গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

যারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একটু-আধটু অনলাইনে ঘাটাঘাটি করেন তারা নিশ্চয়ই গ্রাফিক্স ডিজাইন নামটির সাথে কোন না কোনভাবে পরিচিত। কিন্তু আপনি যদি একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে এর সম্বন্ধে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জেনে নেয়া খুব জরুরী। আর তাই, গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স ডিজাইন কি সফটওয়্যার দিয়ে করে? এরকম হাজারো প্রশ্ন যদি আপনার মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আসুন তাহলে আর দেরি না করে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া যাক।

এই যে আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল প্লাটফর্ম এবং টেলিভিশন, ওয়েবসাইট রাস্তাঘাটে যে বড় বড় ব্যানার, পোস্টার দেখি এগুলো আসলে কি আপনি জানেন কি? এই সবগুলোই কিন্তুু গ্রাফিক্স ডিজাইন। বলতে গেলে আমাদের চোখের সামনে থাকা সিংহভাগ কনটেন্টই হল গ্রাফিক ডিজাইন। এটি এমন একটি সেক্টর যার সাহায্য অনান্য প্রতিটি সেক্টরকেই নিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি যে সেক্টরেই কাজ করেন না কেন কোন না কোনভাবে আপনি গ্রাফিক্স এর সাথে জড়িত থাকবেনই। আপনি মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডেভলোপমেন্ট যা নিয়েই কাজ করুন না কেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে গ্রাফিক ডিজাইনে সাহায্য নিতে হবেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি সেক্টর যা ছাড়া বিশ্ব অচল।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?

গ্রাফিক ডিজাইন বলতে মূলত “ডিজিটাল প্লাটফর্মের উপর গড়ে ওঠা আর্ট শিল্প”- কে বোঝায়। এটি মূলত এক ধরনের ডিজিটাল চিত্র শিল্প। সাধারণ নিয়মে চিত্রশিল্পীরা নিজের মনের মধ্যে থাকার কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন বিভিন্ন ধরনের চিত্র বা অংকন ও সৃজনশীল কাজ সম্পন্ন করেন গ্রাফিক্স ডিজাইনাররাও ঠিক একই কাজটি করেন। পার্থক্যটা শুধু ডিজিটাল প্লাটফর্মের। চিত্রশিল্পীদের ক্ষেত্রে তুলি, কালি ও রং কাজের প্রধান হাতিয়ার হলেও গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা এ কাজে ডিজিটাল ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন।

গ্রাফিক ডিজাইন এর মাধ্যমে এর ডিজাইনাররা তাদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন, অ্যানিমেশন, ক্যারেক্টর তৈরীর মতো আরও অনেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি বৃহৎ সেক্টর। সময়ের পরিক্রমায় গ্রাফিক ডিজাইন এমন একটি সেক্টরে পরিণত হয়েছে যে আমাদের চারপাশে থাকা জিনিসগুলোর বিশাল একটি অংশই মূলত গ্রাফিক ডিজাইনেরই কারুকার্য। যেমন- লোগো ডিজাইন, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, ফ্লেয়ার ইত্যাদি সবকিছুই কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইনের অংশ। আর তাই একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা সবসময়ই থাকে। ভবিষ্যতেও এ চাহিদা আরও বাড়তে পারে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমান তরুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর হতে পারে।

অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার উপায়

ইন্টারনেটে কারণে পুরো পৃথিবী এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। আর তাই অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাফিক্স ডিজাইন সেখানেও খুব একটা কঠিন কাজ নয়। অনেক বড় বড় সফল গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের মধ্যে অনেকেই শুধুমাত্র অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিখে আজকে এ পর্যন্ত এসেছেন। প্রয়োজন শুধু সৎ ইচ্ছা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের।

আপনি সাধারণত দুই ভাবে অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারেন। একটি পেইড মাধ্যমে এবং অন্যটি ফ্রী মাধ্যমে।  পেইড মাধ্যমে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট বা এজেন্সির অনলাইন কোর্সে ফি দিয়ে যুক্ত হতে হয়। এ মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সাপোর্ট থাকে যা আপনাকে একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে আপনি সাজানো-গোছানো অনলাইন টিউটরিয়াল, কোর্স ম্যাটেরিয়াল, সলভ ক্লাস, লাইভ সাপোর্ট ইত্যাদির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারেন। তবে অবশ্যই ভালো সুনাম আছে এমন মানসম্মত প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হবেন। এক্ষেত্রে আপনি বিশ্বমানের অনলাইন কোর্সগুলোতে কিংবা অনেক দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইন টিউটরদের প্রাইভেট কোর্সেও যুক্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে ফ্রি মাধ্যমে মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা ফ্রি কিছু কোর্সকে কাজে লাগাতে পারেন। তবে ফ্রিতে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ইউটিউব এবং গুগলের মাধ্যমে শেখা। ইউটিউবে অনেক দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারের অসংখ্য কোর্স, ভিডিও, ম্যাটেরিয়াল ইত্যাদি পাবেন, যেমন- Gfx mentor, যেগুলোকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনি খুব সহজে একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অনেক কিছু আপনাকে নিজেকেই করতে হবে। যা অনেকের কাছেই ঝামেলার মনে হতে পারে। সে হিসেবে পেইড কোর্সগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সরাসরি সাপোর্ট পাওয়া যায় বলে অনেক সুবিধা হয়।

তবে আপনি যে পদ্ধতিতেই শিখুন না কেন আপনাকে প্রতিনিয়ত প্রাক্টিস করে যেতে হবে। কারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পূর্ণ সেক্টরটি কিন্ত সৃজনশীলতা নির্ভর। তাই আপনার সৃজনশীলতা গুলোকে কাজে লাগান। সফলতার পথে কোনোটিই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

গ্রাফিক্স ডিজাইন মূলত সফটওয়্যার নির্ভর একটি সেক্টর। এখানে আপনি যাই করতে যান না কেন সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবেই। তাই সফটওয়্যারকে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রাণ বলা যেতে পারে। তবে সব সফটওয়্যার দিয়েই আবার গ্রাফিক্স ডিজাইন করা সম্ভব নয়। গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য আলাদা স্পেশাল কিছু সফটওয়্যার রয়েছে। যেগুলো শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইন এ ব্যবহৃত হয়।

আবার গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোকে বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। এক্ষেত্রে একেক ধরনের সফটওয়্যার গ্রাফিক্স ডিজাইনের একেকটি কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কতগুলো সফটওয়্যার দিয়ে শুধু ফটো এডিটিং করা যায়। আবার লোগো, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি ডিজাইনের জন্য আরেক ধরনের সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। এরপর এনিমেশন ও থ্রিডি মডেলিং এর কাজের জন্য প্রয়োজন হয় অন্য আরেক ধরনের সফটওয়্যার। আসুন এসব কাজে ব্যবহৃত হয় এমন বেসিক কয়েকটি সফটওয়্যার সম্পর্কে জেনে নেই-

এডোবি ফটোশপ

 আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার হলো এডোবি ফটোশপ। এ সফটওয়্যারটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি এডিটিং, ফিল্টার, ইফেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন সহ ফটো সম্পর্কিত অনেক অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ করা যায়। বাজারে থাকা বিভিন্ন ফটো স্টুডিও গুলোতে মূলত এই সফটওয়্যারটি দিয়েই আমাদের তোলা ছবিগুলো এডিটিং করা হয়।

এডোবি ইলাস্ট্রেটর

এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে লোগো, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি খুব সহজে ডিজাইন করা যায়। বিখ্যাত সব কোম্পানির লোগোগুলো মূলত এই সফটওয়্যার এর মাধ্যমেই তৈরি করা হয়েছে। তবে এই সফটওয়ারটিতে বিভিন্ন কাজ করার জন্য সৃজনশীল হওয়া জরুরী। সৃজনশীলতা থাকলে এ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। শুধুমাত্র এডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার টি তে দক্ষতা অর্জন করে অনেকেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন।

অটোকাড

আপনি যদি থ্রিডি মডেলিং নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে অটোক্যাড হতে পারে আপনার সঙ্গী। অটোক্যাড সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে মূলত থ্রিডি ডিজাইনিং এর বিভিন্ন কাজ করা হয়। বিশেষকরে প্রফেশনাল থ্রিডি ডিজাইনারদের পছন্দের একটি সফটওয়্যার হলো অটোক্যাড। 

ব্লেন্ডার

থ্রিডি গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করা আরো একটি মারাত্মক সফটওয়্যার হল ব্লেন্ডার। মূলত থ্রিডি এনিমেশন এর কাজে এই সফটওয়্যারটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। হলিউডের অনেক নামিদামি অ্যানিমেশন সিনেমার অনেক অংশই ব্লেন্ডারের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিনামূল্যের সফটওয়্যার হিসেবে থ্রিডি গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে ব্লেন্ডার সফটওয়্যারটি অনেক কাজের।

এগুলো ছাড়াও গ্রাফিক্স ডিজাইনের আরো অনেক সফটওয়্যার রয়েছে। যেগুলোর একেকটি একেক রকম কাজে ব্যবহার করা হয়। 

Leave a Reply