স্লো কম্পিউটার ইউজ করে যেমন স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায় না তেমনি বিরক্তিও ফিল হয়। কিন্তু কিছু সহজ ও সাধারণ পদ্ধতি আছে যেগুলো ইউজ করলে স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করা যায়।

কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারন কি?

কম্পিউটার মোবাইল ফোনের মতই একটি প্রয়োজনীয় ডিভাইস। অফিশিয়াল কাজ করা বাদেও আমরা বিভিন্ন পার্সোনাল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে অনলাইন ইনকামের যুগে কম্পিউটার আয়ের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু কম্পিউটার নিয়মিত ইউজ করার কারণে অনেক স্লো হয়ে যায়। 

স্লো কম্পিউটার ইউজ করে যেমন স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায় না তেমনি বিরক্তিও ফিল হয়। কিন্তু কিছু সহজ ও সাধারণ পদ্ধতি আছে যেগুলো ইউজ করলে স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করা যায়। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারন কি? কীভাবে স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করা যায়? এ নিয়ে বিস্তারিত জানবো। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারন?

কম্পিউটার স্লো হওয়ার অনেক কয়েকটি কারণ আছে। নিচে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কনফিগারেশন

কম্পিউটার স্লো হওয়ার পেছনে এর কনফিগারেশনের অনেকটা হাত আছে। যেমন একটি কম্পিউটারের পারফরমেন্স নির্ভর করে এর প্রসেসর, র‌্যাম এবং অপারেটিং সিস্টেমের উপর। অর্থাৎ একটি ডুয়াল কোর প্রসেসর এবং ২জিবি র‌্যামে উইন্ডোজ ১০ ইউজ করতে গেলে কম্পিউটার অনেক স্লো কাজ করবে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি?

অন্যদিকে আপনি যদি একটি পার্সোনাল লেভেলের কনফিগারেশনে প্রফেশনাল লেভেলের কাজ করতে চান তাহলে পারফরমেন্স স্লো পাবেন। মোট কথা কম্পিউটারের পারফরমেন্স এর কনফিগারেশনের উপর অনেকটাই নির্ভর করে।

হার্ডওয়্যার

একটি ডিভাইসের হার্ডওয়্যার যত লেটেস্ট হবে এর পারফরমেন্স তত ফাস্ট হবে। এছারাও কম্পিউটারে গ্রাফিক্স কার্ড এবং এসএসডি ইউজ করলে কম্পিউটার অনেক ফাস্ট হয়। কারণ গ্রাফিক্স কার্ড গ্রাফিক্স রিলেটেড সকল প্রোগ্রাম ফাস্ট রান করার জন্য মেইন প্রসেসরকে হেল্প করে। অন্যদিকে হার্ডডিস্ক এর ফাইল রাইট/রিড স্পীড খুব কম থাকে ফলে অপারেটিং সিস্টেম অনেক স্লো কাজ করে। কিন্তু এসএসডির ফাইল রিড/রাইট স্পীড অনেক বেশি থাকায় এর কর্ম দক্ষতা অনেক বেশি।

ভাইরাস

ভাইরাস একটি কম্পিউটার অথবা সার্ভারের জন্য অভিশাপ। কম্পিউটারে ভাইরাস থাকলে পুরো সিস্টেম অনেক স্লো হয়ে যায়। কারণ বেশীরভাগ ভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজেদের কাজ চালু রাখে যা বেশি বেশি র‌্যাম এবং প্রসেসর ইউজ করে।

ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস গুলোকে প্রসেস হতে বাঁধা দেয়। এতে অপারেটিং সিস্টেম এবং অন্যান্য সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। যার ফলে কম্পিউটার স্লো হওয়া ছাড়াও ক্রাশ করে অথবা ব্লু স্ক্রীন অফ ডেথ শো করে।

স্পেস ম্যানেজমেন্ট

আমরা জানি কম্পিউটার চলে অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে। আর অপারেটিং সিস্টেম থাকে কম্পিউটারের C ড্রাইভে। একটি কম্পিউটার তার কাজ সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য সকল রিসোর্স C ড্রাইভ থেকে নিয়ে ইউজ করে। অন্যদিকে সফটওয়্যার গুলো তাদের সকল রিসোর্স উক্ত ড্রাইভ থেকে ইউজ করে।

ফ্রিল্যান্সার মাসুম এর সফলতার গল্প 

এখন আপনি যদি এই ড্রাইভ পর্যাপ্ত ফাঁকা না রাখেন তাহলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। তাছাড়া অপারেটিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার নিজেদের কাজ করার সময় কিছু টেম্পোরারি ফাইল তৈরি করে যা কম্পিউটার স্লো কাজ করার অন্যতম কারণ।

অপারেটিং সিস্টেম

কম্পিউটার স্লো হওয়ার পেছনে অপারেটিং সিস্টেম অনেক সময় প্রধান কারণ হয়ে দ্বারায়। যে অপারেটিং সিস্টেম যত বেশি রিসোর্স ইউজ করে সে কম্পিউটার ততবেশি স্লো কাজ করে। এদিক থেকে উইন্ডোজ ওএস সবার উপরে। যদিও উইন্ডোজ ১০ এর N ভার্সন একটি লাইটওয়েট ওএস কিন্তু লো কনফিগারেশনের কম্পিউটারে অনেক স্লো কাজ করে।

স্লো কম্পিউটার একটি চরম বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। উপরে বর্ণিত পদ্ধতিগুলো ইউজ করে সহজেই আপনার স্লো এবং দুর্বল কম্পিউটারকে ফাস্ট এবং শক্তিশালী করে করে ফেলতে পারবেন। আশাকরি এই পোস্ট আপনার কম্পিউটারের স্লো হওয়া সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে পেরেছে। এগুলো অ্যাপ্লাই করার পড়েও যদি আপনার সমস্যা থেকেই থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ধন্যবাদ। 

Leave a Reply