ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

তথ্য প্রযুক্তির এই সোনালি যুগে প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপে ওয়েবসাইটের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী। প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন প্রয়োজনে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কোনো না কোনো ওয়েবসাইটে ঢু মারছেন অসংখ্য মানুষ। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইনে ইনকাম করার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে নেট দুনিয়ায় জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ওয়েবসাইট এবং এর সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বেড়েই চলেছে।

তাই প্রতিনিয়ত প্রোফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মত। তবে সম্পূর্ণ কার্যকর উপায়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ঠিক সেই কারণে আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। সুতরাং সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! পুরো আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পড়ার চেষ্টা করুন। কেননা এর প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ওয়েবসাইট কোডিং করেও করা সম্ভব আবার CMS দিয়েও করা সম্ভব, আমরা আজকে মূলত CMS নিয়েই কথা বলবো, CMS দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে সর্বপ্রথম আপনাকে একটি সফটওয়্যার বা CMS (Content Management System) নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে সেরা দুটি প্লাটফর্ম হলো:

এই দুটি প্লাটফর্মের যেকোন একটির মাধ্যমেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। যদিও এই দুটো সফটওয়্যারের বাহিরে আরও অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো আপনার পছন্দমত আপনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বর্তমানে জনপ্রিয়তার দিক থেকে ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করার জন্য এই দুটি সফটওয়্যারই সেরা।

 কেউ যদি প্রাথমিকভাবে ও স্বল্প বাজেটে কোনো ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তবে Blogger.com সেরা একটি প্ল্যাটফর্ম। এছাড়াও ব্লগারের নিজস্ব সাব ডোমেইন এবং ফ্রি হোস্টিং ব্যবহারের মাধ্যমে চাইলে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ওয়েবসাইট ওপেন করে নেয়া যায়। অপরদিকে যেকোন প্রফেশনাল লুকের এবং ভালো মানের ওয়েবসাইটের জন্য  WordPress তুলনাহীন।

CMS পছন্দ করা হয়ে গেলে এবার চলুন জেনে নেই ওয়েবসাইট তৈরির অন্যান্য উপাদানগুলো কি কি।

Domain

 ডোমেইন হলো একটি ওয়েবসাইটের মূল ঠিকানা বা অ্যাড্রেস। একে ওয়েব অ্যাড্রেসও বলা হয়। কেননা যখন কেউ কোনো ওয়েবসাইটের জন্য সার্চ করে তখন সার্চ বক্সে সেই ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম লিখে সার্চ করতে হয়। যেমন- কেউ যদি অ্যামাজন ওয়েবসাইট টি ভিজিট করতে চান তবে তাকে সার্চ বক্সে  Amazon.com লিখে সার্চ করতে হবে। অর্থাৎ এটি হলো অ্যামাজন ওয়েবসাইটের নিজস্ব ঠিকানা বা ডোমেইন।

প্রতিটি ডোমেইনের সাথে এক একটি Extension যুক্ত থাকে যা সেই ওয়েবসাইটের ধরন নির্ধারণ করে। যেমন- .com, .org, .edu, .net, .gov, .info ইত্যাদি। এখানে প্রতিটি এক্সটেনশন আলাদা আলাদা পরিচয় বহন করে। যেমন- সাধারণ বা ব্যবসায়ীক সাইটের জন্য .com, অর্গানাইজেশন সাইটের জন্য .org, শিক্ষা সম্পর্কিত সাইটের জন্য .edu প্রভৃতি। সুতরাং একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে সর্বপ্রথম সাইটের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক extension যুক্ত একটি ইউনিক ও রুচিসম্মত ডোমেইন নেম নির্বাচন করতে হবে।

Hosting

একটি ওয়েবসাইটের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো হোস্টিং। কেননা একটি হোস্টিং সাইটের স্পিড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেটি সাইটে ভিজিটর বৃদ্ধির পাশাপাশি গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্ত পূরণ করে। 

সাধারণত আমরা মোবাইলে যেসকল মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে থাকি একটি হোস্টিং হলো ঠিক সেইরকম একটি মেমোরি কার্ড। যেখানে সাইটে আপলোডকৃত সকল ডেটা, ছবি, অডিও অথবা ভিডিও সংরক্ষিত থাকে। তাই একটি হোস্টিং যত বেশি স্টোরেজ সম্পন্ন হবে , সাইটের স্পিডও তত বেশি হবে। তাই ডোমেইন নেম নির্বাচন করা হলে ভালো মানের একটি হোস্টিং নির্বাচন করতে হবে। এসব হোস্টিং দেশি বিদেশি বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি থেকে সুলভ মূল্যে ক্রয় করে ব্যবহার করা যায়।

SSL Certificate

এস এস এল সার্টিফিকেট হলো এমন একটি বিষয় যেটি ডোমেইনের privacy সংরক্ষণ করে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের সকল ইনফরমেশন হ্যাক হয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইটের জন্য SSL সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যক। 

তাই ডোমেইন ক্রয় করার সঙ্গে সঙ্গে একটি এস এস এল সার্টিফিকেট ক্রয় করে নেয়া উচিত।

Theme

ওয়েবসাইটে প্রফেশনাল লুক দিতে থিম অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। থিম ফ্রি এবং পেইড দুই প্রকারেরই হয়ে থাকে। তবে পেইড থিম নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কেননা এসব থিমে অনেক বেশি ফিচার পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে ওয়েবসাইটকে নিজের পছন্দমত ডিজাইন ও অপটিমাইজ করা যায়।

ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম 

এতক্ষণ আমরা ওয়েবসাইট সম্পর্কিত অনেক খুঁটিনাটি তথ্যাদি জানলাম। এবার আমরা জানব, কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় সে সম্পর্কে।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি প্রথম ধাপ হলো সাইটের ক্যাটাগরি নির্বাচন করা। ক্যাটাগরি বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন- ডিজিটাল মার্কেটিং, শিক্ষা এবং চাকুরি, স্বাস্থ্য এবং লাইফস্টাইল, প্রশ্ন উত্তর, কি কেন কিভাবে ইত্যাদি। 

এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী ক্যাটাগরি নির্বাচন করা হয়ে গেলে এবার সেই ক্যাটাগরির  সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভালো মানের ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করার পূর্বে সেই কোম্পানি বা সার্ভারের ব্যাপারে ভলোমত খোঁজখবর নিয়ে নেবেন।

এবার ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করা হলে একটি সফটওয়্যার বা CMS নির্বাচন করতে হবে। যেখান থেকে মূলত সাইটটিকে একটি গঠন প্রদান করা হবে। এরপর উন্নতমানের কিছু থিম ক্রয় করে ওয়েবসাইটটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে এবং অপটিমাইজ করে একটি প্রফেশনাল লুক দিতে হবে। 

ব্যাস, ওয়েবসাইটটিকে এবার সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেই আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে গেল। এবার সাইটে নিয়মিত কন্টেন্ট শেয়ার করুন এবং আপডেটেড রাখুন। 

Leave a Reply