রাউটার কি? রাউটার কিভাবে কাজ করে?

একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের প্রিয় পৃথিবী এখন ইন্টারনেট এর উপর প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল বলা চলে। দাপ্তরিক, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ঘরোয়া এদের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ইন্টারনেট এর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ প্রয়োগ।

যারা ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে প্রতোক্ষভাবে জরিত এবং এ ব্যাপারে ভলো জ্ঞান রাখেন , তাঁরা হয়তো ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাঠামো ও এর যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ভালো ধারণা রেখে থাকবেন। 

যেমন- রাউটার (router), বর্তমান সময়ে  ইন্টারনেট এর সুষ্ঠু ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাউটার যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা সবাই জানি। আর আমাদের মধ্যে যারা জানি না যে, রাউটার কি , রাউটার কেন ব্যবহৃত হয় বা রাউটার কিভাবে কাজ করে , ঠিক তাদের জন্যই আমার আজকের পোস্ট। হ্যাঁ বন্ধুরা! আমি আজকে কথা বলব রাউটার নিয়ে। যেটি কিনা চলমান নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থাপনায় এককথায় অত্যাবশ্যকীয় একটি যন্ত্র। তাহলে চলুন ভূমিকা আর বড় না করে মূল কথায় চলে যাই।

রাউটার কি?

যদি খুব সহজভাবে রাউটার এর একটি সংঙ্গা উপস্থাপন করতে চাই তাহলে বলতে হয়:

“রাউটার (router) হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যেটি বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে একটি ডেটা প্যাকেটকে তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়”। 

অর্থ্যাৎ রাউটার হলো এমন একটি ডেটা ট্রান্সফারিং ডিভাইস বা সিস্টেম , যেটি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করে একটি ডেটা প্যাকেট কে হাজার হাজার কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ পৌঁছে দেয়ার গন্তব্য নির্ধারণ করে। 

যার মানে হলো , রাউটার একটি ডেটা প্যাকেট কে ট্রান্সফার করার জন্য একটি পাথ (path) বা রাস্তা নির্ধারণ করবে। এখানে রাউটারের বিশেষত্ব হলো, একটি রাউটার ডেটা বা ট্রাফিক ফরওয়ার্ড করার জন্য সবচেয়ে কম দূরত্বের পাথ (path) নির্ধারণ করে থাকে। যার ফলে একটি ডেটা প্যাকেট নূন্যতম সময়ের মধ্যে তার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে।

সুতরাং আরেকটু সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায়, রাউটার (router) হলো এমন একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যেটি অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ক কে একসঙ্গে যুক্ত করে তাদের মধ্যে ডেটা প্যাকেট আদান-প্রদান করে। অর্থ্যাৎ রাউটার হলো এমন একটি যন্ত্র যা দুই বা ততোধিক কম্পিউটার , মোবাইল অথবা ল্যাপটপ এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। রাউটার প্রধানত দুই প্রকার। যেমন- wired router এবং wireless router. এছাড়াও রাউটার এর রয়েছে আরও বিশেষ বিশেষ কিছু ধরণ। যেমন- Core Router, Edge Router, Inter Provider Border Router, Subscriber Edge Router ইত্যাদি।

রাউটার কিভাবে কাজ করে?

প্রিয় পাঠক! আমরা ইতিমধ্যে জেনে এসেছি যে , রাউটার (router) কি বা রাউটার কাকে বলে এবং সেখান থেকে এর কাজের ধরণ সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা নিতে পেরেছি।

যেমন আমরা জানি যে, রাউটার এর মূল কাজ হলো , “একটি ISP বা Internet Service Provider-থেকে গ্রহণ করা ইন্টারনেট কানেকশন , আরও ভিন্ন ভিন্ন আধুনিক ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে শেয়ার করা”। এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, রাউটার এই কাজটি কিভাবে করে? তাহলে চলুন আর্টিকেল এর এই পর্যায়ে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি খুঁজে নেয়া যাক। 

রাউটার তার কাজ পরিচালনার জন্য মূলত বেসিক তিনটি বিষয়কে ধারণ করে। সেগুলো হলো:

  • ম্যাট্রিক ভ্যালু (Metric Value)
  • আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) এবং
  • মডেম (Modem)

একটি রাউটার-কে কর্মক্ষম করতে সর্বপ্রথম এর সঙ্গে একটি মডেম (modem) যুক্ত করতে হয়। যার সাহায্যে রাউটার একটি ISP (Internet Service Provider)- থেকে ইন্টারনেট গ্রহণ করতে পারে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ডিভাইসে ডেটা সরবরাহ করতে পারে।

এখন একটি রাউটার মডেম এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে যে main কাজটি করে তা হলো , রাউটারটির কাছাকাছি অবস্থান করা নেটওয়ার্ক সিস্টেমগুলোর IP (Internet Protocol) Address খোঁজা শুরু করে। 

এখন আপনি বলতে পারেন যে , IP Address আবার কি? তাহলে চলুন IP Address কি এবার তাও জেনে নেয়া যাক। মূলত আইপি (IP) অ্যাড্রেস হলো, বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস যেমন- ল্যাপটপ , কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের নিজস্ব একটি ঠিকানা। সাধারণত একটি আইপি ঠিকানা হলো কয়েকটি সংখ্যার সমষ্টি।

যেমন- ২০৮.১০৯.০.২৭৪ সংখ্যাটি হলো একটি IP Address. এই ঠিকানার রয়েছে প্রধান দুটি অংশ। একটি হলো ডিভাইসের অংশ ও আরেকটি হলো ইউজার এর অংশ। যেমন- এখানে ২০৮.১০৯.০- হলো ডিভাইস এর অংশ এবং ২৭৪- হলো ইউজার এর অংশ। এখানে মূলত ডিভাইস এর অংশটি মূল ভূমিকা পালন করে।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, router এর সঙ্গে IP Address এর সম্পর্ক কি? ক্ষেত্রে আমি বলবো, রাউটার (router)- এর কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য IP Address অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। যে কারণে প্রতিটি ডিজিটাল ডিভাইসের রয়েছে নিজস্ব একটি IP Address. 

রাউটার যখন মডেম এর মাধ্যমে একটি ডেটা প্যাকেট গ্রহণ করে, তখন সেই ডেটা প্যাকেটটিকে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রাউটারের প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট ঠিকানার। আর এই নির্দিষ্ট ঠিকানাই হলো আইপি address. 

কেননা সারা বিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস। এত অধিক সংখ্যক ডিভাইসের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একটি ডিভাইসকে খুঁজে বের করা দুঃস্বাধ্য। যে কারণে একটি রাউটারকে সাহায্যে নিতে হয় ঐ ডিভাইসের IP Address এর। যার ফলে সে সহজেই একটি ডিভাইসকে খুঁজে বের করতে পারে এবং ডেটা প্রদান করতে পারে। 

এখন নির্ধারিত IP অ্যাড্রেস খুঁজে পাওয়ার পর রাউটার সেই ডিভাইসে নেটওয়ার্ক ট্রান্সফার করার জন্য সবথেকে কম দূরত্বের পাথ (path) খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। যেই কাজটি করার জন্য রাউটার ম্যাট্রিক ভ্যালু পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

Metric Value হলো বিশেষ একধরনের সংখ্যা যা রাউটার এর মধ্যে ইন্টারনাল অংশ হিসেবে আগে থেকেই সংযোজিত থাকে। এখন যেই ডিভাইসের ম্যাট্রিক ভ্যালু কম, নেটওয়ার্ক সেই কম ম্যাট্রিক ভ্যালু বিশিষ্ট ডিভাইসের সঙ্গে আগে যুক্ত হয়ে যায়। 

রাউটার যেভাবে কাজ করে

রাউটার যেভাবে কাজ করে

আশা করি এতক্ষণে বুঝে গিয়েছেন যে, রাউটার কিভাবে কাজ করে। তবুও সবশেষে একটি ছোট উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরও ক্লিয়ার করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।

ধরুন আপনার অফিসে আপনি wireless router ব্যবহার করেন এবং সেই রাউটার এর সঙ্গে অফিসের বাদবাকি সকল কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল সংযুক্ত রয়েছে। যে ডিভাইসগুলো একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করে। ধরা যাক আপনার অফিস এর মোট ডিভাইসের সংখ্যা ১০টি। 

এখন ধরুন আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে অপর একটি ল্যাপটপে রাউটার এর সাহায্যে ডেটা প্রেরণ করবেন। এখানে রাউটার কিভাবে এই কাজটি করবে?

এক্ষেত্রে রাউটার প্রথমে মডেম এর মাধ্যমে আপনার ডেটাগুলোকে একটি ডেটা প্যাকেটে রূপান্তর করে। এরপর সেই ডেটা প্যাকেটটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য বাকি ৯টি ডিভাইস এর মধ্য থেকে নির্ধারিত ডিভাইসের IP Address খুঁজে বের করে। এখন ডিভাইস দুটির আইপি অ্যাড্রেস মিলে গেলে রাউটার ম্যাট্রিক ভ্যালুর মাধ্যমে কম দূরত্বের পাথ নির্ধারণ করে ডেটা প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয় এবং একসময় নির্ধারিত ডিভাইসটি সেই ডেটা গ্রহণ করতে পারে। 

শেষ কথা

বন্ধুরা! এই মুহূর্তে আমি আর্টিকেল এর একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। আশা করি রাউটার কি এবং রাউটার কিভাবে কাজ করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনারা ইতিমধ্যে পেয়ে গিয়েছেন এবং কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। আর আপনাদের কিছুটা উপকার করতে পেরে আমি নিজেও অনেক আনন্দিত। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের আর্টিকেল এর এখানেই ইতি টানছি।

Leave a Reply