লিড জেনারেশন কি?

লিড জেনারেশন কি? লিড জেনারেশন কিভাবে করে? লিড জেনারেশন আয়

একটি কোম্পানি বা প্রোডাক্ট তখনি সফলতা পায় যখন মানুষের কাছে প্রচলিত হয়। আমরা অনেকগুলো ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বা প্রোডাক্ট চিনি এবং ব্যবহার করি। এগুলো সম্পর্কে আমরা কীভাবে জানলাম? আমরা কি কখনো বাইরের দেশে গিয়ে প্রোডাক্ট সম্পর্কে জেনে আসি? এই প্রযুক্তির যুগে আমাদের এমন কিছুই করতে হয়না। আমরা ঘরে বসেই বিশ্বব্যাপী প্রচলিত সকল পপুলার কোম্পানি বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে জেনে নিতে পারি। আর এর সবটুকু সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কারণে। ডিজিটাল মার্কেটিং কে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। তবে আমাদের আজকের পোস্টে আমরা জানবো লিড জেনারেশন কি? লিড জেনারেশন কিভাবে করে? লিড জেনারেশন করে কত টাকা আয় করা যায়? লিড জেনারেশনের ভবিষ্যৎ কি? তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করি।

লিড জেনারেশন কি?

লিড জেনারেশন হল একটি তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কোন সার্ভিস বা প্রোডাক্ট প্রোমোশন বা বিক্রি করার জন্য টার্গেটেড কোম্পানি বা ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা। তথ্য গুলো সাধারণত ইমেইল, নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার ইত্যাদি হয়। আপনার ইমেইল এর স্প্যাম বক্স চেক করে দেখুন অনেকগুলো অচেনা অজানা মেইল পাবেন। খেয়াল করে দেখুন যে সোর্স থেকে মেইল এসেছে সেখানে আপনি কখনো সাবস্ক্রাইব বা রেজিস্ট্রেশন করেন নি, তাহলে এই মেইল কোথায় থেকে আপনার কাছে আসলো?

আপনার কাছে এভাবে অপরিচিত সোর্স থেকে মেইল আসার কারন কেউ আপনার ডাটা তাদের দিয়েছে। অনলাইনে এই ডাটার অনেক মূল্য এবং মার্কেটিং এর জন্য অনেক কার্যকরী একটি পদ্ধতি।

লিড জেনারেশন কিভাবে করে?

ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই লোকাল এবং ইন্টারন্যাশনাল লিড জেনারেট করতে পারবেন। লিড জেনারেশনের অনেক গুলো পদ্ধতি প্রচলিত আছে। আজকে আমরা লিড সংগ্রহ করার কার্যকরী উপায় সম্পর্কে জানবো।

লিড জেনারেশন একটি ক্রিয়েটিভ প্রক্রিয়া, এখানে নিয়ম মেনে সব সময় কাজ করতে হবে বা এভাবেই সব ডাটা খুঁজে পাবেন এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি নিজস্ব জ্ঞান বা ক্রিয়েটিভিটি ব্যবহার করে লিড জেনারেট করতে পারবেন। তবে কিছু পদ্ধতি আছে যেগুলো সহজেই আপনার কাঙ্খিত লিড আপনাকে জেনারেট করে দেবে, পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে একটু আইডিয়া নেওয়া যাক।

সেরা ১০ টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

গুগল সার্চ- লিড জেনারেশন এর জন্য গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন প্রথম ধাপ, কারণ আপনি আপনার নিজের নাম গুগল এ সার্চ করে দেখুন অনেক তথ্য পাবেন। লিড জেনারেশনে আপনাকে যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে তাদের ম্যাক্সিমাম তথ্য আপনি গুগলে পাবেন।

সঠিক ভাবে তথ্য বের করতে আপনার কিছু সার্চ টেকনিক জানতে হবে। সার্চ টেকনিক ব্যবহার করে সহজেই বিভিন্ন তথ্য বের করা যায়। ধরুন ক্লাইন্ট আপনাকে আমেরিকায় থাকা সব রিয়েল স্টেট কোম্পানির নাম বের করতে বললো। এখন আপনি যদি গুগলে শুধু রিয়েল স্টেট লিখে সার্চ দেন তাহলে পুরো পৃথিবীর রিয়েল স্টেট গুলো দেখাবে। কিন্তু আপনি যদি রিয়েল স্টেট ইন আমেরিকা লিখে সার্চ করেন তাহলে শুধু আমেরিকার রিয়েল স্টেট গুলো দেখতে পারবেন। অর্থাৎ আপনাকে ভালো করে গুগল বা সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে সার্চ করা জানতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া- আমরা যখন কোন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ওপেন করি তখন অনেক পার্সোনাল তথ্য দিতে হয়। এদের মধ্যে নাম এবং ইমেইল অবশ্যই দিতে হয়। যদিও প্রোফাইল থেকে এসকল পার্সোনাল ডাটা হাইড করে রাখা যায় কিন্তু বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে হাইড করা ডাটা সংগ্রহ করা যায়। যেমন লিংকডিন সেলস ন্যাভিগেটর নামে একটা টুল আছে যেটা দিয়ে ইউজারের প্রায় সকল তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আর মোটামুটি সব কর্পোরেট পারসন বা কোম্পানি লিঙ্কডিনে তাদের প্রোফাইল তৈরি করে রাখে। লিঙ্কডিন  বাদেও ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার সহ সকল পপুলার সোশ্যাল মিডিয়া লিড জেনারেশনের জন্য উপযুক্ত একটি মাধ্যম।

বিশেষ সার্চ ইঞ্জিন- Yelp নামে একটি সার্চ ইঞ্জিন আছে যা আপনাকে প্লাম্বার, রেস্টুরেন্ট, হোম সার্ভিস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বা পারসনের খোঁজ বের করে দেবে। এরকম অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে যেগুলো বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য তৈরি। কারণ আপনাকে যদি বলা হয় যে ভার্জিনিয়া তে যে যে রেস্টুরেন্ট আছে সেগুলোর ডাটা সংগ্রহ করে দিতে তাহলে গুগল এ সার্চ করে আপনি পর্যাপ্ত ডাটা পাবেন না। কিন্তু বিশেষ ভাবে তৈরি সার্চ ইঞ্জিন প্রতিটি রেস্টুরেন্ট এর তথ্য আপনাকে কোন ঝামেলা ছাড়াই দেখাবে।এরকম আরও অনেক টুল আর ওয়েবসাইট আছে যেগুলো লিড জেনারেশন আরও সহজ করে দিয়েছে। এদের মধ্যে Airbnb, Zillow, LinkedIn Sales Navigator ইত্যাদি অন্যতম। আমরা ইতিমধ্যে লিড জেনারেশনের বিভিন্ন টুল আর ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানলাম, এখন সফল ভাবে লিড জেনারেট করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো।

প্রথম ধাপ-  কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য যখন লিড জেনারেট করা হয় তখন কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন এই লিড আপনি কি কাজে ব্যবহার করবেন বা এই লিড এর উদ্দেশ্য কি? কারণ আপনার চাহিদার উপর ডিপেন্ড করবে কি কি তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এখন যদি আপনি ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য লিড জেনারেট করেন তাহলে শুধু নাম আর ইমেইল অ্যাড্রেস হলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে। অন্যদিকে আপনি যদি আপনার টার্গেটেড কাস্টমারদের রুচি বা পছন্দ সম্পর্কে গবেষণা করতে বা আইডিয়া নিতে চান তাহলে আপনাকে অনেক তথ্যই সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে শুরুতে নির্ধারণ করে নিতে হবে কি কি লিড আপনার প্রয়োজন।

দ্বিতীয় ধাপ-  আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আপনার কাস্টমার টার্গেট করে গুগল এ সার্চ করবেন। কারণ আপনার টার্গেট করা যত প্রতিষ্ঠান বা পারসন আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আপনি লোকাল সার্চ করার জন্য বিভিন্ন লোকাল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে আপনার মূল উদ্দেশ্য কাস্টমার খুঁজে বের করা।

ফাইভার কি? গিগ কি?

তৃতীয় ধাপ-  টার্গেট করা কাস্টমার খুঁজে বের করার পর আপনাকে তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করে দিতে হবে, এখানে আপনি চাইলেই কাস্টমারের সকল তথ্য পাবেন না। কারণ আপনি যে তথ্য খুঁজছেন তা পাবলিক প্লেসে রাখা হয়না। তবে নাম বা ঠিকানা এসব তথ্য সহজে পাওয়া গেলেও ইমেইল এবং ফোন নাম্বার পাওয়া খুব কঠিন। আর আপনার কাস্টমার সার্চ এ যদি কোন কোম্পানি পেয়ে থাকেন তাহলে সেখানে আপনাকে সচেতন ভাবে ডাটা নিতে হবে।

কারণ আপনার লিড জেনারেশনের উদ্দেশ্য আপনার পণ্য বা সার্ভিস এর মার্কেটিং করা। এখন কোন কোম্পানি মেইল এ যদি আপনি আপনার প্রমোশনাল মেইল সেন্ড করেন তাহলে কি কোন লাভ হবে? কিন্তু আপনি যদি সাইটের মালিক বা মেইন অ্যাডমিন কে মেইল সেন্ড করতে পারেন তাহলে কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য সফল হবে।

চতুর্থ ধাপ- তৃতীয় ধাপ থেকেও যদি আশানুরূপ ডাটা না সংগ্রহ হয় তাহলে আপনাকে কিছু ট্রিক্স ফলো করতে হবে। যেমন কোন ওয়েব পেজে যদি ইমেইল বা নাম ঠিকানা কিছুই না পেয়ে থাকেন তাহলে ভিউ সোর্স নামক অপশন ইউজ করতে পারেন। আর এই কাজটি আপনি করবেন কন্টাক্ট পেজ এ গিয়ে। সেখানে শুরুর দিকে আপনি অথর এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট আইডি বা অথর এর নাম পাবেন। এই তথ্য দিয়ে নতুন করে সার্চ করে কোন ভাবে ওই অথর কে পেয়ে গেলে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মেথড ব্যবহার করে আপনার কাঙ্খিত ডাটা সংগ্রহ করতে পারবেন।

পঞ্চম ধাপ- উপরে বর্ণনা করা কোন পদ্ধতি যদি কাজে না লাগে তখন আপনি লিড জেনারেশন টুল ব্যবহার করতে পারেন। টুল ব্যবহার করে অনেক সহজে এবং তাড়াতাড়ি ডাটা কালেক্ট করা যায়। এতো পরে এই পদ্ধতি বর্ণনা করার কারণ ম্যানুয়ালি করলে অনেক অর্গানিক ডাটা পাওয়া যায়। অন্য ক্ষেত্রে টুল গুলোর ফ্রী ভার্শনে অনেক লিমিটেশন আছে এবং কিছু কিছু টুল সম্পূর্ণ পেইড। ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য পেইড টুল ব্যবহার করে লিড জেনারেট করা অনেক ব্যয়বহুল।

বিশেষ টিপ- লিড জেনারেট করতে হলে আপনাকে সবসময় আপ-টু-ডেট থাকতে হবে। কারণ যতদিন ব্যবসা থাকবে লিড তত দিন লাগবে। লিড জেনারেশনের অনেক প্রচলিত পদ্ধতি থাকলেও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফোরাম, সোশ্যাল গ্রুপ অনেক কার্যকরী পদ্ধতি।

লিড জেনারেশন করে কত টাকা আয় করা যায়?

অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোয় চেক করলে আমরা লিড জেনারেশন নিয়ে অনেক জব পোস্ট বা গিগ দেখতে পাই। সেখানে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা শুধু লিড জেনারেশন করে মাসে ১০০ ডলার থেকে শুরু করে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করছে, এ কাজ অপেক্ষাকৃত সহজ হওয়ায় মার্কেটে অনেক কম্পিটিশন থাকে। কিন্তু তারপরেও এক্সপার্ট কিছু মানুষ আছে যারা এর দ্বারা অনেক স্মার্ট এমাউন্ট আয় করছে।

অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

লিড জেনারেশন এর ইনকাম ডিপেন্ড করে লিড এর সংখ্যার ওপর। কোন কোন প্রোজেক্ট এর জন্য ক্লাইন্ট ১ কে ডলার পর্যন্ত খরচ করে। তবে একবারে নিম্ন থেকে যদি অ্যাভারেজ হিসেব করা হয় তাহলে ৫০ ডলার থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করার সম্ভাবনা থাকে।অতএব বলা যায় শুধু লিড জেনারেশন করার মাধ্যমে অনেক ভালো ইনকাম করা সম্ভব।

লিড জেনারেশনের ভবিষ্যৎ কি?

২১ শতক থেকে পৃথিবীব্যাপী তথ্য নিয়ে সংগ্রাম শুরু হবে, অর্থাৎ আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারছি তথ্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, সে দিক থেকে বিচার করলে লিড জেনারেশন কখনো বন্ধ হবে না। যতদিন পর্যন্ত বিজনেস বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত লিড প্রয়োজন পরবে।

একটি কোম্পানি বা প্রোডাক্ট কে এগিয়ে নিতে এবং সফল ভাবে এর মার্কেটিং করতে লিড এর কোন বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে এই লিড জেনারেশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর ব্যবহার বাড়বে। মোটকথা লিড জেনারেশনের চাহিদা দিন দিন বাড়বে কমবে না।

লিড জেনারেশন ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বর্তমানে কোন বিজনেস সামনে এগিয়ে নিতে লিড অনেক ভালো গুরুত্ব রাখে। এই পদ্ধতি ব্যবহারের কারনে পণ্য খুব সহজে এবং ঝামেলাহীন ভাবে কাস্টমারের কাছে পৌঁছায়। আমাদের আজকের লেখায় আমরা লিড জেনারেশন সম্পর্কে অনেক বিষয় পরিষ্কার ধারণা পেলাম। লিড জেনারেশন করেও যে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব সে সম্পর্কে জানলাম। আশা করি আজকের লেখা আপনাদের অনেক অনেক ভালো লেগেছে ধন্যবাদ।

Leave a Reply