গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার উপায়

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার উপায় – শিখতে কত দিন সময় লাগবে

গ্রাফিক্স ডিজাইন

বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে এ সেক্টরে দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রবেশ করার স্বপ্ন দেখে। এ প্রধানতম কারণ হলো প্রায় পেশা হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনের স্থিতিশীলতা, নিশ্চয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা।

তবে এক্ষেত্রে শুরুতে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সামান্য অসাবধানতাই গ্রাফিক্স ডিজাইনের মত বিশাল সেক্টরে আপনার জন্য অভিশাপ বয়ে আনতে পারে।

গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য বেশ কয়েকটি গ্রহণযোগ্য উপায় রয়েছে। তবে আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় শেখার মাধ্যমটিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি যথা- (১) পেইড মাধ্যম ও (২) ফ্রি মাধ্যম। কিন্তু আপনি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেন তা নির্ভর করবে আপনি কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন তার উপর। 

আপনার যদি মোটামুটি অংকের অর্থ ব্যয় করার মত সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনি প্রাতিষ্ঠানিক কোন মাধ্যম থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর উপর ট্রেনিং নিতে পারবেন। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকাধীন স্বনামধন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে যেখান থেকে আপনি আপনার ট্রেনিং সম্পন্ন করে নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ভুয়া ও প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করবেন। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে ও যাচাই বাছাই করেই এরপর ভর্তির সিদ্ধান্ত নিন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স ডিজাইন কেন শিখবেন?

আবার, আপনার যদি অর্থ ব্যয় করার মত সামর্থ্য না থাকে তাহলে ফ্রি মাধ্যমে কিছু কৌশল অবলম্বন করে  ইউটিউব, গুগোল ইত্যাদি সাইট থেকে ভিডিও দেখে মোটামুটি মানের গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখে নিতে পারবেন। এখন এই দক্ষতা দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করে অর্থ উপার্জন করুন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করে আরো উন্নত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কত দিন সময় লাগে?

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কত দিন সময় লাগে এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ প্রত্যেক মানুষেরই শেখার ধরণ ও সময় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কত দিন সময় লাগবে তা মূলত আপনার উপরেই নির্ভর করবে।

তবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার সময় ও দক্ষতা অর্জনের ধাপকে আমরা তিনটি লেভেলে ভাগ করতে পারি। এগুলো হলো- (১) Beginner (২) Intermediate (৩) Advanced। এ লেভেলগুলোর প্রতিটি অতিক্রম করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

যেহেতু গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার ব্যাপারটি কতগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার সঠিক সময়ে-কাল কোনোভাবেই কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে অভিজ্ঞরা গ্রাফিক্স ডিজাইনে পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সময় কাল হিসেবে দুই থেকে তিন বছর ধরে থাকেন।

এরমধ্যে Beginner লেভেলে দক্ষতা অর্জনের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮ মাস। এরপর Intermediate লেভেলে দক্ষতা অর্জনের জন্য এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লেগে থাকে। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ Advanced লেভেলে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে আরো এক বছরের মত বা আরও বেশি সময় দিতে হয়। তবে সবার ক্ষেত্রেই এর সময়কালটি যে ঠিক হবে তা কিন্তু নয়। এটি একটি গড় ধারণা মাত্র।

গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য যেহেতু একটা লম্বা সময় পাড়ি দিতে হয়, তাই দেখা যায় অনেকের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত আর শেখার আগ্রহ থাকে না। এর জন্যই এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুনদের ক্ষেত্রে বুঝেশুনে এ পেশায় নামার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কি কি সফটওয়্যার লাগে?

আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টর একটি সফটওয়্যার নির্ভর সিস্টেম। বর্তমান সময়ে সফটওয়্যার ছাড়া এ সেক্টরে ভালো কিছু করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে সফটওয়্যার এর বিকল্প কোনো কিছুই হতে পারে না। 

ফ্রিল্যান্সার মাসুমের সফলতার গল্প

গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টরে সাফল্য অর্জনের জন্য তাই অবশ্যই আমাদের সফটওয়্যারগুলোর সঠিক ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমান যুগ ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তাই আধুনিকতার ব্যবহার না করলে আমরা অন্যদের থেকে শতগুণে পিছিয়ে পড়বো।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে খ্যাতিসম্পন্ন কতগুলো সফটওয়্যার ব্যাপকভাবে  ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, Microsoft PowerPoint, Adobe Indesign, Canva, Designer, AutoCade, Blender ইত্যাদি।

এ সফটওয়্যার গুলোর প্রতিটির এক একটি বিশেষত্ব রয়েছে। তাই প্রতিটি সফটওয়ারের কাজ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তবে প্রাথমিকভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য আপনি Microsoft PowerPoint, Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, Canva এই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে পারেন। এরপর পরবর্তীতে Blender, AutoCAD, Maya এর মত এডভান্সড সফটওয়্যার গুলো নিয়ে কাজ করতে পারেন।

এই সফটওয়্যার গুলো সাহায্যে আপনি পোস্টার ডিজাইন, ইনফোগ্রাফিক ডিজাইন, প্রেজেন্টেশন স্লাইড, ফ্লেয়ার ডিজাইন, কভার ডিজাইন, ভেক্টর আর্ট, এনিমেশন, ফটোশপ এবং আরো অন্যান্য অনেক ধরনের কাজ শিখতে পারবেন।  

বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা কেমন?

আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইনের সূচনা লগ্ন থেকে আজ অব্দি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে বরাবরই দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের একটি অভাব শূন্যতা সব সময় পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই বরাবরের মতো আজকের দিনেও দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 

কিন্তু এখানে প্রাথমিক শর্ত থাকে যে আপনাকে অবশ্যই সৃজনশীল ও দক্ষ হতে হবে। কারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টরটি হচ্ছে আপনার ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতা দেখানোর জায়গা। তাই আপনি যদি সৃজনশীল না হয়ে থাকেন তাহলে হাজার হাজার গ্রাফিক্স ডিজাইনার প্রতিযোগীদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারেন।

তবে আশার কথা হচ্ছে সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীর আধুনিকতার সাথে সাথে গ্রাফিক্স ডিজাইনের নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। যা অপেক্ষাকৃত নতুন ও শিক্ষানবিশ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের মনে আশার আলো সঞ্চয় করছে। ভবিষ্যতেও যে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশা হিসেবে রাজত্ব করবে তার প্রমাণ হলো এর ক্রমবর্ধমান কাজের পরিধি। 

বর্তমানেও বড় বড় গ্রাফিক্স ডিজাইন ও টেক রিলেটেড কোম্পানিগুলোতে চাহিদার তুলনায় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের অভাব রয়ে গেছে। এছাড়া অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতেও দক্ষ ও সৃজনশীল গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের বরাবরই ঘাটতি থাকে। পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইনের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কারণে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে।

তাই এ পেশায় দক্ষ হতে পারলে বর্তমানে ও আগামীর দিনগুলোতে আপনার যে কোনো কাজের অভাব হবে না তা সহজেই অনুমেয়। আপনার সৃজনশীলতা কে কাজে লাগান ও লেগে থাকুন, সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনারের ভবিষ্যত কি?

প্রতিনিয়তই গ্রাফিক্স ডিজাইনের নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতেও যে গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টর আজকের মতোই রাজত্ব করবে তা আর নতুন করে বলার মতো কোনো বিষয় না।

আজকের দিনে আমাদের ব্যবহার্য প্রতিটি পণ্যের প্যাকেট থেকে শুরু করে, পোশাক, চেয়ার, টেবিল, ঘড়ি, ওয়েবসাইট, অ্যাপস, মোবাইল, ল্যাপটপ সবকিছুর আর্কষণীয় ডিজাইনের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে। এতসব কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও সৃজনশীল গ্রাফিক্স ডিজাইনারের প্রয়োজন। আপনি সে চাহিদা পূরণে একজন দক্ষ ও সৃজনশীল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন। 

ফাইভারে কাজ পাবার উপায়

বর্তমানের এই সময় আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির পাশাপাশি ফ্রিলান্সিং পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। এখন চাকরির বাজারের যেমন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের অভাব রয়েছে তেমনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টর একটি বড় অংশ দখল করে আছে। তাই আপনাকে কাজ পেতে যে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না তাতে আমি শতভাগ নিশ্চিত।

মজার বিষয় হলো একবিংশ শতাব্দীর পূর্বে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কাছে হাতে গোনা দুই একটি কাজের ক্ষেত্র ছাড়া কিছুই ছিল না। কিন্তু কম্পিউটার ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য বিস্তৃত কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। তাই আজ চারদিকে শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জয়জয়কার। সব শেষে একটা কথাই বলেই শেষ করতে চাই, যদি আপনে গ্রাফিক্স ডিজাইনে সঠিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে এর ভবিষ্যত নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবেনা।

Leave a Reply