এসইও করার ক্ষেত্রে ৮ টি ভুল এবং পরামর্শ

এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন হচ্ছে ওয়েব কন্টেন্ট জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। এসইও এর বাজার এতটাই বর্ধনশীল যে ধারনা করা হচ্ছে, ২০২৭ সাল নাগাদ এসইও এর বাজার হবে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। 

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদায় পরিবর্তন ঘটছে। ফলে সার্চ ইঞ্জিনগুলোতেও পলিসির পরিবর্তন করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। সঠিক পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের এসইও করা হলে সাইটের অর্গানিক ভিজিটর যেমন বহুগুণে বেড়ে যায়, তেমনি ভুল পদ্ধতিতে এসইও অপ্টিমাইজেশন করা হলে খুবই দ্রুত সাইটের ভিজিটর কমে আসে। 

এই লেখাটিতে আমরা এসইও এর নিম্নলিখিত সাধারন ৮ ভুল পদ্ধতি ও ভুলগুলো সংশোধনের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব।

এসইও পরিকল্পনা এবং সঠিক রোডম্যাপ না থাকা

ওয়েবসাইটের জন্য একটি এসইও পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ নির্মাণ সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইটের ভিজিটর সম্পর্কে সমস্ত ভাল-মন্দ জানার পরে, সেই তথ্য ব্যবহার করে সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভিজিটরদের তথ্য জেনে নেওয়ার পরেও এলোমেলো পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে অনেক ওয়েবসাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়না। অনেক নামী দামী সংস্থাই বড় থেকে ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসায়ে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে। গত বছর কেবলমাত্র ৩৬% ছোট ব্যবসায়ের একটি এসইও পরিকল্পনা ছিল। যাইহোক, টেকসই এবং দক্ষ কৌশল তৈরির জন্য একাধিক স্টেকহোল্ডার – ওয়েবসাইট, পিআর, সামগ্রী, পণ্য, আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর নির্ভর করেও অনেক পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

অর্থাৎ এসইও পরিকল্পনা হচ্ছে আপনার সাফল্যের প্রধান শর্তগুলোর একটি। যদি এখনো সাফল্যের এই প্রধান নিয়ামকটি তৈরী না করে থাকেন তাহলে এটি বানিয়ে ফেলার উপযুক্ত সময় এখনই।

পরামর্শ:

  • আপনার ওয়েবসাইটের অবস্থান এখন কোথায় এবং আপনি কোথায় এটিকে দেখতে চান সেটি ভাবুন, লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরী করুন। 
  • আপনার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সামগ্রিক প্রতিযোগিতা- অর্থাৎ ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং, কী-ওয়ার্ড, কন্টেন্ট ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করুন।
  • বড় কাজগুলিকে ছোট ছোট অংশে ভেঙ্গে আলাদা করুন। টার্গেট ভিজিটর এবং মূল অংশীদারদের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন।
  • ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার কাজকে সহজ করে দিতে পারে। ওয়েবসাইটের কার্যপ্রবাহ এবং এসইও পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে এমন কিছু টুলস এবং সহায়ক প্ল্যাটফর্মের খোঁজ নিয়ে রাখুন।

ভিজিটরদের চাহিদা না বোঝা

এসইও এর অন্যতম মৌলিক নীতি হল আপনার টার্গেট ভিজিটরদের চাহিদা বোঝা। চাহিদা বোঝার জন্য প্রয়োজন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম চাহিদা সম্পর্কে জানা।

এসইও মূলত ভিজিটরদের ভয়েস। অনেক বিপণনকারী নিশ্চিন্ত থাকেন এই ভেবে যে, তারা তাদের ভিজিটরদের চাহিদা সম্পর্কে অবগত। তবে প্রায়শই এসব বিপণনকারীরা ভিজিটরদের পরিবর্তিত চাহিদার ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য নেয়না। ফলে ওয়েবসাইটের ভিজিটর আস্তে আস্তে কমে যায়। একই সাথে, গ্রাহকেরা সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনে করা তাদের প্রশ্নের দ্রুত রেজাল্ট পেতে চায়। 

কি-ওয়ার্ড বাছাই করতে সবচেয়ে বেশি ভুলগুলির মধ্যে একটি হলো, দীর্ঘ শব্দ বিশিষ্ট কি-ওয়ার্ডগুলোকে অবহেলা করা। তাছাড়া আরেকটি বড় ভুল হলো সার্চ ইঞ্জিনের পছন্দকৃত কি-ওয়ার্ডগুলোকে অবহেলা করা। তাই আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধির জন্য মানুষ সার্চ ইঞ্জিনে কোন শব্দগুলো সার্চ করছে সেটি খুঁজে বের করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

পরামর্শ:

  • ভিজিটরেরা কোন ধরনের টপিকের জন্য সার্চ করছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। সার্চ ট্রেন্ডের বর্তমান প্রবণতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন।
  • ঐতিহাসিক তথ্যগুলোর পাশাপাশি বর্তমান সময়ের ডাটাগুলো বিশ্লেষণ করে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন।
  • সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচন করার পর সেটিকে ঘিরে একটি রোডম্যাপ তৈরী করুন। 
  • সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে Google keyword Planning Tools এবং Vendor টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

ভুল কন্টেন্ট তৈরি করা

এসইওতে আরো একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে আপনার টার্গেট ভিজিটরদের চাহিদাসম্পন্ন নয় এমন কিছু কন্টেন্ট ওয়েবসাইটে রাখা। এক্ষেত্রে সমস্যাটি হলো, আপনি কোনো নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের জন্য সার্চইঞ্জিনে ভালো অবস্থানে যেতে চাইলেও ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলোতে আপনার টার্গেটের বিষয়টি ফুটে উঠছেনা।

Google এর মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলি তাদের ব্যবহারকারীদের সার্চ রেজাল্টে সাধারণত কিওয়ার্ড গুলোর সাথে সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট ফলাফল হিসেবে প্রদর্শন করে। সুতরাং, যদি আপনার কন্টেন্টের বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের সার্চ করা প্রশ্নের প্রয়োজনীয় উত্তর না দিতে পারে তবে এটি সার্চ ইঞ্জিগুলোতে ভালভাবে স্থান পাবেনা।

এক্ষেত্রে সাধারণ ভুলগুলো হচ্ছে-

  • একক কন্টেন্টে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের কিওয়ার্ড যুক্ত করার চেষ্টা করা।
  • শুধু কিওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করার স্বার্থে নিম্নমানের কন্টেন্ট তৈরি করা।
  • একটি কন্টেন্টকে একাধিক কিওয়ার্ডের জন্য অপ্টিমাইজ করা।

সুতরাং আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য হতে হবে এমন কন্টেন্ট তৈরি করা যেটি সার্চের সঠিক কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করে টার্গেট ভিজিটরদের সার্চ করা প্রশ্ন ও প্রয়োজনের সাথে প্রকৃতভাবে মিলে যায়। এরপরেই কেবল সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার পছন্দসই কিওয়ার্ডটির সাথে মিল রেখে আপনার কন্টেন্ট সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

পরামর্শ:

  • আপনার ওয়েবসাইটে এসইও কৌশল এবং রোডম্যাপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কন্টেন্ট আছে কী-না সেটি নিশ্চিত করুন।
  • আপনার কন্টেন্টের বিষয়বস্তু ভিজিটররা যে প্রশ্নগুলির উত্তর সন্ধান করছে তার জবাব দিচ্ছে কীনা সেটি নিশ্চিত করুন।
  • বিভিন্ন মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে SERP লেআউট – ভিডিও, ছবি, লেখাসহ একাধিক ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করুন।

নকল কন্টেন্ট তৈরী করা

অন্যের লেখা চুরি করা কিংবা অন্য কারো কন্টেন্টের হুবহু নকল বর্তমানে স্প্যাম হিসেবে গণ্য  হয়। কিছুদিন আগেও অন্যের তৈরীকৃত কন্টেন্টের অনুরূপ কন্টেন্ট তৈরী করা অথবা কন্টেন্টের হুবহু নকল করা ওয়েবজগতে বড় কোনো অপরাধ বলে গণ্য হতো না। তবে বর্তমানে এ ধরনের নকল কন্টেন্টগুলোর ব্যাপারে সার্চ ইঞ্জিন গুলো বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এমনকি সাইটগুলোকে শাস্তির আওতায় আনছে। তাই এ ধরনের কন্টেন্ট সাইটে রাখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অন্যের লেখা চুরি করার মত অন্য ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে স্পিন করে নতুন কন্টেন্ট তৈরী করাকেও সার্চ ইঞ্জিনগুলো নিরুৎসাহিত করছে। ফলে এসইও এর ক্ষেত্রে এসব প্রবণতার বাইরে এসে নিজস্ব ও মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরীতে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ এসইও অপ্টিমাইজেশনের ক্ষেত্রে আপনার সাইটটি নিম্নমানের সাইট হিসেবে চিহ্নিত হবে।

পরামর্শ:

  • কন্টেন্টের শিরোনাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন শিরোনাম নির্ধারণ করুন যেটি আপনার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। চমকদার শিরোনামে ভিজিটরদেরকে বিভ্রান্ত করলে তাৎক্ষণিক ফল পেলেও দীর্ঘমেয়াদে ভিজিটর কমে যেতে পারে।
  • সার্চ ইঞ্জিনে সর্বাধিক সার্চকৃত কিওয়ার্ডগুলোর সঠিক জবাব আপনার কন্টেন্টে রয়েছে কী-না সেটি নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে উদাহরণ দিন।
  • কন্টেন্টগুলোতে প্রয়োজনে গল্পের মাধ্যমে ঘটনাগুলো বর্ণনা করুন যাতে ভিজিটররা তাদের জীবনের সাথে মিলিয়ে পড়তে পারে৷ 
  • প্রয়োজনে মানসম্মত সোর্স ব্যবহার করুন।
  • সৃজনশীল হোন। কন্টেন্টের প্রয়োজনে যথাযথ ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করুন।

মানসম্মত বহিরাগত লিংক ব্যবহার না করা

ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলোর মধ্যে মানসম্মত বহিরাগত লিংক ব্যবহার না করলে এসইও অপ্টিমাইজেশন কমে যেতে পারে। কন্টেন্টের মধ্যে বহিরাগত লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কম ভ্যালুযুক্ত কিংবা অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের লিংকের পরিমাণ বৃদ্ধির চেয়ে গুণগত মান রক্ষা করা অত্যধিক প্রয়োজন। 

এই কারনে বহিরাগত লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিংকটি প্রাসঙ্গিক ও গুগলে ভালো অবস্থানপ্রাপ্ত ওয়েবসাইটের কী-না সেটি নিশ্চিত করতে হবে। উলটাপালটা ওয়েবসাইটের লিংক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া যেসব ওয়েবসাইটের মালিকেরা আপনার সাইটের ব্যাকলিংক দিচ্ছেন প্রয়োজনে তাদের সাইটগুলোর লিংক ব্যবহার করুন। এতে ভবিষ্যতের জন্য আপনি বেশ বড় পরিমাণের ট্রাফিক পাবেন।

এছাড়া আপনার কন্টেন্টে ব্যবহৃত লিংকগুলোতে Anchor Text ব্যবহার করতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কন্টেন্টগুলোতে শুধুমাত্র Click Here শব্দটি Anchor Text হিসেবে ব্যবহার করলে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

পরামর্শ:

  • ওয়েবসাইটের ভাঙ্গা লিংকগুলো (Broken Link) সব সময় অনুসন্ধান করতে হবে এবং তৎক্ষনাৎ ঠিক করতে হবে।
  • ভাঙ্গা লিংক ঠিক করার কাজে মানসম্মত এসইও প্লাগিন টুলস ব্যবহার করতে হবে।
  • E-T-A সংবলিত কন্টেন্ট নির্মাণ করুন। মানসম্মত কন্টেন্ট সবসময়েই বাইরের লিংকগুলোকে আকর্ষন করে।
  • লিংক তৈরীর জন্য কোনো সফটওয়্যার ক্রয়ের প্রয়োজন নেই; বরং নিজেই মানসম্মত লিংক তৈরী করুন।

টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশন এড়িয়ে চলা

আপনার আর্টিকেলে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের কন্টেন্ট তৈরী করলেই এসইও অপ্টিমাইজেশনের কাজ সম্পন্ন হয়না। মনে রাখা প্রয়োজন যে টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করাও এসইও এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইটি জিনিষের ব্যবহার না করলে সাইটের অর্গানিক ভিজিটর অনেক হ্রাস পেতে পারে।

সার্চ ইঞ্জিন গুলো তাদের ফলাফল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই সঠিকভাবে টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশনের ব্যবহার করলে সাইটের অর্গানিক ভিজিটর অনেক পরিমাণে বাড়বে। 

কিছু কিছু বিপণনকারী তাদের সাইটের জন্য Schema টুলসটি ব্যবহার করেনা। Schema টুলস ব্যবহার করার ফলে সাইটটি কি সম্পর্কিত সেটি সার্চ ইঞ্জিনকে জানিয়ে দেয়। ফলে schema ব্যবহার না করলে আপনার সাইটটি র‍্যাংকিংয়ে পেছনের দিকে স্থান পায়। এমনকি ভয়েস সার্চের ক্ষেত্রেও আপনার সাইটটিকে ফলাফল হিসেবে প্রদর্শন করেনা।

এসইও এর ক্ষেত্রে আরো একটি বড় ভুল হচ্ছে ছবির Alt text ব্যবহার না করা। সার্চ ইঞ্জিনগুলোর Bot সাধারণত ছবি পড়তে পারেনা। তবে alt text এর ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিনগুলো ছবির পরিবর্তে লেখাগুলো সম্পর্কিত ফলাফল প্রদর্শন করবে।

পরামর্শ :

  • প্রতিটি পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে আকর্ষনীয় শিরোনাম নির্বাচন করুন। শিরোনামটি হবে সংক্ষিপ্ত। তবে শিরোনাম অস্পষ্ট হওয়া যাবেনা।
  • কন্টেন্টে কিওয়ার্ডগুলোর জায়গা নির্ধারণ সঠিকভাবে হয়েছে কী-না সেটি নিশ্চিত করুন।
  • পৃষ্ঠার শিরোনামের ক্ষেত্রে লম্বা শিরোনাম এড়িয়ে চলুন।

অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা

ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি ভুল পরিলক্ষিত হয়। আর্টিকেলে সঠিকভাবে অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহার না করলে ভিজিটর সংখ্যা কমে যেতে পারে৷

তবে এটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে এসইও অপ্টিমাইজেশনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহার করতে হবে বলেই অপ্রয়োজনীয় লিংক ব্যবহার করা যাবেনা। কন্টেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠার লিংকগুলোকেই অভ্যন্তরীণ লিংক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। 

তবে এই অভ্যন্তরীণ লিংকগুলো যদি অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিকভাবে ব্যবহার করা হয় তাতে ভিজিটররা আগ্রহ হারাতে পারে। সার্চ ইঞ্জিনগুলোও এই ধরনের লিংকগুলোকে প্রতারণামুলক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

পরামর্শ:

  • একই বিষয় সম্পর্কিত ওয়েবপেজগুলোকে নির্দিষ্ট গ্রুপ করে সংরক্ষণ করুন।
  • অগুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা ও অকার্যকর লিংকগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর পর অনুসন্ধান চালাতে হবে।
  • অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাতে লিংক ব্যবহার চালাতে হবে।
  • অপ্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাগুলিকে লিংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

ওয়েবসাইটকে মোবাইল-বান্ধব ও দ্রুতগতি সম্পন্ন  করতে অর্থ খরচ না করা

এসইও অপ্টিমাইজেশন শুধুমাত্র কন্টেন্ট ও কিওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। এটি ওয়েবসাইটের কোয়ালিটির উপরেও নির্ভর করে। বিশেষ করে, ওয়েবসাইটটি মোবাইল বান্ধব কী-না সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারন মোবাইল-বান্ধব ওয়েবসাইট এখন ভিজিটরদের প্রধানতম পছন্দ।

আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল-বান্ধব না হলে Google সহ অন্য সকল সার্চ ইঞ্জিনই  এটিকে মোবাইল থেকে সার্চের ক্ষেত্রে প্রদর্শন করেনা। ফলে মোবাইল থেকে সার্চকৃত কিওয়ার্ডগুলোর ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটকে প্রদর্শন না করলে সাইটের র‍্যাংকিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া ধীরগতির সাইটগুলোকেও সার্চ ইঞ্জিনগুলো ফলাফল হিসেবে প্রদর্শন করেনা। ফলে সাইটে উচ্চগতি নিশ্চিত করাও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা প্রয়োজন।

মোবাইল-বান্ধব সাইটের ক্ষেত্রে যেসব ভুলগুলো সেগুলো হল-

  • সাইটের ধীরগতি।
  • ফাইল ব্লক করে রাখা।
  • ছবি ও ভিডিও লোডিং করতে বেশি সময় লাগা।
  • ভুল ও অসত্য কনটেন্টে পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট।
  • ওয়েব ডিজাইনের ক্ষেত্রে ত্রুটি।

পরামর্শ:

  •  ভিজিটরদের চাহিদামত সাইটের উচ্চ গতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • ওয়েবসাইটটির ডিজাইন মোবাইল-বান্ধব কী-না নিশ্চিত করতে হবে।
  • মোবাইলের জন্য উপযোগী আলাদা কন্টেন্ট তৈরী ভাল ফলাফল বয়ে আনবে।

তো, এই ছিল আমাদের আজকের আলোচনা। কন্টেন্ট নির্মানের জগতে এসইও হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এমনকি অনেক এসইও বিশেষজ্ঞরাও অজান্তেই এমন সাধারণ ভুলগুলো করে থাকে। তাই এসইও এর সাফল্যের ক্ষেত্রে এই ভুলগুলোর ব্যাপারে আগে থেকেই সচেতনতার প্রয়োজন। এতে এই ভুলগুলোকে এড়িয়ে চলা যায়। এই লেখাটির মাধ্যমে আশা করি এই ভুলগুলোর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়বে।

Share

Leave a Reply