অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার উপায়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার উপায়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আমাদের আগের পোস্টের মাধ্যমে আমরা জেনেছি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে যা যা জানা জরুরী, আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার উপায় কি কি তা নিয়ে।

ইউটিউব

 ইউটিউব একটি অতি জনপ্রিয় এডুকেশনাল প্লাটফর্ম, এখানে আপনি সব বিষয়ের উপর ভিডিও পাবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার জন্য ইউটিউবে অনেক অনেক চ্যানেল পাবেন যেখান থেকে শিখতে পারবেন। কিন্তু ইউটিউবে আপনি অ্যাডভান্স বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাবেন না। এর জন্য আপনাকে প্রতিটি ধাপ আলাদা আলাদাভাবে আয়ত্ত করতে হবে। যেমন আলাদা ভাবে এসইও, ওয়েবসাইট মেইন্টেইন করা ইত্যাদি শিখতে হবে।

ব্লগ

অনলাইনে খুঁজে দেখলেই অনেক অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং রিলেটেড ব্লগ খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে সফল মার্কেটারদের অনেক পার্সোনাল ব্লগ আছে যেখানে গঠনমূলক আলোচনা পাবেন। তারা কি কি স্টেপ ফলো করেছেন বা নতুন হিসেবে কি কি করা প্রয়োজন সে ব্যাপারে অনেক টিপস পাবেন। এছাড়াও তারা অনেক কেস স্টাডি শেয়ার করে যেগুলো নতুনরা কোথায় থেকে শুরু করবে এ ব্যাপারে হেল্প করে। মার্কেটিং একটু গতিশীল বিষয় যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় অ্যাড হচ্ছে। ব্লগ পড়লে আপনি সহজেই এসকল পরিবর্তনের সাথে নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে পারবেন।

ফোরাম

কোন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ফোরাম একটি উপযুক্ত জায়গা। এখানে প্রতিটি বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যায়। মার্কেটিং রিলেটেড এমন অনেক ফোরাম আছে যেখানে আপনার মনে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই দেওয়া আছে। আপনাকে শুধু সেখানে যেতে হবে এবং উত্তর গুলো জেনে নিতে হবে। যদি আপনার মনে কোন প্রশ্ন আসে তাহলে আপনি সেখানে প্রশ্ন পোস্ট করে উত্তর জেনে নিতে পারবেন।

ই-বুক

ব্লগ আর বইয়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল বইয়ে সবকিছু গোছানো থাকে আর ব্লগে একটু অগোছালো ভাবে থাকে। সেদিক থেকে বই পড়ে আপনি একটি বিষয় সম্পর্কে অনেক বেশি ধারণা পাবেন। বাংলায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে “অথোরিটি এইড সাকসেস ব্লুপ্রিন্ট” নামক একটি বই আছে। যেখানে অনেক সহজ আর সুন্দর করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বইটি পড়লে আপনি মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

কোর্স

আপনি অনলাইন বা অফলাইন দুই ভাবেই অ্যাফিলিয়েট কোর্স করতে পারবেন। কোর্স করার সুবিধা হলো এতে আপনি সরাসরি মেন্টর থেকে শিখতে পারছেন। কোর্স কেনার বা জয়েন হওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন মেন্টর নিজে মার্কেটিং করে কিনা।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার উপায়

যদি নিজে মার্কেটিং না করে তাহলে তার থেকে শিখে আপনার কোন লাভ হবে না। কারন মার্কেটিং বইয়ে পড়ে শেখার জিনিস না, এখানে আপনাকে পড়ে এবং অনেক এক্সপেরিমেন্ট করে তারপর শিখতে হবে। আপনার মেন্টর যদি নিজে মার্কেটার হয় তাহলে তিনি আপনাকে পুরনাঙ্গ ধারনা দিতে পারবে এবং সঠিক পথে গাইড করতে পারবে। তবে কোর্স করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে মেন্টর সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে কোর্সে জয়েন হবেন, কেননা বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মেন্টরই নতুনদের বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে ধোকাবাজি করে থাকে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং  

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার পর আপনি চাইলে নিজেও কাজ করতে পারেন বা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে এমন অনেক সুযোগ আছে যা একজন মার্কেটার হিসেবে আপনার জন্য উপযুক্ত।

মার্কেটপ্লেসে আপনি কীওয়ার্ড রিসার্চ, নীশ রিসার্চ, ওয়েবসাইট বিল্ডিং ও আর্টিকেল রাইটিং সার্ভিস সেল করতে পারবেন। এছারাও বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রমোট করে সেল বাড়িয়ে দেওয়ার কাজ মার্কেটপ্লেসে অনেক জনপ্রিয়।বিশেষ করে এসইও সার্ভিস সেল করে আপনি যেমন অনেক ভালো ইনকাম করতে পারবেন তেমনি আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়বে।নিজে অ্যাফিলিয়েট করার সাথে সাথে মার্কেটপ্লেসে সার্ভিস সেল করেও আপনি ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। এরকম কিছু মার্কেটপ্লেসের মধ্যে ফাইভার এবং আপওয়ার্ক অন্যতম।

সেরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্লাটফর্ম

বর্তমানে প্রায় সকল কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সেল করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে প্রাধান্য দেয়। সে দিক থেকে অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্লাটফর্মের অভাব নেই। কিন্তু সব প্লাটফর্মে ফোকাস করে কাজ করা কখনই ঠিক হবে না। প্রোডাক্ট, কমিশন এবং পেমেন্ট এসব বিষয় বিবেচনা করে আমরা কয়েকটা বেস্ট অ্যাফিলিয়েট প্লাটফর্ম শর্টলিস্ট করেছি। চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

Amazon Associates/অ্যামাজন এসোসিয়েটস: অ্যামাজন সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স প্লাটফর্ম। আমরা এটিও জানি যে অ্যামাজন এতদুর আসার পিছনে তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের অনেক ভূমিকা আছে। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে অ্যামাজন আপনার চয়েস লিস্টে প্রথমে থাকার কথা। কারন এর কমিশন রেট, প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি এবং পেমেন্ট সিস্টেম ইউজার ফ্রেন্ডলি।

Clickbank/ক্লিকব্যাংক: ক্লিকব্যাংক একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস। অর্থাৎ এখানে আপনি আপনার নিজের প্রোডাক্ট অ্যাফিলিয়েটের জন্য সেল করতে পারবেন অথবা কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারবেন। যদিও বাংলাদেশ থেকে এখন আর ক্লিকব্যাংক ইউজ করা যায়না।

বিটকয়েন কি? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?

ShareASale Affiliates/শেয়ারঅ্যাসেল অ্যাফিলিয়েট: এখানে আপনি ক্লিকব্যাংক এর মতো প্রোডাক্ট প্রমোট ও সেল করতে পারবেন। শেয়ারঅ্যাসেল প্লাটফর্মে আপনি বাংলাদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারবেন। তারা প্রায় সকল কমন পেমেন্ট সার্ভিস ইউজ করে। এর ফলে আপনার পেমেন্ট নিতে কোন সমস্যা হবে না।

eBay Partners/ইবে পার্টনারস: ইবে একটি পপুলার ই-কমার্স ওয়েবসাইট। এখানে অ্যামাজনের মত সব প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। এসব প্রোডাক্ট প্রমোট করার জন্য ইবে তাদের প্লাটফর্মে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম অ্যাড করেছে। ইবে তাদের অ্যাফিলিয়েট রুলস খুব সহজ করে দিয়েছে। তবে কোন পণ্যের নিলাম ১০ দিন ওভার হয়ে গেলে সেখানে আপনাকে কোন পেমেন্ট দেওয়া হবে না।

Shopify Affiliate Program/শপিফাই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম: শপিফাই অ্যামাজন এবং ইবে এর মত ই-কমার্স শপ। তারা তাদের প্রোডাক্ট অ্যাফিলিয়েট করার জন্য প্রমোটার দের অনেক সুবিধা দেয়। অন্যান্য কম্পিটিটর থেকে শপিফাই অনেক বেশি কমিশন প্রদান করে।

উপরের যেই অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো তাঁর সবই বিদেশী প্রতিষ্ঠান, তো চলুন এবার জেনে নেয়া যাক একটা দেশীয় অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে:

আইটি নাট হোস্টিং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম

ডিজিটাল মার্কেটার বিশেষ করে যারা নতুন এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছে তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আইটি নাট হোস্টিং এর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। 

বর্তমান সময়ে বড় বড় অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোতে জয়েন করা খুবই কষ্টসাধ্য  হয়ে উঠেছে, কিছু অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ থেকে একাউন্ট করতে দিচ্ছে না, এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে নতুন ফ্রিল্যান্সার / মার্কেটাররা, তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য যে কেউ চাইলে আইটি নাট হোস্টিং এর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে পারে, এখানে খুব সহজেই জয়েন করা যায় এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গাইড লাইন নিয়ে মার্কেটিং শুরু করা যায়।

আইটি নাট হোস্টিং যেহুতু দেশীয় কোম্পানী তাই পেমেন্ট নিয়েও কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না, বিকাশ রকেট,নগদ ব্যবহার করে খুব সহজেই পেমেন্ট  নিতে পারবেন। ১০০০ হাজার টাকা ড্যাশবোর্ডে জমা হয়া মাত্রই যে কোন সময় উইড্রো করতে পারবেন। 

আইটি নাট অ্যাফিলিয়েট পোগ্রাম:

  • শেয়ারর্ড হোস্টিং এ ১৫% কমিশন 
  • ক্লাউড ভিপিএস সার্ভারে ২৫% কমিশন
  • রি-সেলার হোস্টিং এ ৫% কমিশন

আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহার করে কেউ যদি শেয়ারর্ড হোস্টিং কেনে, সে যত বার রিনিউ করবে ততবার অ্যাফিলিয়েট কমিশন পাবে অর্থাৎ অন টাইম প্রমোশন লাইফ টাইম কমিশন, তবে ক্লাউড ভিপিএস এবং রি-সেলার হোস্টিং এ অনটাইম কমিশন পাবেন।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

এছাড়াও মার্কেটিং করতে গিয়ে বা যে কোন প্রকার সমস্যায় পড়লে আইটি নাটের সাপোর্ট টিমের থেকে হেল্প নিতে পারবেন। সব দিক থেকে বিবেচনা করে আমরা সাজেস্ট করবো আপনে যদি নতুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে প্রথমে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোতে আবেদন না করে আইটি নাট হোস্টিং অথবা দেশীয় কোন অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে জয়েন করতে পারেন, এতে করে কাজ করতে গিয়ে আপনাদের কিছু অভিজ্ঞতাও হয়ে যাবে যা পরবর্তীতে কাজে লাগবে যখন এখান থেকে ইনকাম আসা শুরু করবে তখন আপনে আস্তে আস্তে দেশীয় নেটওয়ার্কগুলোর পাশাপাশি বড় বড় অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোতে জয়েন করতে পারেন।

পুরো লেখা পড়ে আমরা অ্যাফিলিয়েট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা লাভ করলাম। শেষ কথা বলতে গেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি গতিশীল ধারা। এখানে আপনাকে টিকে থাকতে হবে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে। নিজের তৈরি স্ট্রাটেজি ভালো করে ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করবেন ধন্যবাদ। 

Leave a Reply