লিড জেনারেশন কি?

লিড কী? লিড জেনারেশন কি?

বর্তমান সময়ে অনলাইন ব্যবসার প্রসার বেড়ে চলেছে হুরহুর করে। দোকানিরা তাদের বেচা কেনাকে অনলাইনে রুপান্তর করার খুব তোড়জোড় শুরু করেছে। ফলাফল অনলাইনে সেলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, কম্পটিশন বেড়েছে। স্ট্যাটিস্টার হিসেব মতে এই বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতে বিক্রি হবে ১৯৫ কোটি ডলার। এছাড়াও ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ বা পেইজে রয়েছে আরো অনেক অনলাইন সেলার। সব মিলিয়ে ই-কমার্স ব্যবসা দেশে দারুণ জমে উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এত কিছু হচ্ছে মানলাম- কিন্তু এর সাথে লিড জেনারেশনের সম্পর্ক কী? হ্যাঁ সম্পর্ক নিশ্চয় আছে। আর সম্পর্ক কি তা জানতে আপনাকে পড়তে হবে পুরো লেখাটি। 

লিড কী? 

লিড জেনারেশন শুরু করার আগে লিড কি তা সম্পর্কে অবিহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিড হতে পারে ব্যক্তি বিশেষ, যিনি কোন প্রোডাক্ট কেনার জন্য কোন না কোন ভাবে আকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বা দিয়েছে।  

কোন ব্যাক্তি লিড কিনা তা বোঝা যায় ব্যক্তির পূর্বের কোন অর্গানাইজেশন বা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের ধরণ দেখে। অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠান যখন কোন কিছু সেল করার জন্য ট্রায়াল বা ফ্রি সাবস্ক্রিপশন দিয়ে থাকে তখন সেই অফার গ্রহন করতে ব্যবহারকারীকে কিছু ইনফরমেশন ব্যবহার করতে হয়। যেমন ইমেইল এড্রেস, নাম, ফোন নাম্বার ইত্যাদি। ব্যাক্তিটি যেই ধরণের ফর্মে তথ্য দিয়ে আসে সেই তথ্য অনুসারে বোঝা যায় তিনি কি ইনটেনশনে ফর্মটি পূরণ করছে।

ফ্রিল্যান্সার মাহমুদুল হাসান এর সফলতার গল্প জানতে এখানে ক্লিক করুন

একটু সহজ করে যদি বলি, কেউ যদি স্কিলশেয়ারের প্রথম দু মাসের ফ্রি ট্রিয়াল গ্রহন করার জন্য ইমেইল এড্রেস দিয়ে আসেন তখন সেই ফর্ম থেকে বোঝা যায় তিনি অনলাইন থেকে কিছু কেনার ধারণা বা সামর্থ রাখে, তাহলে ব্যাক্তিটি হবে একপ্রকার লিড, এরপর থেকে স্কিলশেয়ার আপনাকে প্রতিনিয়ত মেইল করতে থাকবে, তাদের নতুন নতুন অফার গুলো আপনাকে জানাতে পারবে। অর্থাৎ আপনার কাজের ধরন থেকে বোঝা যায় আপনি কি রকম লিড।      

লিড জেনারেশন কি?

যখন কোন ব্যাক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের কোন পণ্যের প্রতি ইনটারেস্ট দেখিয়ে থাকে, তখন তাকে লিড হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, এখানে ক্ষেত্র বিশেষে আলাদা আলাদা রকম রয়েছে, সবাইকে ঢালাও ভাবে লিড বলা যায় না। বড় বড় কম্পানীরা যখন কোন অফার দিয়ে থাকে, তখন তারা কাস্টমারের চেয়ে অফারের প্রতি বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকে। 

যারা মূলত কোন পন্যের প্রতি ইন্টারেস্ট প্রকাশ করে থাকে তাদের কে সম্ভাব্য কাস্টমারে রুপান্তর করার লক্ষ্যে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাকে বলা হয়  লিড জেনারেশন। বর্তমানে মডার্ণ ব্রান্ড গুলো লিড জেনারেশনের জন্য, এই পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করে। যেমন-

  • ব্লগিং
  • ইমেইল মার্কেটিং 
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 
  • নেটওয়ার্কিং
  • কুপনস
  • লাইভ ইভেন্ট এবং সেমিনার
  • ওয়েবসাইট ল্যান্ডিং পেইজ

এই রকম আরো বহু ছোট বড় অনেক রকম স্ট্রাটেজি ব্যবহার করে থাকে বিভিন্ন কোম্পনীগুলো লিড জেনারেশনের জন্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিডের প্রয়োজন বিভিন্ন রকম। তারা নিজস্ব উপায়ে লিড গুলো সংগ্রহ করে থাকে। 

লিড জেনারেশন কেন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ন?

যখন কোন ব্যক্তি কোন কিছুর প্রতি ইন্টারেস্ট দেখায়, খুব বেশি সম্ভাবনা থাকে সে নিকট ভবিষ্যতে পণ্যটি কিনতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যক্তিটি ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছে কিনা তা কিভাবে বুঝবো? হ্যাঁ, তা বোঝার অনেক উপায় রয়েছে। আপনার যদি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি গুগল এনালেটিক্স এর সাহায্য নিয়ে ভিজিটরদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করতে চান, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড ম্যানেজার আপনাকে অডিয়েন্সের তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করবে, যেমন ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার। 

ফাইভারে কাজ পাবার উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

একটি উদাহারণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ধরুন আপনি টেইলর সুইফ এর ফ্যান। সে তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার সময় স্পটিফাই এর একটি লিংক শেয়ার করেছে। হয়তো সেটি তার মার্কেটিং কিংবা গানের প্রচারের ক্ষেত্রে, সে বিষয়ে আমরা না যাই। এখন কোন ব্যক্তি যদি যদি টেইলর সুইফট এর পোস্ট থেকে শেয়ার করা স্পটিফাই এর ফেসবুক পেইজে আগ্রহ নিয়ে ক্লিক করে, তাহলে ফেসবুক তার থেকে একটি সার্বিক ধারণা নিয়ে থাকে। যেমন এক্ষেত্রে ফেসবুক যা ভাবতে পারে- 

  • লোকটি মিউজিকের প্রতি ইন্টারেস্টেড
  • টেইলর সুইফট এর অন্ধ ভক্ত
  • পপ কালচার/সঙ্গিত পছন্দ করে
  • স্পটিফাই কানেকশন এর প্রতি আলাদা ইনটেনশন আছে

আপাতত এইটুকুই যথেষ্ট, ফেসবুক এই তথ্য গুলো বিক্রি করতে পারবে। অ্যাড ম্যানেজারে ক্যাম্পেইন রান করানোর সময়, এখন যিনি স্পটিফাই শেয়ার বিক্রির জন্য অ্যাড ম্যানেজারে ক্যাম্পেইন রান করাবেন, তখন ফেসবুক এই ব্যক্তিটির আইডি সেখানে শেয়ার করবে, কারণ ফেসবুক জানে লোকটি আসলে কোন ইনটেশনে আছে। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মত, সাম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘দি সোশ্যাল ডিলেম্মা’ তে তারা উল্লেখ করেছে, ফেসবুক এটাও ট্র্যাক করতে পারে – একজন মানুষ কতক্ষন সময় ব্যয় করে একটি পোস্ট দেখছে। 

ফলে ফেসবুকের বুঝতে সুবিধে হয়, লোকটি আসলে মিউজিক বা স্পটিফাই এর প্রতি ইন্টারেস্টেড কিনা। যদি লোকটি বেশি সময় ব্যয় করে তাহলে বুঝতে হবে, সে স্পটিফাই পছন্দ করেছে এবং ফেসবুক তাকে স্পটিফাই এর একটি লিড হিসেবে কাউন্ট করা শুরু করে। ফলে ফেসবুকে যখন কেউ স্পটিফাই এর অ্যাড রান করানোর চেষ্টা করবে, তখন তারা লোকটিকে ঐ অ্যাড দেখাবে। মূলত লিড এইভাবে সাকসেসফুল হয়ে থাকে। 

এবার একটু ভিন্ন দিক দেখি, এই লিডের মাধ্যমে যদি অ্যাড ক্যম্পেইন গুলো রান না করানো হতো তাহলে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হতো। অনেকের কাছে মনে হতো তাদেরকে জোর করে কোন এড দেখানো হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যেত যে ব্যাক্তি স্পটিফাই সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাকে অ্যাড দেখানো হচ্ছে, এতে করে মূলত অ্যাড ক্যাম্পেইনার এর লস, কারণ এই ব্যক্তি কোনভাবেই সম্ভাব্য কাস্টমারের আওতা ভুক্ত হয় না। অতএব দেখা যাচ্ছে, লিড জেনারেশনের অবশ্যই গুরুত্ব আছে। সঠিক লিড না হলে সঠিক কাস্টমার পাওয়া যায় না। একমাত্র লিড জেনারেশনের মাধ্যমে মার্কেটিং মাধ্যম পারে আপনাকে সম্ভাব্য কাস্টমারের নিকট পৌঁছে দিতে। এছাড়া আরো কিছু সুবিধা রয়েছে লিড জেনারেশনের মধ্যে যেমন- 

লিড জেনারেশন করে আয়

  • সঠিক কাস্টমারকে টার্গেট করা- কোম্পানি এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাস্টমারের নিকট তাদের পন্য সরাসরি পোছাতে পারে, তাদের পূর্বের জানা লিড থেকে। এতে করে সময়ও বাচে টাকাও বাঁচে। এছাড়া সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে সেলও বৃদ্ধি পায়।
  • পন্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া / ব্রান্ড এওয়ারনেস সৃষ্টি করা- লিড জেনারেশন কাস্টমারের নিকট ব্রান্ড এর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে, ব্রান্ডের সঠিক ধারণা দিতে পারে। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য শেয়ার করতে পারে। পণ্যের সঠিক ফিচারগুলো সহজে গ্রাহকের সামনে তুলে ধরতে পারে। 
  • সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা- লিড জেনারেশনের মাধ্যমে একজন কাস্টমারের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলো সংগ্রহ করে রাখা যায়। যেটি ভবিষ্যতে বিজনেসের ক্ষেত্রে কাজে দেয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীক কাজে এই লিড গুলো বিক্রি ও করা যায়। অর্থাৎ একটি সম্ভাব্য কাস্টমারের তথ্য একবার কালেক্ট করতে পারা মানে হচ্ছে আজীবন তাদের নিকট ঐ ধরণের পণ্য গুলো বিক্রি করতে পারার সম্ভাব্যতা সৃষ্টি হয়। লিড অনেক রকম হয়ে থাকে, যেমন ফোন নাম্বার থেকে শুরু করে ইমেইল লিস্ট পর্যন্ত সব রকম লিস্ট যদি কালেক্ট করা যায়, তা পরবর্তীতে সম্পদে পরিণত হয়। 
  • ব্রান্ড লয়ালটি সৃষ্টি করা-  কোম্পানির বিভিন্ন সাক্সেস স্টোরি, স্যাটিসফাইং কাস্টমারের রিভিউ শেয়ার করে ইউজারদের মনে একটা শক্ত ভিত্তি সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তি যে কোণ রকম ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা দিয়ে থাকে কাস্টমার এবং বিক্রেতা উভয়কে। 

পর্যালোচনা

ব্যবসাতে ভালো লাভবান হতে হলে, কোয়ালিটি লিড কালেক্ট করতে হবে। শুধু শুধু অ্যাড ক্যাম্পেইন করে টাকা ঢেলে লাভ নেই, যদি না কোয়ালিটি লিড সংগ্রহ করা যায়। এজন্য একজন সাক্সেসফুল ডিজিটাল মার্কেটার হতে গেলে সঠিক এবং কার্যকরী লিড কালেক্ট করা শিখতে হবে। এই লিড গুলো হবে আপনার ভবিষ্যত ব্যবসার সম্ভল। 

Leave a Reply