ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় , ভালো ল্যাপটপের দাম , কন দামে ভালো ল্যাপটপ , কোন কোম্পানির ল্যাপটপ সবচেয়ে ভালো এবং পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চান তবে আমি বলব নিঃসন্দেহে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। প্রিয় পাঠক! আজকের এই আর্টিকেলটিতে আপনি এই সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে চলেছেন। সুতরাং আর বিলম্ব না করে চলুন মূল কথায় যাওয়া যাক।

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়

বর্তমান যুগে ল্যাপটপ এখন আর কেবল কোনো বিলাসিতার বস্তু নয়। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ল্যাপটপ দৈনন্দিন কাজে অপরিহার্য একটি ডিজিটাল ডিভাইস।  ছাত্র-ছাত্রী কিংবা ব্যবসায়ী , অফিস হোক বা আদালত , হাসপাতাল অথবা পুলিশ স্টেশন সবখানেই ল্যাপটপ একটি অত্যাধুনিক অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী। ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা , ডিজিটাল প্রযুক্তি , বহনযোগ্য এবং সুলভ মূল্যের জন্য যে কোনো কম্পিউটার বা পিসির তুলনায় ল্যাপটপ এখন বেশ জনপ্রিয়।

যার কারণে আপনারও প্রয়োজন হতে পারে একটি ভালো ল্যাপটপের। কিন্তু বাজারের এত এত ল্যাপটপের ভীরে একটি ভালো ল্যাপটপ খুঁজে বের করা মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়। তাই এই পর্যায়ে আমি লিখতে চলেছি একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় সম্পর্কে। যেগুলো আপনাকে একটি ল্যাপটপ কিনার পূর্বে খুব ভালোভাবে সাহায্য করবে ইনশাল্লাহ্।

একটি ভালো মানের ল্যাপটপের নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা আবশ্যক:

ল্যাপটপের RAM: রেম একটি ল্যাপটপের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো মানের ল্যাপটপের কম করে হলেও ৮ জিবি RAM থাকা জরুরি। তবে একটি ল্যাপটপের আদর্শ র্যাম ৪ জিবি ধরা হয়। নতুবা ল্যাপটপ স্লো কাজ করবে।

প্রসেসর: প্রসেসর ল্যাপটপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার। মূলত ল্যাপটপের প্রায় সকল কিছুই মনিটরিং করে এই processor. একটি ভালো মানের ল্যাপটপের একটি অন্যতম প্রধান বিশিষ্ট্য হলো dual core processor এবং 2.5 GHz এর অধিক processor frequency. তবে আপনি যদি সর্বোচ্চ স্পিড পেতে চান তবে quad core processor সবচেয়ে ভালো চয়েস। তবে এর জন্য বাজেটও সেরকম ভালো থাকতে হবে।

জেনারেশন: একটি ভালো মানের ল্যাপটপের জেনারেশন অবশ্যই latest হতে হবে। সর্বাধুনিক এবং সর্বশেষ জেনারেশন এর প্রসেসরগুলোর কার্যক্ষমতা সবথেকে ভালো এবং দ্রুত।

ডিসপ্লে সাইজ: একটি ভালো মানের ল্যাপটপের ডিসপ্লে সাইজ কম পক্ষে 14 inches হয়ে থাকে এবং ডিসপ্লে অবশ্যই HD হতে হবে।

অপারেটিং সিস্টেম: ল্যাপটপ ক্রয়ের পূর্বে এর অপারেটিং সিস্টেম চেক করা জরুরি। ভালো মানের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে অবশ্যই Windows 10 OS operating system install করা থাকবে। 

ব্রান্ড: ল্যাপটপের মান মূলত নির্ভর করে এর features এবং configurations এর উপর। সুতরাং যেসব ব্রান্ড এসব বিষয়ে সবথেকে বেশি এগিয়ে সেখান থেকেই ল্যাপটপ চয়েস করা উচিত। তাছাড়া কোম্পানির warranty এবং service center এর দিকেও নজর রাখা উচিত।

গ্রাফিক্স কার্ড: ভালো মানের একটি ল্যাপটপে অবশ্যই গ্রাফিক কার্ড দেয়া থাকবে। বিশেষ করে গেমিং ল্যাপটপগুলোতে।

স্টোরেজ: ডিভাইস স্টোরেজ অনেক জরুরি একটি বিষয়। একটি ভালো মানের ল্যাপটপে কমপক্ষে ১২০ জিবি SSD থাকবে। কেননা হার্ড ড্রাইভের (HDD) তুলনায় SSD অনেক ভালো এবং দ্রুত কাজ করে।

ভালো ল্যাপটপ এর দাম

ল্যাপটপ ক্রয় করার পূর্বে যে বিষয়টি নিয়ে সবথেকে বেশি ভাবতে হয় সেটি হলো বাজেট। তবে প্রত্যেকে একরকম বাজেট নিয়ে মার্কেটে যান না। যে কারণে বর্তমানে মার্কেটে কম-বেশি বিভিন্ন দামের ও মানের ল্যাপটপ পাওয়া যায়। কিন্তু যদি মানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয় তবে ভালো মানের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এর দাম অবশ্যই একটু বেশিই হবে। অর্থাৎ ল্যাপটপের ফিচার, কনফিগারেশন, ফ্রিকোয়েন্সি এবং ওয়ারেন্টি ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে এর দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যে কারণে আপনি মার্কেটে যেমন ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে ল্যাপটপ পাবেন তেমনি লক্ষ টাকার উপরে মূল্যের ল্যাপটপও পাবেন। 

কোন কোম্পানির ল্যাপটপ সবচেয়ে ভালো?

ল্যাপটপের কোম্পানি বা ব্রান্ড নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোনো শেষ নেই। ল্যাপটপ কিনতে যাওয়ার পূর্বে কোম্পানি নিয়ে নানান প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা বর্তমান প্রযুক্তির রমরমা বাজারে বিভিন্ন অত্যাধুনিক ও সম্ভাবনাময় ব্রান্ড তাদের ল্যাপটপ নিয়ে হাজির হচ্ছে এবং এই প্রতিযোগিতার বাজারে একজন আরেকজনকে ছাপিয়ে এগিয়ে চলছ হর্ষগতিতে।

তবে মনে রাখবেন ল্যাপটপের ব্রান্ড বা কোম্পানির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর কনফিগারেশন, ফিচার এবং ফ্রিকোয়েন্সি। মূলত এগুলোই ল্যাপটপের মান নির্ধারণ করে থাকে। তবে জনপ্রিয় ব্রান্ডগুলোর থেকে ল্যাপটপ কেনার মূল সম্ভাবনা হলো ভালো warranty এবং সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা।

সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ল্যাপটপের ব্রান্ডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :

  • Asus
  • MSI
  • Dell
  • Apple 
  • Acer 
  • HP
  • Lenovo 

এখানে প্রত্যেকটি ব্রান্ড খুবই আকর্ষণীয় মানের ফিচার সমৃদ্ধ ল্যাপটপ বাজারে সরবরাহ করে আসছে এবং গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রতিনিয়ত প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের suggest করব Dell অথবা Asus, HP এর ল্যাপটপগুলো থেকে আপনার expectation এর সাথে যায় এরকম ল্যাপটপ কিনতে। কারণ এই কোম্পানিগুলো সত্যিই খুবই অসাধারণ। নিত্যনতুন আধুনিক ফিচার সমৃদ্ধ ল্যাপটপগুলো আপনার যেকোনো প্রয়োজনে কাজে আসবে। তাছাড়া বাজেট ফ্রেন্ডলি ভালো মানের ল্যাপটপ এই কোম্পানি ৩ টি থেকে আপনি সহজেই পেতে পারবেন।

তবে অন্যান্য কোম্পানিগুলোও তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে অত্যন্ত ভালো এবং অসাধারণ। HP এবং Lenovo কোম্পানিগুলো কম দামে ভালো মানের ল্যাপটপ সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বদা সচেষ্ট এবং অন্যান্যদের তুলনায় এগিয়ে। অপরদিকে সাম্প্রতিককালে Apple কোম্পানির ল্যাপটপগুলোর জনপ্রিয়তা অনেক দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান জেনারেশন এর কাছে Apple যেন আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু মনে রাখবেন যে ব্রান্ড থেকেই আপনি পণ্য ক্রয় করুন না কেন সেটি অবশ্যই আসল হতে হবে। পণ্য আসল হলে আপনি দীর্ঘসময় এবং ভালো মানের সার্ভিস পেতে পারবেন। আসল পণ্য ক্রয় করতে হলে অবশ্যই নিকটস্থ শো রুম থেকে পণ্য কেনার চেষ্টা করুন। কেননা অন্যান্য জায়গা থেকে বিভিন্ন অফার ও কম দামে ল্যাপটপ কিনলেও তা আসল নাও হতে পারে। 

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয়

অনেক সময় অনেকের নিকট একটি ল্যাপটপ কেনা খুব জরুরি একটি বিষয় হলেও স্বল্প বাজেটের কারণে তা কেনা হয়ে ওঠেনা বা অনেক জটিলতায় পরতে হয়। যে কারণে পুরাতন বা সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ তাদের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট।

কিন্তু বেশিরভাগ সময় পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে যেয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। দাম দিয়ে কেনা হয় ঠিকই কিন্তু পণ্য ভালো হয় না। যেগুলো দেখা যায় খুব বেশিদিন সার্ভিস দিতে পারেনা এবং মেরামত করতে করতে কেনা দামের চাইতেও বেশি খরচ পরে যায়। 

তাই এসব বিষয়গুলো এড়াতে এবং ভালো মানের পুরাতন ল্যাপটপ কেনার জন্য পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় সমূহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা দরকার। সো আর্টিকেলের এ পর্যায়ে আমি পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করব।

ডিসপ্লে চেক করা: পুরাতন ল্যাপটপ কেনার পূর্বে ডিসপ্লে চেক করা খুবই জরুরি। কেননা অনেক সময় সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপগুলোর ডিসপ্লে খুব বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যেগুলোতে মেরামত করতে প্রচুর সময় , শ্রম ও টাকার প্রয়োজন হয়। তাই দেখতে হবে ডিসপ্লে যেন ব্যবহার উপযোগী হয়।

বডি চেক করা: পুরাতন ল্যাপটপ বলে বডি যেন এতটাও খারাপ না হয় যে দেখতে একদমই বাজে দেখা যায়। বডিতে কোনো গভীর স্ক্র্যাচ বা ক্ষত থাকলে সেই ল্যাপটপ না কেনাই ভালো।

কি-বোর্ড:  যদিও একটি কি-বোর্ড পরিবর্তন করা খুব কঠিন কিছু নয় তবুও মেরামত করা একটি ঝামেলার কাজ তো বটেই। তাই পুরাতন ল্যাপটপ কেনার পূর্বে অবশ্যই কি-বোর্ড চেক করে নেয়া উচিত যে সবগুলো কি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। 

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যে ১০ টি বিষয় খেয়াল রাখবেন

ব্যাটারি: ল্যাপটপের ব্যাটারি চেক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্যাটারি চার্জ হতে কত টাইম নেয় বা এটি ঠিক কতক্ষণ সার্ভিস দিচ্ছে তাই অবশ্যই চেক করে নেয়া উচিত। কেননা অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটারি অনেক দীর্ঘ সময় নিচ্ছে চার্জ নিতে বা চার্জ অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ব্যাটারি নষ্টও থাকতে পারে। 

অপারেটিং সিস্টেম: ল্যাপটপে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। থাকলেও তা কি প্রো না কি ফ্রি ক্রাক সেটাও জেনে নেয়া উচিত। কেননা একটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর দাম হয় 10k-12k টাকা। যেখানে ফ্রি ক্রাকে খরচ পরবে মাত্র 40 টাকা। আর যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা থাকে তবে অবশ্যই এর লাইসেন্স বুঝে নিতে হবে।

প্রসেসর চেক করা: প্রসেসর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি হার্ডওয়্যার। তাই প্রয়োজনে সার্ভিসিং সেন্টারে যেয়ে প্রসেসর ও এর জেনারেশন চেক করে নেয়া উচিত।

নেটওয়ার্ক চেক করা: ল্যাপটপে যদি নেটওয়ার্কই না থাকে তবে সেই ল্যাপটপের আর কি কাজ বলেন তো। কিন্তু পুরাতন ল্যাপটপের এটি একটি কমন সমস্যা। ডেটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, হটস্পট ইত্যাদি সিস্টেমগুলো অনেক ক্ষেত্রে ডিজেবলড থাকতে পারে। তাই কেনার পূর্বেই এগুলো চেক করে নেয়া উচিত যে এগুলো ঠিকমত কাজ করছে কি না।

আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে এবং কিছুটা হলেও কাজে আসবে। এতক্ষণ ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply