ইউটিউব কপিরাইট নিয়ম

ইউটিউব কপিরাইট নিয়ম

ইউটিউবের কপিরাইট আইন প্রতিনিয়ত কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ক্রমবর্ধমান ভার্চুয়াল অপরাধই মূলত এর জন্য দায়ী। তাই আপনি যদি ইউটিউবে চ্যানেল ক্রিয়েটের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তবে ইউটিউবের আইন সম্পর্কে আপনার আগে থেকেই জেনে নেয়া উচিত। 

যখন কোনো ব্যাক্তি শুধুমাত্র নিজের প্রচেষ্টা এবং দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কোনো কিছু তৈরি বা সৃষ্টি করে সেটি ব্যবহার, প্রচার এবং প্রসারের অধিকার একমাত্র তারই। এই অধিকারকেই সাধারণত কপিরাইট বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ সেই ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিত তার সৃষ্টিকে ব্যবহার কিংবা সম্পাদনা করা যাবেনা। 

এবার আসা যাক ইউটিউব কপিরাইট আইনের ব্যাপারে। ইউটিউব কপিরাইট আইন মূলত ইউটিউবের চ্যানেল গুলোর ভিডিও, অডিও, কন্টেন্ট ইত্যাদি বিষয়গুলোর কপিরাইট সুরক্ষিত রাখার জন্য। অর্থাৎ কেউ কারো চ্যানেল থেকে কোনো অডিও, ভিডিও, ছবি বা অন্য কোনো কিছু নিয়ে তার চ্যানেলে ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে হ্যাঁ আপনি কোনো ভিডিও থেকে ধারণা ও তথ্য নিয়ে নিজে থেকে ভিডিও তৈরি করে সেটি আপলোড করতে পারবেন।

ইউটিউবের বর্তমান কপিরাইট আইনসমূহ

অন্য কারো গান বা অডিও আপলোড করা যাবে না।

আপনার চ্যানেলে কেবলমাত্র আপনার নিজের তৈরি গান বা অডিও আপলোড করতে পারবেন। অন্য কারো গান বা অডিও হুবহু কপি করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করতে পারবেন না। এমনকি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবেও না। তবে রয়্যাল ফ্রি অডিও বা গান ব্যবহার করা যাবে।

কোনো ছবি বা চিত্র কপি করা যাবেনা

ইউটিউব কপিরাইট আইন অনুযায়ী কপিরাইট যুক্ত কোনো ছবি বা চিত্র ইউটিউব ভিডিওর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে এক্ষেত্রেও কপিরাইট বা রয়্যাল ফ্রি ছবি ব্যবহার করা যাবে।

কোনো ভিডিও কপি করে আপলোড করা যাবে না।

অন্যের কপিরাইট আছে এরূপ কোনো ভিডিও কপি করে ব্যবহার করা যাবে না। তবে পূর্বে যেমনটি বলেছি, অন্যের ভিডিও থেকে তথ্য ও ধারণা সংগ্রহ করে নতুন একটি ভিডিও তৈরি করে সেটি আপলোড করা যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল ভ্যারিফাই করার নিয়ম

আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ইউটিউবার হতে চান তবে অবশ্যই ইউটিউবের এই কপিরাইট আইনগুলো আপনাকে মেনে চলতে হবে। কেননা আপনি যদি একবার আইন ভঙ্গ করেন তবে আপনার চ্যানেলে একটি স্ট্রাইক পরে যাবে। এভাবে পর পর ৩টি স্ট্রাইক পরে গেলে আপনার চ্যানেলটি ইউটিউব কর্তৃপক্ষ ব্যান করে দিবে।

ইউটিউব মনিটাইজেশন

আপনার লক্ষ্য যদি ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা ইনকাম করা হয়ে থাকে তবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাইজেশন পেতে হবে। মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য ইউটিউবের রয়েছে নিজস্ব কিছু নীতিমালা বা শর্ত। এই নীতিমালা পূরণ করে আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য মনিটাইজেশন পেতে পারেন এবং টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই ইউটিউবের সর্বশেষ মনিটাইজেশন নীতিমালা:

  • ইউটিউব মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমত আপনার চ্যানেলের ভিডিওর টোটাল Watch time হতে হবে ৪,০০০ ঘন্টা। যার মানে হলো আপনার চ্যানেলের ভিডিও যখন ইউটিউবের দর্শকরা মিনিমাম ৪,০০০ ঘন্টা দেখবে তখন আপনি ইউটিউব মনিটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।
  • বিগত এক বছরে আপনার চ্যানেলের Subscriber সংখ্যা কমপক্ষে ১,০০০ হতে হবে।
  • ইউটিউবের সকল Terms and Conditions সম্পূর্ণ হতে হবে।
  • চ্যানেলের ক্যাটাগরি বজায় রাখতে হবে। মানে Cooking চ্যানেলে যদি আপনি Gaming ভিডিও আপলোড করেন তবে আপনার চ্যানেলের Category বজায় থাকবে না এবং আপনার চ্যানেল মনিটাইজেশন এর জন্য অনুমোদন পাবে না।
  • ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন এবং কপিরাইট আইন মেনে চলতে হবে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ যদি আপনার চ্যানেলের কোথাও আইন ভঙ্গ হতে দেখে তবে আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য মনিটাইজেশন পেতে ব্যর্থ হবেন।

এতক্ষণ পুরো আর্টিকেল জুড়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম এবং অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরিশেষে আশা করব আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে কিছুটা হলেও আপনাদের উপকার করতে পেরেছি।

Leave a Reply