পুরাতন পিসি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

পুরাতন পিসি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

কম্পিউটার নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র। যার কল্যাণে ইন্টারনেট ইউজ করে আমরা পুরো বিশ্বের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারি। কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তার যেমন শেষ নেই তেমনি এর দামের ভেরিয়েশনের শেষ নেই। যার ভালো কনফিগারেশনের জন্য মোটামুটি টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু আমরা একই দামে নতুনের চেয়ে ভালো কনফিগারেশনের পুরনো কম্পিউটার কিনতে পারবো। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা পুরাতন পিসি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন তা নিয়ে আলোচনা করবো। এতে আপনি সহজেই ভালো মানের পুরনো কম্পিউটার কিনতে পারবেন। কথা না বাড়িয়ে চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক।

পিসি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

পুরনো পিসি কেনার আগে আমাদের বেশকিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। কারন স্পেয়ার পার্ট কিনে কিনে সহজেই অল্প খরচে অনেক ভালো পিসি কনফিগার করা যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকতে হবে। আপনি যদি এক্সপার্ট হন তাহলে আরও ভালো হয়। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারন আপনি সঠিক ভাবে কনফিগার করতে না পারলে পুরো টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাহোক চলুন পুরাতন পিসি কেনার আগে যে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক।

হার্ডওয়্যার কন্ডিশন

নতুন পিসি কেনার ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার নিয়ে তেমন ভাবতে হয়না। কারন নতুন জিনিস তো আর নষ্ট বা খারাপ হয়না। কিন্তু যখন পুরনো কোন ইলেকট্রিক পার্টস কিনতে হয় তখন অবশ্যই সেটার ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল বিষয় দেখে নিতে হয়। সাধারনত মানুষ পুরনো পিসি বিক্রি করে দুইটি কারনে। অর্থাৎ যদি পিসি তে সমস্যা থাকে তখন বিক্রি করে। অথবা নতুন পিসি কেনার জন্য পুরনো পিসি বিক্রি করে। এখন আপনি যখন পুরনো পিসি কিনতে যাবেন তখন হার্ডওয়্যার বর্তমানে কোন পরিস্থিতিতে আছে তা দেখে নিতে হবে।

কম্পিউটারের ২০ টি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার

বিশেষ করে মাদারবোর্ডের সবগুলো পার্টস ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে। অনেকসময় র‍্যামে সমস্যা থাকে বা অনেক পুরনো হয়ে থাকলে সেগুলো না নেওয়াই ভালো। হার্ডওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি ঠিকমত না থাকলে পিসির পারফরমেন্স নিয়ে ঝামেলায় থাকতে হয়। তবে কখনই মার্কেটে পাওয়া যায়না এমন কোন পার্টস কিনতে যাবেন না। কারন যদি কোন কারনে কোন পার্টস নষ্ট হয় তখন কিনতে গিয়ে ঝামেলায় পরবেন। তারথেকে আউটডেটেড কোন হার্ডওয়্যার না কেনা উত্তম সিদ্ধান্ত হবে।

এক্সটেরিয়র

নতুন কম্পিউটার কেনার সময় অনেক সুন্দর কেসিং পাওয়া যায়। কিন্তু পুরনো পিসি কেনার সময় ভালো এবং পরিস্কার এক্সটেরিয়র পাওয়া অনেক কষ্টকর। তারপরেও এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে স্ক্র্যাচ পরা কম্পিউটার ভালো করে দেখে শুনে কিনতে হয়। পুরনো পিসি কেনার আগে এর হার্ডওয়্যার এবং এক্সটেরিয়র পার্টস গুলো খুলে ভালো করে চেক করা জরুরী। কারন এতে ইন্টারনাল অনেক সমস্যা ধরা পরে। অনেক সময় পুরনো কম্পিউটারের অনেক পার্টস মিসিং থাকে। এই বিষয়ে ভালো করে খেয়াল রাখতে হয়।

পার্টস এর এক্সটেরিয়র দেখে এর বয়স আন্দাজ করা যায়। এর দ্বারা সহজেই উক্ত পার্টস এর লাইফস্পান হিসেব করে দাম নির্ধারণ করা যায়। যেহেতু পুরনো জিনিস কিনবেন সেহেতু ভালো করে দেখে এবং যাচাই করে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।

কনফিগারেশন

মানুষ সাধারনত পুরনো জিনিস কিনে কম দামে ভালো জিনিস পাওয়ার জন্য। উদাহরণস্বরূপ বর্তমান মার্কেটে একটি মাঝারি লেভেলের গেমিং পিসি কেনার জন্য আপনাকে ৬০ হাজার টাকার উপরে খরচ করতে হবে। কিন্তু আপনি সেই একই পিসি পুরনো হিসেব কিনতে গেলে ৫০ হাজারের মধ্যে পাবেন। তাহলে এখানে একই কনফিগারেশনের কম্পিউটার ১০ হাজার টাকা কমেই কিনতে পারলেন। তবে প্রতিটি কম্পিউটারের গুনাগুন নির্ভর করে তার কনফিগারেশনের উপরে। অর্থাৎ কম্পিউটারের কনফিগারেশন যেমন ভালো হবে ইউজার এক্সপেরিয়ান্স তত ভালো হবে।

বর্তমান সময়ে অনেক ভেরিয়েশনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পাওয়া যায়। এদের মধ্যে স্পিড এবং কম্প্যাটিবিলিটি পারফরমেন্স হিসেব করে আপনাকে পুরনো পিসি কিনতে হবে। সাধারনত আপনার ইউজ করার প্রয়োজনীয়তার উপর পিসি কনফিগারেশন নির্ভর করে। যেমন আপনি সাধারন ইউজার হলে বা সিম্পল ডাটা প্রসেসিং এর কাজ করলে অত হাই কনফিগারেশনের কম্পিউটার প্রয়োজন পরবে না। তবে গেমিং বা ভিডিও এডিটিং জাতিয় কম্পিউটারের জন্য আপনাকে অবশ্যই হাই কনফিগারেশনের পিসি নিতে হবে। অন্যদিকে ডেভেলপমেন্ট বা ইন্টারনেট রিলেটেড কাজ করার জন্য আপনার প্রয়োজন পরবে মাঝারি লেভেলের কনফিগারেশন। অতএব আপনাকে আপনার কাজের উপর নির্ভর করে পিসি কনফিগারেশন বাছাই করতে হবে।

পিসি পারফরমেন্স

শুধু নতুন আর বেশি দামি হার্ডওয়্যার হলেই যে কম্পিউটার খুব ফাস্ট হবে তেমন কোন কারন নেই। আমরা দোকান থেকে প্রি-কনফিগারড পিসি কিনলে সেখানে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি স্বাভাবিক পাই। কিন্তু যখন স্পেয়ার পার্টস কিনে নিজে পিসি সাজাই তখন কম্প্যাটিবিলিটি নিয়ে ঝামেলায় পরতে হয়। যেমন বর্তমানে সকল মাদারবোর্ড ডিডিআর ৩ র‍্যাম সাপোর্ট করে। সেখানে আপনি ডিডিআর ২ র‍্যাম ইউজ করতে পারবেন না। এখন স্পেয়ার পার্টস কেনার সময় যদি ডিডিআর ৩ মাদারবোর্ডের জন্য ডিডিআর ২ র‍্যাম কিনেন তাহলে কিন্তু কাজ হবে না। ঠিক তেমনি পিসি পারফরমেন্স ডিপেন্ড করে তার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটির উপর।

পুরনো পিসি কেনার সময় এই বিষয় অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। বিশেষ করে পুরনো পিসি কেনার আগে অবশ্যই তা চালিয়ে দেখবেন। এতে তার পারফরমেন্স সম্পর্কে ভালো এবং পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া নতুন কোন পার্টস যেমন র‍্যাম বা এসএসডি লাগিয়ে পারফরমেন্স বৃদ্ধি করা যাবে কি যাবেনা সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

সফটওয়্যার পারফরমেন্স

আমরা সাধারনত পুরনো পিসি কেনার সময় এসকল বিষয়ে গুরুত্ব কম দেই। ভাবি যে কম দামে যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে তাহলে এত চিন্তা করে আর কি হবে। অথবা হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন দেখেই পিসি কিনে ফেলি। কিন্তু ভালো হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন যে ভালো সফটওয়্যার পারফরমেন্স দেবে তার কোন গ্যারান্টি নেই।

সেরা ১০ টি অপারেটিং সিস্টেম

যেহেতু আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ফাস্ট এবং স্যাটিস্ফায়িং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স সেহেতু সফটওয়্যার পারফরমেন্স অবশ্যই দেখে নিতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে কাজের জন্য পিসি কিনতে চাচ্ছেন সে সফটওয়্যার গুলো ভালোভাবে ইউজ করা যাবে কি যাবেনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।

ওয়ারেন্টি ডকুমেন্ট

নতুন কোন কিছু কিনতে গেলে প্রতিটা পার্টসের সাথে ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। কিন্তু পুরনো জিনিসে ওয়ারেন্টি পাওয়ার সম্ভাবনা শূন। তবে তারপরেও অনেক পার্টসের ওয়ারেন্টি থাকা অবস্থায় তা বিক্রি করা হয়। এজন্য পুরনো পিসি নেওয়ার আগে বিক্রেতাকে ওয়ারেন্টি ডকুমেন্টস আছে নাকি তা জিজ্ঞাসা করে নেবেন। অথবা পিসি কেনার এক মাসের মধ্যে পিসি সমস্যা করলে রিটার্ন করা যাবে নাকি সে সম্পর্কে আলোচনা করে নেবেন। এতে কোন আনএক্সপেক্টেড ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে রিকভার করা সম্ভব।

ওয়ারেন্টি ডকুমেন্ট থাকলে কোন পার্টস সমস্যা করলে তা রিপ্লেস করে নেওয়া যায়। তবে যদি ওয়ারেন্টি ডকুমেন্ট থাকে তাহলে কিন্তু একটু এক্সট্রা পে করতে হতে পারে।নতুন পিসির মার্কেটের সাথে সাথে পুরনো পিসির মার্কেট বর্তমানে অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় জন্য অনেক মানুষ পুরনো কম্পিউটার কিনে থাকে। এক্ষেত্রে কম দামে ভালো কনফিগারেশনের পিসি পাওয়া যায়। আশাকরি আমাদের এই পোস্ট পড়ে পুরনো পিসি কেনার আগে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব সহকারে যাচাই বাছাই করতে হবে সে বিষয়ে আপনার ধারণা হয়েছে। পুরনো কম্পিউটার কেনার বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন ধন্যবাদ।

Leave a Reply