পুরাতন ল্যাপটপ

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যে ১০ টি বিষয় খেয়াল রাখবেন

ল্যাপটপ সহজেই বহনযোগ্য একটি কম্পিউটার। এর আকার আকৃতি ছোট হওয়ার কারনে দিন দিন ল্যাপটপের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প দামের মধ্যে মোটামুটি লেভেলের কনফিগারেশন পাওয়া যায় জন্য মানুষ ডেক্সটপের পাশাপাশি ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকছে। ২০১৯ সালের তথ্যমতে মোট পার্সোনাল কম্পিউটারের মধ্যে ল্যাপটপের মার্কেট শেয়ার ৪২% যা ২০২৩ সাল নাগাদ ৪৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। যাহোক ল্যাপটপ কেনার আগে আমাদের কিছু বিষয়ে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে। কারন মার্কেটে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য পারফেক্ট এবং বাজেটের মধ্যে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যে ১০ টি বিষয় খেয়াল রাখবেন তা নিয়ে আলোচনা করবো।

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যে ১০ টি বিষয়

আমরা যে দরকারে পুরনো জিনিস কিনি না কেন তা যেন ভালো হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে অনেকেই নতুন ল্যাপটপ কেনার পাশাপাশি অল্প দামে ভালো জিনিস নেওয়ার জন্য পুরাতন ল্যাপটপ কিনছে। তবে পুরাতন ল্যাপটপ নেওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই নিচে দেওয়া বিষয়গুলো ভালোভাবে শিওর হয়ে নিতে হবে।

ব্যাটারি লাইফ: একটি ল্যাপটপের জন্য এর ব্যাটারি লাইফ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারনত নতুন ডিভাইস কিনতে গেলে ব্যাটারি নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয়না। কিন্তু যখন পুরাতন ডিভাইস কিনতে যাবেন তখন অবশ্যই ব্যাটারি কন্ডিশন ভালো করে চেক করে দেখতে হবে। কমপক্ষে ২ ঘন্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয় এমন ডিভাইস কেনা ভালো। যদিও পুরাতন ল্যাপটপে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ব্যাকআপ পাওয়া অনেক কষ্টকর তবে এই বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে নিতে হবে।

পোর্টস: ল্যাপটপে অনেকগুলো পোর্ট থাকে। যেমন চার্জার পোর্ট, ইউএসবি পোর্ট, হেডফোন পোর্ট, ভিজিএ এবং এইচডিএমআই পোর্ট সহ আরও কিছু অ্যাডিশনাল পোর্ট থাকে। নতুন ল্যাপটপে এগুলো সবগুলোই ঠিক ঠাক কাজ করে। তবে ডিভাইস যখন পুরনো হয় তখন পোর্ট গুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পোর্ট নিয়ে ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়ানোর জন্য ভালো করে দেখে নিতে হবে। ডিভাইসের প্রতিটি পোর্ট ভালো ভাবে কাজ করছে কিনা তা ভালো করে টেস্ট করে দেখবেন।

কীবোর্ড + টাচ প্যাড: এই দুইটি পার্টস ল্যাপটপের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও প্রায় ইউজার সেকেন্ডারী কীবোর্ড এবং মাউস ইউজ করে তারপরেও রিস্ক  নেওয়া উচিত হবে না। কীবোর্ড এবং টাচ প্যাড ঠিকমত কাজ করে কি করে না তা টেস্ট করে দেখতে হবে। অনেকসময় কীবোর্ডের কী (Key) গুলোয় ঝামেলা থাকে। তাই প্রতিটি কী চেক করে দেখবেন যাতে কোন সমস্যা থাকলে বোঝা যায়।

পুরাতন পিসি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

ডিসপ্লে: ডিসপ্লে আকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর কন্ডিশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো ল্যাপটপে অনেক সময় ডিসপ্লে সমস্যা থাকে। কোন স্পট বা স্ক্র্যাচ অথবা ঘোলা দেখা গেলে সেই ল্যাপটপ না কেনাই ভালো। যে কোন সময় এমন ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পর্দায় থাকা স্পট সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে যা একসময় পুরো ডিসপ্লে নষ্ট করে দেবে। এই বিষয় গুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন: বিশেষত এই টার্ম নতুন ল্যাপটপের ক্ষেত্রে বেশি ইউজ করা হয়। কারন ল্যাপটপ যেহেতু যেখানে সেখানে ইউজ করা যায় সেহেতু এর ওজন বেশি হলে তা ঝামেলার সৃষ্টি করবে। ল্যাপটপ শুয়ে বসে এবং দাঁড়িয়ে ইউজ করা যায়। এখন এই অবস্থায় ১০ কেজি ওজনের কোন কিছু কোলে নিয়ে বসে কাজ করে সাচ্ছন্দ বোধ করা সম্ভব না। তাই অপেক্ষাকৃত কম ওজনের লাইটওয়েট ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করতে হবে। হোক সেটা নতুন কিংবা পুরাতন।

কনফিগারেশন: একটি ডেক্সটপ পিসি যে কনফিগারেশনে ভালো পারফরমেন্স দিবে সেই একই কনফিগারেশনে ল্যাপটপ অপেক্ষাকৃত কম পারফরমেন্স দিবে। কারন ল্যাপটপ এবং ডেক্সটপের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য আছে। পুরাতন ল্যাপটপ নেওয়ার আগে এর কনফিগারেশন চেক করে নিতে হবে। কোন কনফিগারেশনের ল্যাপটপ আপনার জন্য ভালো হবে তা নির্ভর করে আপনার কাজের চাহিদার উপর। আপনি নিজে যদি তেমন এক্সপার্ট না হন তবে অবশ্যই কোন এক্সপার্টকে কনফিগারেশন দেখাবেন। অথবা কেনার সময় অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে রাখবেন। এতে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন কমবে তেমনি ভালো মানের ল্যাপটপ কিনতে পারবেন।

পারফরমেন্স: ল্যাপটপের পারফরমেন্স অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে তা অবশ্যই চালিয়ে দেখবেন। এতে ভিডিও বা গেম (যদি থাকে) চালু করে গ্রাফিক্স এবং ভিডিও আউটপুট কুয়ালিটি চেক করে দেখতে হবে। যখন হাই গ্রাফিক্সের কোন কিছু ল্যাপটপে চালু করা হবে তখন এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সহ ওভারঅল পারফরমেন্স বোঝা যায়। পারফরমেন্সের উপর ল্যাপটপের দাম কত হবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে। অর্থাৎ কোন ভাবেই এই অংশ স্কিপ করা যাবে না।

সার্ভিসিং হিস্টোরি: একটি স্মার্টফোন কেনার আগে আমরা ফোনটি সার্ভিসিং করা হয়েছে নাকি তা চেক করি। এতে ধারণা করা যায় ফোনের মধ্যে কোন ধরনের সমস্যা থাকতে পারে বা কোন পার্টস কম বা পরিবর্তিত থাকতে পারে। অনেক সময় ওরিজিনাল পার্টস সরিয়ে ডুপ্লিকেট পার্টস অ্যাড করা থাকে। ল্যাপটপের ব্যাপারেও এই কন্ডিশন একইভাবে অ্যাপ্লাই করা হয়। তাই যখন পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে যাবেন তখন দেখে নিবেন তা সার্ভিসিং সেন্টারে গিয়েছে নাকি। যদি গিয়ে থাকে তাহলে কতবার সার্ভিসিং হয়েছে। এতে ল্যাপটপের ওভারঅল কন্ডিশন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।

হার্ডওয়্যার আপগ্রেড সুবিধা: পুরনো ল্যাপটপ কেনার আগে এর হার্ডওয়্যার আপগ্রেড সুবিধা আছে নাকি তা চেক করে নেবেন। বিশেষ করে র‍্যাম এবং স্টোরেজ পার্টস আপগ্রেড করার সুবিধাযুক্ত ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করবেন। এতে ল্যাপটপ কেনার পর আপনি আপনার চাহিদামত হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করে নিতে পারবেন। যত লেটেস্ট হার্ডওয়্যার ইউজ করবেন আপনার ডিভাইস তত ফাস্ট এবং স্মুথ কাজ করবে। বিশেষ করে এসএসডি ডিভাইস আপনার ল্যাপটপের পারফরমেন্স দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবে।

জনপ্রিয় ৫ টি এন্ড্রয়েড গেমস

বডি কন্ডিশন: সুন্দর জিনিস সবাই পছন্দ করে। সুন্দর এবং পরিপাটি দেখে ল্যাপটপ বডি নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দুর্বল এবং নড়বড়ে ল্যাপটপ বডি যেমন দেখতে অসুন্দর তেমনি অকাজের। বডি দুর্বলতার কারনে এর ভেতরের পার্টস ভেঙ্গে যাওয়ার বা বাইরে থেকে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও পুরনো ল্যাপটপে চকচকে এবং পরিস্কার বডি পাবেন না তবে চেষ্টা করবেন ন্যূনতম যাতে সুন্দর এবং পরিস্কার হয়।

বোনাস টিপসঃ

ব্র্যান্ড: সাধারনত মার্কেটে অনেক কয়েকটি ল্যাপটপ ব্র্যান্ড আছে। তবে এদের মধ্যকার সবগুলোই যে সেরা তেমন নয়। নতুন বা পুরাতন যেমনই হোকনা কেন ল্যাপটপ কেনার সময় এর ব্র্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটে অনেক পপুলার ল্যাপটপ ব্র্যান্ড আছে যাদের মধ্যে অ্যাপল, এইচপি, ডেল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, লেনেভো, এসার ইত্যাদি ব্র্যান্ড অন্যতম। এই ব্র্যান্ড গুলোর ল্যাপটপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন কারন তা অনেকদিন ধরে মার্কেটে আছে এবং অনেক ভালো ভালো প্রোডাক্ট তৈরি করছে। পুরনো ল্যাপটপ নেওয়ার সময় ব্র্যান্ড নেম যাচাই করে নিতে হবে। এতে প্রোডাক্ট সম্পর্কে যেমন পুরোপুরি ধারণা পাওয়া যায় তেমনি তা নিয়ে কোন দ্বিধাদন্দে ভুগতে হয়না।

যে কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই উপরে বর্ণনা করা এই ১০ টি বিষয় যাচাই করে নিবেন। এতে পুরনো ল্যাপটপ কেনার পর আর ঠকবেন না। এই সাবধানতা যেমন আপনার টাকা সেফ করবে তেমনি ভালো ল্যাপটপ কেনায় সহায়তা করবে। আশাকরি লেখাটি পড়ে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে তা আপনার কাছে পরিস্কার হয়েছে। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন ধন্যবাদ। 

Leave a Reply