আপওয়ার্কে কিভাবে কাজ পাওয়া যায়?

আপওয়ার্ক কি? আপওয়ার্কে কিভাবে কাজ পাওয়া যায়?


যে সকল ফ্রিল্যান্সার দীর্ঘদিন যাবত কাজ করেছেন তাদের ভাস্যমতে মার্কেটে এখনো পর্যন্ত যতগুলো ফ্রিল্যান্স সাইট আছে, সব থেকে মানসম্মত সাইট আপওয়ার্ক। এখানে মূলত বিড করার জন্য কানেকশন কিনে ব্যবহার করতে হয় বলে অনেক লোকাল/অপ্রাসঙ্গিক ফ্রিল্যান্সার এই সকল সাইটে টিকতে পারে না। তাই এটি অন্যান্য ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের তুলনায় অনেক স্বচ্ছ। বলা যায় সবচেয়ে বেশি প্রিমিয়াম ক্লায়েন্টদের উপস্থিতি এই মার্কেটপ্লেসে। কারণ এখানে মাইক্রোসফট, ড্রপবক্সের মত জায়ান্ট কোম্পানি গুলোর কাজ পাওয়া যায়। 

আজকে আমরা আলোচনা করবো আপওয়ার্ক নিয়ে। বাংলাদেশের অনেক ভালো মানের ফ্রিল্যান্সাররা এই ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সাইটের গুরুত্ব অনেক। 

আপওয়ার্ক কি?

আপওয়ার্ক হচ্ছে একটি আমেরিকান ভিত্তিক ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম যার পূর্বের নাম ছিলো যথাক্রমে ওডেক্স এবং ইল্যান্স, যেখানে কোন অর্ডার করতে হলে আগে কানেক্ট ক্রয় করতে হয়। বলা যায় চাকুরির জন্য আবেদন করতে হলেও আপনাকে কানেক্ট ক্রয় করতে হবে। ইল্যান্স এবং ওডেক্স মিলে ২০১৫ সালে কোম্পানীটির নতুন নামকরণ করেন, যা বর্তমানে আপওয়ার্ক নামে পরিচিত। 

ফাইভার কি? ফাইভার কিভাবে কাজ করে?

 বর্তমানে আপওয়ার্কে কাজ করছে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার  এবং ক্লাইয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৫ মিলিয়ন। আপওয়ার্কে দুই ভাবে কাজ করা যায়।

  • Hourly (প্রতি ঘন্টা কাজের বিনিময়ে অর্থ)
  • Fixed Price (একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ) 

আপওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ পাবে?

আপওয়ার্ক ব্যবহার করে একজন ফ্রিল্যান্সার খুব সহজে কাজ করে টাকা আয় করে নিতে পারেন পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে থেকে। এই জন্য একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিন্মোক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করতে হবে। অন্য সব সাধারণ ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মত এখানেও আপনাকে প্রথমে সাইন আপ করে নিতে হবে, যা খুবই সাধারণ বিষয়।

অপটিমাইজ প্রোফাইল তৈরি

সাইন আপ করার পর প্রথম যে কাজটি করতে হবে, তা হলো একটি অপটিমাইজ প্রোফাইল তৈরি করা। এখানে মূলত আপনি যে যে কাজ পারেন বা যে সমস্ত কাজ আপনি মার্কেটপ্লেসে করতে চাচ্ছেন তার সঠিক বর্ণনা দিতে হয়। যাতে করে একজন বায়ার আপনার প্রোফাইল দেখে খুব সহজে বুঝতে পারে  আপনি কোন কাজে অভিজ্ঞ বা অভ্যস্ত। আপওয়ার্কে খুব সহজে একটি অপটিমাইজ প্রোফাইল তৈরি করা যায়। আপনি প্রথমে শুরু করবেন কি ধরণের কাজ করবেন তার নাম বলে দিলে তারা আপনাকে ঐ অনুযায়ী ফর্ম দিবে। যেখানে আপনার সকল যাবতীয় সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারবেন। সেখানে যা যা ইনফরমেশন দিতে বলা হবে, তা সঠিক ভাবে আপনার কাজের ধরণ অনুযায়ী সম্পাদন করবেন। 

আপওয়ার্ক প্রোফাইল অ্যাপ্রুভ

ফাইভারে আমরা দেখেছি, সেখানে ফ্রি তে গিগ খোলা যায়। ফলে যে কেউ খুব সহজে গিগ খুলে ফেলতে পারেন। এতে করে যে সমস্যাটি হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সারদের যার যা ইচ্ছে, ঐ অনুযায়ী গিগ গুলো সাজানোর চেষ্টা করছে। বেশির ভাগ নতুন ফ্রিল্যান্সার যারা আছেন, তারা উল্পাপাল্টা তথ্য দিয়ে গিগ গুলো খোলার ফলে মার্কেটপ্লেসে একরকম অসাম্যতা তৈরি হয়েছে। কারন ফাইভার কতৃপক্ষ এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন না।

সেরা ১০ টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

কিন্তু আপওয়ার্ক বিষয়টি অনেক শক্ত হাতে দমন করে থাকে। যদি কোন ফ্রিলান্সার কোন গিগ আপওয়ার্কে আপলোড করে, আপওয়ার্ক তাদের টিম দিয়ে সেটির ইনফর্মেশন যাচাই বাচাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে অনুমোদন দিবে কিনা। এতে করে মার্কেটপ্লেসের একটি সুরক্ষা নিশ্চিত হয়ে থাকে। আজেবাজে ইনফর্মেশন দিয়ে কেউ গিগ খুলতে পারে না, যা বায়ারদের একটি ক্লিন ভিউ দিয়ে থাকে। 

এই রকম আরো অনেক সুবিধাজনক বিষয় আপওয়ার্কে থাকার কারণে এটি অনেকের কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি মার্কেটপ্লেস। 

জব কিভাবে পাবেন?

ফাইভারে যেমন বায়ার রিকুয়েস্ট রয়েছে, আপওয়ার্কে তেমন রয়েছে জব প্রপোজাল। আপওয়ার্ক আপনার গিগ এবং প্রোফাইলের ধরণ অনুযায়ী আপনাকে বিভিন্ন রকম জব অফার করবে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি আপনার জবে প্রপোজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও আপওয়ার্ক অনেক ম্যাট্রিক্স রেখেছে, যা দিয়ে আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন জবটি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা। সব গুলো ম্যাট্রিক্স দেখে শুনে জবে আবেদন করা অতি উত্তম।


ক্লায়েন্টের সাথে ইন্টারভিউ 

আপওয়ার্কে আপনি যখন কোন জবে প্রপোজাল পাঠাবেন, তখন যদি ক্লায়েন্ট আপনাকে উপযুক্ত মনে করে, তখন তারা আপনার ইন্টারভিউ নিবে। এখানে আপনি জবের রিকয়ারমেন্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। কাজের ধরন, কাজের ডেডলাইন, এবং টাকার অংক সবকিছু এখান থেকে নিশ্চিত হয়ে নিয়ে তারপর ক্লায়েন্ট আপনাকে যে অফার করবে তাতে রাজি হলে প্রজেক্ট গ্রহন করবেন।  ক্লায়েন্টের কাজের ধরন এবং কি কি কাজ করে দেয়া লাগবে, সেগুলো আপনি পারবেন কিনা এ সমস্ত বিষয় ইন্টারভিউর মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন। 

অর্ডার কমপ্লিট এবং ডেলিভার 

কাজ নেয়ার পর আপনাকে কাজটি পরিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কাজটি সম্পন্ন করার পরের ধাপ হচ্ছে কাজটি জমা দেওয়া। তবে কাজ জমা দেয়ার আগে ডেডলাইন সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হবে। নতুবা, আপনার কাজ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না, ক্লায়েন্টের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে না। পরিশেষে আপনার প্রোফাইলে নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি হবে। তাই চেষ্টা করবেন যেন সময় মত কাজের ডেলিবারি দিতে পারেন। 

পেমেন্ট 

কাজ শেষ হওয়ার পর বায়ার কাজ গ্রহন করলে আপনার আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হবে, যা পরবর্তীতে আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন। 

আপওয়ার্ক পেমেন্ট মেথড গুলো দেখে নেই এক নজরে-

ডিরেক্ট টু লোকাল ব্যাংক (যেখানে প্রতি উইথড্রতে চার্জ পড়বে ০.৯৯ডলার)

ওয়ার ট্রান্সফার 

কমপক্ষে ৩০ ডলার ট্রান্সফার করা যায় যেকোন ধরনের ব্যাংকে। যেখানে সময় লাগে ৭ কর্মদিবস।

ওয়েবসাইট কি? ওয়েবসাইট কেন প্রয়োজন?

পেপাল

তাতক্ষনিক ট্রান্সফার পাওয়া যায়। ১ ডলার থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত চার্জ করতে পারে। যা পুরোটা নির্ভর করছে ট্রানজেকশনের পরিমানের উপর।

পাওনিয়ার

সর্বোচ্চ ২ দিন সময় লাগবে। আপওয়ার্কের প্রতি উইথড্রেতে ২ ডলার চার্জ পড়বে। 

আপওয়ার্ক কি বিশ্বস্ত?

হ্যাঁ, আপওয়ার্ক অন্য সকল মার্কেটপ্লেস থেকে অনেক বেশি নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত। এখানে অনেক ভালো কোম্পানী গুলো তাদের কাজ গুলো করিয়ে নিয়ে থাকেন। আপওয়ার্কে অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছেন যারা ৬ ডিজিটের ও বেশি পরিমান টাকা আয় করে থাকেন।

আপওয়ার্কে সাধারণত দুই ধরনের কাজ করা যায়। একটা হলো hourly অন্যটি fixed। 

আওয়ারলি প্রজেক্ট

আওয়ারলি প্রজেক্ট গুলো ঘন্টা ভিত্তিক চুক্তিতে কাজ করে থাকে। অর্থাৎ প্রতি ঘন্টার বিনিময়ে চার্জ নিয়ে থাকে। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, কিভাবে তারা বিষয়টি জানবে কতক্ষন কাজ করছি বা না করছি। 

হ্যাঁ, আপওয়ার্ক বিষয়টি সমাধান করার জন্য আপওয়ার্ক টাইম ট্র্যাকার নামক অ্যাপ্স রেখেছে। যেখানে ফ্রিল্যান্সার যখন কাজ শুরু করবেন, তখন টাইমার ওপেন করে রাখবেন, এবং কোন সময় কি কি কাজ করছেন তা সময় অনুযায়ী নোট করে রাখতে পারবেন। এতে করে বায়াররা দেখতে পারবে, ফ্রিল্যান্সার কখন কোন কাজটি করেছেন। 

ফিক্সট প্রাইজ প্রজেক্ট

এটি সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মত। কোন নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য কত টাকা বাজেট হয়েছে তাই ফিক্সড প্রাইজ। এতে করে মাধ্যম গুলো, অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সার সাইট গুলো যা রাখার অর্থাৎ ২০% টাকা রেখে চুক্তি অনুযায়ী আপনার মূল একাউন্টে টাকা জমা হবে। ফিক্সড প্রাইজের ক্ষেত্রে প্রজেক্টের শুরুতে যা নির্ধারন হবে, তেমন পেমন্ট পাবেন কাজ শেষে। 

Leave a Reply