লিড জেনারেশন কত প্রকার?

লিড জেনারেশন কত প্রকার? লিড জেনারেশনের পদ্ধতি

বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য এবং প্রযুক্তির যুগ তা আমরা সকলে জানি এবং উপলব্দিও করছি। আমাদের সকলের ‘প্রযুক্তি’ অংশটির উপর মোটামুটি ধারণা থাকলেও ‘তথ্য’ অংশের প্রতি রয়েছে উদাসীনতা । কিন্তু পৃথিবীর অনেক মানুষ আমাদের তথ্যের প্রতি উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে নিশ্চিন্তে উন্নতি করে চলছে। তারা আমাদের তথ্যকে ব্যবহার করে আমাদের কাছে পন্য সেলস করছে এবং সফল মার্কেটিং ক্যম্পেইন চালাচ্ছে। এছাড়া আমাদের তথ্যের বিনিময়ে উপার্জনও করছে। এখানে তথ্য বলতে বোঝানো হচ্ছে আমাদের ইমেইল এবং ফোন নাম্বার থেকে শুরু করে আমাদের লোকেশন সব কিছু। মার্কেটিং এর ভাষায় আমাদের এই তথ্য গুলোকে বলা হয় লিড। বর্তমান দুনিয়ায় যে কোম্পানী/ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি যত বেশি তথ্যের অধিকারী সে কোম্পানী/ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি তত বেশি উন্নত এবং মার্কেটিং এ সফল। এক কথায় বলতে গেলে তথ্যই সব। 

বলছিলাম লিডের কথা। এক কথায় বলতে গেলে সম্ভাব্য ক্রেতার তথ্যকে লিড বলা হয়ে থাকে। আর সম্ভাব্য ক্রেতার ইনফর্মেশন সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে বলা হয়, লিড জেনারেশন। আজকে আমরা লিড জেনারেশনের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করবো। সেই সাথে জানানোর চেষ্টা করবো লিড জেনারেশনের পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে। শেষ অংশে দেখানোর চেষ্টা করবো কিভাবে লিড জেনারেশন করতে হয় তার পদ্ধতি। 

লিড জেনারেশন কত প্রকার?

লিড জিনিসটি আমাদের লাইফ সাইকেলের মাঝে খুবই বেশি পরিমানে জড়িত। একজন কাস্টমার কোন পন্যের প্রতি ইন্টারেস্ট দেখানো থেকে শুরু করে পন্যটি কেনা অবধি নানান রকম লিড  এর ক্যাটাগরি রয়েছে। সব লিড কিন্তু এক রকম নয়। জীবন ঘনিষ্ঠতার বিচারে লিডকে চার প্রকারে ভাগ করা যায়। যেমন-

  • মার্কেটিং কোয়ালিফাইড লিড(MQL)
  • সেলস কোয়ালিফাইড লিড (SQL)
  • প্রোডাক্ট কোয়ালিফাইড লিড (PQL) 
  • সার্ভিস কোয়ালিফাইড লিড 

ফ্রিল্যান্সার মাসুম এর সফলতার গল্প – ফ্রিল্যান্সিং গল্প

মার্কেটিং কোয়ালিফাইড লিড(MQL)

মার্কেটিং কোয়ালিফাইড লিড হচ্ছে- ঐ সকল কন্টাক্ট যারা মার্কেটিং টিমের ক্যাম্পেইনের সাথে রেসপন্স করেছে বা ইন্টারেস্ট প্রকাশ করছে, কিন্তু এখনও সেইলস কল রিসিভ করার জন্য প্রস্তুত নয়। অর্থাৎ সবে মাত্র তারা প্রোডাক্টিট সম্পর্কে ধারনা নেওয়া শুরু করেছে। যেমন ধরুন ফেসবুক পেইজে কোন একটা এড দেখার পর কিছুক্ষন সময় নিয়ে সেটি দেখছে বা লাইক দিয়েছে এই রকম পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়টি ইন্টারেস্ট দেখানোর মাঝে সীমিত। এই পর্যায়ে একজন দেখায় যায়, হয়তো ল্যান্ডিং পেইজ অবধি দেখে এসেছে, বা কিছুক্ষন ল্যান্ডিং পেইজে অবস্থান করেছে এরপর অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তিটির পছন্দ না হলে সে স্ক্রল করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে বা এভয়েড করার চেষ্টা করছে।

সেলস কোয়ালিফাইড লিড (SQL)

সেলস কোয়ালিফাইড লিড হচ্ছে যেসব কন্টাক্ট যারা মার্কেটার এর কার্যক্রম এর প্রতি ইন্টারেস্ট দেখায় বা কিছুক্ষন সময় নিয়ে সেটি পর্যবেক্ষণ করে। যেমন মার্কেটার যদি ল্যান্ডিং পেইজে নিয়ে যায় তখন এই ফানেলের কাস্টমার গুলো সেই ফর্মে যাবতীয় তথ্য পূরণ করে আসার মত প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যদি কোন প্রশ্ন করা হয়, তখন এই ফানেলের কাস্টমার গুলো সেগুলোর উত্তর দিয়ে আসার মত কন্টাক্ট গুলোর মনে বিশ্বাস যোগ্যতা সৃষ্টি হয়। মূলত এক কথায় বলতে গেলে মার্কেটারদের কার্যক্রমের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেওয়া কন্টাক্ট গুলো হচ্ছে সেলস কোয়ালিফাইড লিড। 

প্রোডাক্ট কোয়ালিফাইড লিড (PQL)

প্রোডাক্ট কোয়ালিফাইড লিড হচ্ছে, যে সকল কাস্টমার ফ্রি ট্রায়াল সিস্টেমটি ব্যবহার করেছে এবং সেই সঙ্গে ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এই ধরণের লিড গুলো এক প্রকার কাস্টমারে রুপান্তর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এই ফ্রি ট্রাইয়াল এর মাধ্যমে কাস্টমারের মতামত এবং রিভিউ পাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। এই কাস্টমার গুলো ফ্রি ট্রায়ালের সময় যদি কোন ফিচারে লিমিটেশন দেখতে পায়, অনেক সময় দেখা যায় তারা সেখান থেকে সরাসরি ক্রয় করে নেয়। 

সার্ভিস কোয়ালিফাইড লিড 

সার্ভিস কোয়ালিফাইড লিড গুলো হচ্ছে সেই সমস্ত কাস্টমার যারা মার্কেটারদের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে তারা প্রোডাক্টটি নিতে চাচ্ছে। অর্থাৎ পেইং কাস্টমারে রুপান্তর হয়েছে। এই ধরণের লিড গুলো সাধারনত হয়ে থাকে যেই সকল কাস্টমার প্রোডাক্ট সাবস্ক্রিপশন আপগ্রেড করে নিতে চায় তারা। মূলত ফ্রি ট্রায়াল শেষ হয়ে যাওয়ার পর যদি কোন কাস্টমার ঐখান থেকে কোন প্রকার বেনিফিট পেয়ে থাকে, তখন সে পন্যটি নিতে চাইবে। যখন ব্যক্তিটি নতুন করে পার্চেজ করার আগ্রহ প্রকাশ করবে, তখন তার লিড কে কাউন্ট করা হবে সার্ভিস কোয়ালিফাইড লিড হিসেবে। 

১ ক্লিকে তৈরি করুন ওয়েবসাইট – আইটি নাট ওয়েবসাইট বিল্ডার

লিড জেনারেশনের পদ্ধতি 

লিড সংগ্রহ করা মানে নতুন নতুন কাস্টমার খুঁজে পাওয়া। একটি লিড পাওয়া মানে তাকে অনেক রকম কাস্টমারে রুপান্তর করা যায়। যেমন ধরুন কেউ একজন স্কিলশেয়ার এর মার্কেটিং এর জন্য লিড সংগ্রহ করছে। এখন লোকটি এই স্কিলশেয়ারের লিড দিয়ে আরো রিলিভেন্ট অনেক প্রোডাক্ট যেমন লিংকড ইনে, মাস্টারক্লাস ইত্যাদির মত অনেক কিছু পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবে। এতে করে খরচ অনেক আংশে কমে আসবে। এছাড়া এই লিড গুলো পরবর্তীতে অন্যন্য কোম্পানির কাছে বিক্রিও করা সম্ভব। ফলে লিড জেনারেশন বা লিড সংগ্রহ করা এখন রীতিমত প্রতিযোগীতার পর্যায়ে চলে গেছে। 

লিড জেনারেশন হচ্ছে ইনবাউন্ড মার্কেটিং মেথডলজির দ্বিতীয় পর্যায়। সময়ের সাথে লিড জেনারেশনের চাহিদা বেড়ে চলায় এটি অনেক মার্কেটিং এর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।  চলুন একনজরে  দেখে নেই লিড জেনারেশনের পদ্ধতি গুলো। 

১.একজন ভিজিটর সর্বপ্রথম কোন বিজনেসের ধারণা পেয়ে থাকে মার্কেটিং চ্যানেলের মাধ্যমে। মার্কেটিং চ্যানেল যেমন – ওয়েবসাইট, ব্লগ, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি। যখন সে ফেসবুক বা ইনস্ট্যাগ্রাম চালানোর সময় কোন রকম অ্যাড বা অফার দেখে থাকে, তখন যদি সেটি তাকে আকর্ষন করতে পারে, তাহলে সে পরের ধাপ গুলোতে যেতে প্রস্তুত। 

২. তারপর ভিজিটর মার্কেটার এর তৈরি কল-টু-একশন(CTA) অংশে ক্লিক করে। যেমন ইমেইজ, মেসেজ, এবং বাটন ইত্যাদি। যা মূলত একজন কাস্টমারকে কোন একশনে যেতে উৎসাহী করে তোলে। 

ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট সিরিজ – ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট শিখুন বাংলাতে

৩. এই কল-টু-একশন(CTA) মূলত একজন ইউজারকে ল্যান্ডিং পেইজে যেতে সহায়তা করে থাকে। ল্যান্ডিং পেইজ মূলত ডিজাইন করা হয়ে থাকে ইনফর্মেশন সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। যেখানে একজন ইউজার প্রবেশ করার পর তাকে কিছু লিমিটেড ফিচার ফ্রি তে দিবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এটি বলে ইউজার থেকে ইনফর্মেশন সংগ্রহ করা হয়। ইনফর্মেশন দিলে ইউজারকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্রি ট্রায়াল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ( এক্ষেত্রে একজন মার্কেটারকে এমন কিছু অফার করতে হয়, যেন ইউজার ঐ অফার গ্রহন করার জন্য ইনফর্মেশন দিতে দ্বিধাবোধ না করে)

৪. যখন একজন ভিজিটর ল্যান্ডিং পেইজে প্রবেশ করে তখন অফারের বিনিময়ে তাকে কিছু ইনফর্মেশন দিতে হয়, যেমন মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস (মোবাইল এবং ই-মেইল এড্রেস দিয়ে যাতে পরবর্তীতে মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করা যায়) ইত্যাদি। 

সারসংক্ষেপ

হ্যাঁ, এই সব প্রসেস যদি শেষ হয়ে থাকে তাহলে একবার সামারি করে দেখি ফলাফল কি আসে। প্রথমে একজন ভিজিটর এই কল-টু-একশন(CTA) এ ক্লিক করবে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হবে ল্যান্ডিং পেইজে। তারপর তাকে অফারের লোভ দেখানো হবে, ইনফর্মেশন শেয়ারের বিনিময়ে। অফারটি এমন লোভনীয় করা হবে যেন, গ্রাহক ইনফর্মেশন দিতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ ইউজার যে কোন মূল্যে অফার টি গ্রহন করতে চাইবে ঐ ধরণের অফার প্রোভাইড করা। ফলে ইউজার ইনফর্মেশন দিয়ে দিবে। যা মূলত লিডে পরিণত হবে। 

Leave a Reply