
ইমেইল এর পূর্ণরূপ হলে ইলেকট্রনিক মেইল। বর্তমান এই ডিজিটাল সময়ে চিঠি আদান-প্রদানের বিষয়টিও হয়েছে ডিজিটাল। ডিজিটাল উপায়ে চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমটাই হলো ইমেইল। ইমেইলের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন: মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে বার্তা আদান-প্রদান করা যায়। ইমেইল মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অনেক অ্যাডভান্স। এখানে টেক্সট এর সাথে ছবি, ভিডিও সহ টেক্সট এর বিভিন্ন ডিজাইন করা যায়। সরাসরি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সহ PDF ফাইলও আদান-প্রদান করা যায়। কেবল মেইল আদান-প্রদান করাই নয় বরং আরো অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই একটি ইমেইল একাউন্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন- স্মার্টফোন ইউজ করার ক্ষেত্রে। নিজের ফোনে একটি ভেরিফায়েড ইমেইল একাউন্ট না থাকলে সেই ফোনে আপনি কখনই কোন অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার চালাতে পারবেন না।
একজন মানুষের একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর যেমন জরুরি তেমনি একটি পার্সোনাল ইমেইল একাউন্ট থাকাটাও আবশ্যক। যে কোন অফিসিয়াল, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমাদের প্রতিনিয়ত ইমেইল আদান-প্রদান করার দরকার পরে। আর এক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপক উভয়েরই প্রয়োজন হবে একটি ভেরিফায়েড ইমেইল একাউন্ট।
কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই এখনো ইমেইল সার্ভিসের সাথে পরিচিত নয় অথবা ইন্টারনেট দুনিয়ায় অনভিজ্ঞ, অনেকেই জানে না কিভাবে একটি ইমেইল একাউন্ট তৈরি করতে হয়। এছাড়াও জিমেইল একাউন্ট এর সুবিধা সম্পর্কেও আমরা অনেকেই এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে জানেনা। তাই ইমেইলের বিস্তারিত সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব।
জিমেইল কি?
বর্তমানে অনেক প্রোভাইডারে খুব সহজেই ফ্রিতে ইমেইল অ্যাকাউন্ট ওপেন করা যায়। এর মধ্যে বহুল জনপ্রিয় একটি প্রতিষ্ঠান হলো গুগল। জিমেইল (Gmail) হলো গুগল (Google) এর একটি ফ্রি ইলেক্ট্রনিক মেইলিং সার্ভিস বা প্রোডাক্ট। গুগল তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে ২০০৭ সালে জিমেইল নামে এই ফ্রি ইমেইল সার্ভিসটি শুরু করে।
গুগল ছাড়াও ইয়াহু (Yahoo), মাইক্রোসফট (Outlook) ইত্যাদির মাধ্যমেও ফ্রিতে ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। আপনি যদি গুগলের সার্ভিস গ্রহণ করতে চান তাহলে আপনার ইমেইল একাউন্টটি হবে একটি জিমেইল একাউন্ট (@gmail.com), আর ইয়াহু সিলেক্ট করলে আপনার একাউন্ট হবে একটি ইয়াহু মেইল একাউন্ট (@yahoo.com), এবং মাইক্রোসফটের মাধ্যমে ইমেইল একাউন্ট খুললে সেই একাউন্টটি হবে একটি আউটলুক মেইল একাউন্ট (@outlook.com).
মোবাইল দিয়ে কিভাবে জিমেইল একাউন্ট তৈরি করবেন?
জিমেইল একাউন্ট এর সুবিধা

বর্তমান সময়ে একটি ব্যক্তিগত ইমেইল একাউন্ট এর বিকল্প কিছু নেই। তবে ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডারের বিকল্প অনেক রয়েছে। হতে পারে সেটি গুগল, ইয়াহু কিংবা মাইক্রোসফট। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বর্তমানে সবার শীর্ষে রয়েছে গুগল বা জিমেইল একাউন্ট।
বর্তমানে জিমেইল এ অ্যাক্টিভ ইউজারের সংখ্যা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন। যেখানে ইয়াহু মেইলের ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ২২৫ মিলিয়ন এবং আউটলুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা তো আরও কম।
জিমেইলের এত অধিক সংখ্যক ব্যবহারকারী দেখে হয়তো আপনি অবাক হতে পারেন। কিন্তু এতে এত বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা গুগল তার ইমেইল সার্ভিসিং সেবা গ্রহণকারীদের যে বিপুল পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে সেগুলো আরও অধিক বিস্ময়কর। তাহলে চলুন এক নজরে দেখে নেই জিমেইল একাউন্ট এর সুবিধা সমূহ কি কি:
১. জিমেইল হলো গুগলের একটি ফ্রি প্রোডাক্ট। অর্থ্যাৎ এর মাধ্যমে আপনি যত ইমেইল আদান-প্রদান করেন না কেন এতে আপনাকে কোন সাবস্ক্রিপশন ফি বা টাকা প্রদান করতে হবে না।
২. একটি জিমেইল একাউন্ট থেকে মেইল পাঠাতে হলে প্রেরক এবং প্রাপক উভয়কে অনলাইনে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রাপক অনলাইনে না থাকলেও তার একাউন্টে মেইল সেন্ট হয়ে যাবে।
৩. যেকোন সময় পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে ফ্রিতে ইমেইল পাঠানো যায় ও যোগাযোগ করার যায়।
৪. একসঙ্গে একই সময়ে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা যায়।
৫. একটি জিমেইল একাউন্ট এর মাধ্যমে গুগলের অনেকগুলো প্রোডাক্ট যেমন- Android, YouTube, Google Drive, Google Docs, Google Sheets, Google Translator, Google Map ইত্যাদি ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়।
৬. এছাড়াও প্রথমবার একটি জিমেইল একাউন্ট ওপেন করলে গুগল ১৫ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ সুবিধা প্রদান করে। এই স্টোরেজ ইমেইল আদান প্রদান করা সহ যেকোন ছবি, অডিও, ভিডিও, ফাইল প্রভৃতির ব্যাক আপ হিসেবে ইউজ করতে পারবেন।
৭. মোবাইলে যেকোন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড এবং যেকোন একাউন্ট যেমন- Facebook, Instagram, Twitter ইত্যাদির একাউন্ট তৈরি করার জন্য জিমেইল একাউন্টের প্রয়োজন পরে।
নিউ জিমেইল একাউন্ট

প্রিয় পাঠক! আর্টিকেল এর এ পর্যায়ে আমি আলোচনা করব কিভাবে ব্রাউজারের মাধ্যমে সরাসরি জিমেইলের ওয়েবসাইট থেকে সম্পূর্ণ নিউ জিমেইল একাউন্ট ওপেন করবেন। সুতরাং একটি নতুন জিমেইল একাউন্ট তৈরি করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
ধাপ-১:
নিউ জিমেইল একাউন্ট তৈরির জন্য প্রথমে জিমেইলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.gmail.com এ ভিজিট করুন। এর জন্য আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোন একটি ব্রাউজার Google Chrome, Opera Mini, অথবা Firefox ব্যবহার করুন। এখানে আমি গুগল ক্রোম ইউজ করেছি।
ধাপ-২:
জিমেইল এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নিচের ছবির মতো একটি পেজ দেখতে পাবেন। এখান থেকে “Create an account” অপশনটি সিলেক্ট করুন।
ধাপ-৩:
এ পর্যায়ে স্ক্রিনে নতুন আরেকটি পেজ ওপেন হবে। এখানে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো অপশন আপনাকে দেয়া পূরণ করার জন্য। সঠিক তথ্য দিয়ে অপশনগুলো পূরণ করে ফেলুন।
- প্রথমে আপনার নাম (Name) এবং নামের সাথে একটি পদবি (Surname) যোগ করুন।
- এর পরের ধাপে একটি ইউজার নেম (Username) প্রদান করুন। মনে রাখবেন এই ইউজার নেমটি-ই হলো আপনার ভবিষ্যত জিমেইল অ্যাড্রেস।
- এরপরের ফাঁকা ঘরটিতে সর্বনিম্ন আট অক্ষরের একটি পাসওয়ার্ড প্রদান করুন। পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই সংখ্যা, প্রতীক ও অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত একটি strong পাসওয়ার্ড হতে হবে। এখানে একবার পাসওয়ার্ড প্রদানের পর দ্বিতীয়বার একই পাসওয়ার্ড রিপিটের মাধ্যমে confirm করে নিতে হবে।
এবার উপরোক্ত অপশনগুলো ফিল আপ করা হয়ে গেলে “Next” বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী পেজে প্রবেশ করুন।
ধাপ-৪:
পরবর্তী পেজে আপনার জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে খালি ঘরগুলো পূরণ করুন। এক্ষেত্রে আপনার পূর্বে যদি কোন ইমেইল একাউন্ট তৈরি করা থাকে তাহলে সেটিও যুক্ত করুন। আর না থাকলে skip করে পরবর্তী পেজে চলে যান।
ধাপ-৫:
এবার আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড SMS এর মাধ্যমে পাঠানো হবে। এরপর সেই কোডটি যথাস্থানে প্রদান করে মোবাইল নম্বরটি ভেরিফাই করে নিন। এরপর গুগল “privacy and terms” পেজটি ভালোভাবে রিভিউ করুন। এরপর “I agree” বাটনে ক্লিক করুন।
এ পর্যায়ে যেহেতু আপনি নতুন একটি একাউন্ট খুলেছেন তাই গুগল আপনাকে প্রথমে স্বাগত জানাবে।
ব্যাস, হয়ে গেল আপনার নিউ জিমেইল একাউন্ট তৈরি করা। এখন আপনি এই জিমেইল একাউন্ট এর সাহায্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।
ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম – ই পাসপোর্ট খরচ
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! কিভাবে একটি ইমেইল একাউন্ট তৈরি করতে হয় বা কিভাবে নতুন জিমেইল একাউন্ট ওপেন করতে হয় সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা যথাসম্ভব সহজ ও স্পষ্টভাবে আমাদের আজকের আর্টিকেলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আমাদের আর্টিক্যালটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং জিমেইল একাউন্ট তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
খুবই ভালো লাগলো। অতি সহজে বুঝতে পারলাম। এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ