লোভে পরে না জেনে কাজে নেমে পরি। অনলাইন ইনকামের যত গুলো পথ আছে তার মধ্যে কোন সেক্টর আপনার জন্য উপযুক্ত হবে তা নিয়ে কনফিউশন থাকলে আমাদের আজকের লেখা পড়ে আপনার কনফিউশন দূর হয়ে যাবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে একটি বিজনেস আইডিয়া। যেখানে কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে দিয়ে কমিশন জেনারেট করাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে তিনটি উপায়ে। যেখানে বিজ্ঞাপন দাতা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করে দেওয়ার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের অফার করে। তখন সে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করে কাস্টমারের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে দেওয়ার জন্য সেই মার্চেন্ট বিক্রির কিছু টাকা কমিশন হিসেবে দেয়। এই পুরো সিস্টেম ফলো করে আয় করাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

এখানে যে ব্যাপার ঘটে তা হলো একজন মার্কেটার টাকা ইনকামের জন্য মার্চেন্টের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মার্কেটিং করে দেয়। এতে সহজেই প্রোডাক্টের মার্কেটিং সহ সেল হয়। এতে মার্চেন্ট এক্সট্রা খরচ না করে শুধু কমিশনের বিনিময়ে নিজের প্রোডাক্ট এবং কোম্পানির মার্কেটিং করে ফেলতে পারে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর আগে যা জানা জরুরী

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি বিজনেস, আপনি হুট করেই এই বিজনেস শুরু করতে পারবেন না। শুরু করতে পারবেন কিন্তু এতে লাভের থেকে লস বেশি হবে। কারন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার আগে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর দুনিয়ায় ৩ টি বিষয় সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হলো টাইম, টেকনিক এবং ইনভেস্টমেন্ট। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পর্যায়ক্রমে সেগুলো সম্পর্কে জানবো।

ফ্রিল্যান্সিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন

নীশ নির্বাচন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে সবার আগে নীশ নির্বাচন করতে হবে। আপনার পুরো প্রোজেক্টের সফলতা নির্ভর করে আপনার নীশ নির্বাচন করার উপর। যেহেতু আপনার ইনকাম নির্ভর করে প্রোডাক্ট বিক্রির উপর সেহেতু আপনাকে বেশি ভিজিটর জেনারেট করবে এমন নীশ নির্বাচন করতে হবে। যত বেশি ভিজিটর তত বেশি প্রোডাক্ট সেল হবে। নীশ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনি যে প্লাটফর্মে অ্যাফিলিয়েট করবেন সেখানে কি কি নীশ আছে তা রিসার্চ করে নিতে হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ

নীশ নির্বাচন করার পর আপনার প্রথম কাজ হবে উক্ত নীশ সম্পর্কে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা। কারন আপনার ওয়েবসাইটের প্রধান ভিজিটর সোর্স হবে গুগল বা এরকম সার্চ ইঞ্জিন। সেখানে আপনি প্রথম পাতায় না থাকতে পারলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর জেনারেট হবেনা। আপনার শর্টলিস্ট করা কীওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লিখিয়ে নিতে হবে। আর্টিকেল গুলো সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর নিয়ে আসবে যা পরবর্তীতে কাস্টমার হিসেবে রূপান্তরিত হবে।

প্রোডাক্ট রিসার্চ

একটি মার্চেন্ট সাইটে অ্যাফিলিয়েট করার জন্য অনেক প্রোডাক্ট থাকে। এদের মধ্যে সব প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি কাজ করতে চাইলে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না। কিছু কিছু প্রোডাক্ট আছে যেগুলো নিয়ে সচরাচর সবাই অ্যাফিলিয়েট করে। যেমন ফিশিং, স্পোর্টস, হোম ইম্প্রুভমেন্ট ইত্যাদি নীশ রিলেটেড প্রোডাক্ট।

এসব নীশের প্রোডাক্ট সব থেকে বেশি সেল হয় জন্যে কম্পিটিশন বেশি। আপনি একজন নতুন মার্কেটার হিসেবে কম্পিটিটিভ নিসে ভালো সফলতা পাবেন না। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রোপার প্রোডাক্ট রিসার্চ করতে হবে। আপনাকে এমন প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে যেখানে কম্পিটিশন কম কিন্তু কমিশন বেশি।

ওয়েবসাইট তৈরি

নীশ, কীওয়ার্ড এবং প্রোডাক্ট রিসার্চ করার পর আপনার প্রথম কাজ হবে ওয়েবসাইট তৈরি করা। এখন আপনি যদি ওয়েবসাইট ছাড়া ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল প্লাটফর্ম ইউজ করতে চান তাহলে আপনাকে চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজ গ্রো করতে হবে।

ধরে নিলাম আপনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট করবেন। সে ক্ষেত্রে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে ডেভেলোপার দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন এই ওয়েবসাইট আপনার সেলস ফানেল হিসেবে কাজ করবে। সোনার ডিম দেওয়া হাসের মতো আপনাকে ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

ফাইভারে কাজ পাবার উপায়

কনটেন্ট স্ট্রাকচার ও ডেভেলোপমেন্ট

ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আপনার কাজ হবে ওয়েবসাইটে কনটেন্ট আপলোড করা। কীওয়ার্ড রিসার্চ করার পর আপনার নীশ রিলেটেড অনেকগুলো কীওয়ার্ড আপনার কাছে আছে। রাইটার হায়ার করে অথবা আপনি নিজে ওই কীওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লেখা শুরু করে দেবেন। বেশি ভালো হয় কীওয়ার্ড রিসার্চ করার পর রাইটার দিয়ে লিখিয়ে রাখা। যখন আপনার ওয়েবসাইট রেডি হয়ে যাবে তখন একের পর এক কনটেন্ট আপলোড করতে পারবেন।

আর্টিকেল পাবলিশ করার আগে আপনাকে ভালো মতো কম্পিটিটরদের আর্টিকেল রিসার্চ করে স্ট্রাটেজি তৈরি করে নিতে হবে। আপনার আর্টিকেল যত ভালোমতো অপ্টিমাইজ করা থাকবে তত তারাতারি রাঙ্ক করবে। রিভিউ বা ইনফো যে ধরনের আর্টিকেল হোক ওয়েল রিসার্চ হতে হবে।

এসইও

আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট দাঁড় করাবেন তখন যে কয়েকটা বিষয় সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাবে এসইও তার মধ্যে অন্যতম। মার্কেটিং করার জন্য মার্কেটাররা ফ্রী এবং পেইড এই দুই ওয়ে ইউজ করে। একটি অ্যাফিলিয়েট সাইট তৈরি করতে এমনিতেই আপনার অনেক ইনভেস্ট হয়ে যাবে। সেখানে আবার পেইড অ্যাড ক্যাম্পিং করাটা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ।

কিন্তু মার্কেটিং করার জন্য কোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই এসইও ইউজ করে সহজেই অনেক বেশি অর্গানিক ভিজিটর পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মোটামুটি সব মার্কেটার এই পদ্ধতি ইউজ করে।

কোন পণ্য কেনার আগে কাস্টমার ওই প্রোডাক্ট সম্পর্কে খোঁজ খবর করার জন্য গুগলে সার্চ করে। এসইও এর কারনে ওই সার্চ রেজাল্ট পেজে আপনার ওয়েবসাইট লিংক শো করলে কাস্টোমার সোজা আপনার অ্যাফিলিয়েট সাইটে প্রবেশ করবে, এভাবেই একজন ভিজিটর কাস্টোমারে রূপান্তরিত হবে।

Leave a Reply