ফ্রিল্যান্সিং গল্প

প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটার রবিউলের সফলতার গল্প – ফ্রিল্যান্সিং গল্প

অনলাইন সম্পর্কে কিভাবে জানতে পারলেন?

সময়টা তখন ২০১৩ সাল এস এস সি লাইফে ইলেক্ট্রিক্যাল সাব্জেক্ট নিয়ে পড়ালেখা করার সময় আমাদের স্কুলে অনেক গুলো কম্পিউটার আসে, যার কারনে পড়ালেখার মাঝে আমাদের ক্লাসে সবার মাঝে একটা আগ্রহ প্রকাশ পায় কিন্তু স্বাভাবিক  এই আগ্রহ কিছুদিনের মাঝে সবার ভেতর থেকে হারিয়ে যায়। এদিক থেকে আমি একটু আলাদা ছিলাম, যত দিন যাচ্ছিলো আমি সবার থেকে কম্পিউটার এর ব্যাপার গুলোর প্রতি অনেক বেশিই আগ্রহ ছিলাম । 

এর প্রধান কারন হতে পারে আমার এস এস সি পর্যন্ত আমার কাছে কোন মোবাইল বা টেকনলজি ডিভাইস ছিলো না, ছিলো শুধু স্কুলের সেই কম্পিউটার গুলোই । আর সেই থেকে প্রাথমিক ভাবে টেকি ডিভাইস গুলোর প্রতি আমার একটা ভালোলাগা কাজ করছিল এবং সেখান থেকেই আমার ফেসবুকে ও পদচারনা শুরু হয়,  আর সেই সময়ে  টেকটিউনস নামে একটি ব্লগ খুব জনপ্রিয় ছিল অনেকেই সেখানে লেখালেখি করত বিভিন্ন টেকি বিষয়ের উপর সেখান থেকেই আরো বেশি টেকনলজির ব্যাপার গুলো মাথায় ঢুকেছিলো আর আমার মনে হয় আমার মত অনেকের কাছেই এই টেকটিউনস নামের ব্লগ টা অনেক পছন্দের ছিল । তো সেখান  থেকেই মূলত অনলাইন আর্নিং এর উপর প্রথম কোন ভাইয়ের একটা লেখা পড়েছিলাম যে অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করা যায়। 

আমরা তখন নিম্ন মধ্যবিত্ত ছিলাম যার কারনে ঘরে বসে ইনকাম করাটা আমাদের কাছে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিলো না, এবং তখন সেই সময় ঘরে বসে ইনকাম করবো কোন একদিন এই কথাটা ভাবতেই ভেতরে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে উঠত । এখনো আমার সেই দিন গুলোর কথা মনে পড়ে যে আমার ভেতরে এই রকম একটা স্পৃহা ছিল যে এক দিন আমিও পারবো। 

এভাবেই চলছিল আর তখন আমার ফেসবুকে আমি অনলাইনে কাজ করে এমন মানুষদের আমার ফেসবুক প্রফাইলে এড করা শুরু করি, তবে শুরুর দিকে মনে আছে সবার প্রথমে আমার ফেসবুকে আর ফাউন্ডেশন কুস্টিয়ার রাসেল ভাইয়ের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। তখন উনি স্কিল ডেপলোপমেন্ট বা ওয়েব ডেভলোপমেন্ট গুলোর উপর অনেক লেখা লেখি করছিলেন, সেখান থেকে আরো নিশ্চিত হই যে আসলেই অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়।

কিন্তু শুধু পড়েই যাচ্ছিলাম কোন একশন তো নেওয়া যায়না কারন আশে পাশের এলাকার কেউ তখন ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন নিয়ে কোন লেখা লেখি বা এক্টিভিটি ছিল না ! যখন রাসেল ভাইএর ওয়েব ডেভলোপমেন্ট নিয়ে লেখালেখি পড়ছিলাম তখন আমি যারা ওয়েব ডেভলোপমেন্ট নিয়ে কাজ করছিলো আমি তাদের ফেসবুকে এড করা শুরু করি । এবং তাদের মাঝে বগুড়া থেকে আইটিনাট বা এই নেটকথার ফাউন্ডার রিহামের সাথে পরিচয় হয়। 

অনলাইন আর্নিং এর ব্যাপারে ফাইনালি তার থেকে অনেক লেখা বা টিপস ট্রিকস থেকেই মূলত শুরু যে আমিও একদিন তাদের মত ঘরে বসে আর্নিং করব। আর সেই সময় তার মত অনেকের সাথে পরিচয় হয় । কাজ শেখার প্রতি আগ্রহ ও দিন দিন বেড়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে এখন অনেকেই যেমন অনলাইন আর্নিং মানেই মাস শেষ এ অনেক টাকার স্বপ্ন দেখে আমার ক্ষেত্রে ব্যাপার টা ঠিক তেমন ছিলো না,  আমার মেইন উদ্যেশ্যই ছিল আমার স্কিল বাড়াতে হবে । আর এই স্কিল ই আমার সব কিছু নির্ধারন করে দিবে।

সব কিছু যখন নিজের সাথে নিজেই বুঝে উঠছিলাম তখন কিন্তু কিছু সমস্যা আসাই স্বাভাবিক যেমন আমি সারাদিন  মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতাম । ( এস এস সি শেষ করার কিছুদিন আগে আমি একটা নোকিয়া ক্লাসিক ফোন হাতে পেয়েছিলাম) । আর স্বাভাবিক ভাবেই ফ্যামিলি থেকে বকাঝকা খাওয়া লাগত কেন আমি সারাদিন হাতে ফোন নিয়ে পড়ে থাকি। তখন আমার মেইন চ্যালাঞ্জিং ব্যাপার হল বাবা মা কে ব্যাপার গুলো বুঝানো যে আমার কিছু করার আছে এগুলো ছাড়াও আমার নিজের জন্য সময় চাই । এই হাড় ভাংগা পরিশ্রম আমার দ্বারা সম্ভব না আমার এমন কিছু  চাই যেখানে আমি আমার মত করে কাজ করব আর আমার একটা ভাল ইনকাম থাকবে। 

আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার বাবা মাকে আমার কাজের ব্যাপার গুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম । আর সেই থেকে আমার জীবনের মোড় ঘুরে যেতে লাগল । একদিকে আমার অক্লান্ত শেখার প্রতি মনোভাব আর বাবা মার থেকে সাপোর্ট আমার আজো মনে আছে আমার বাবা আমাকে অনেক টা সাহস জাগিয়েছিল যে তুমি পারবে চেষ্টা করে যাও। সেই থেকে আমার চেষ্টার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে শুরু। 

কোথায় থেকে কাজ শিখলেন?

আরেহ ভাই সে এক লম্বা কাহিনী। এখান লেখতে গেলে আপনি ভয়ে এই স্টোরি পড়া ছেড়ে চলে যাবেন, যাই হোক যাইয়েন না আমি শর্ট করে বলি:

 যেহেতু আমার মেইন উদ্যেশ্য আমার স্কিল বাড়ানো বা নির্দিষ্ট কাজ শেখা তাই আমি স্কিল ডেভলোপমেন্ট এর জন্য যা হাতে কাছে পেয়েছি তাই দিয়েই শেখা শুরু করেছি।  একটা প্রত্যান্ত গ্রামে ছিলাম যেখান ২ জি ইন্টারনেট ই প্রধান ইন্টেনেট সেবা ছিল তখন সেই সময় থেকে আমি আনলিইটেড ২ জি ইন্টারনেট হাজার টাকা মান্থলি চালিয়ে আসছিলাম। 

কিন্তু সেই ইন্টারনেট দিয়ে তো আর কিছু হয়না,  বাধ্য হয়ে আমি ডিভিডি কোর্স কিনি আর আর ফাউন্ডেশন এর রাসেল ভাইয়ের ওয়েব ডেভলোপমেন্ট। কিন্তু ব্যাড লাক আমার দ্বারা কোন ভাবেই কোড লেখা সম্ভব ছিল না, তাই ৩ মাস পরেও যখন কিছু শিখতে পারছিলাম না তখন চলে গেলাম গ্রাফিক্স ডিজাইন সেকশনে, আবার এক ধাক্কা সফটওয়্যার পাওয়া নিয়ে।  কোন ভাবেই ফুল ফাইল গুলো পাওয়া যাচ্ছিলোনা । এভাবে যখন অনিশ্চিত ভাবে সব কিছুই শিখেও কোন কিছু শিখতে পারছিলাম না তখন খারাপ লাগা কাজ করছিল। 

কাজের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন

এভাবেই আমার ২ বছর কেটে যায় আর আমি অনার্স লাইফে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা শুরু করি । যখন ম্যাস লাইফে নতুন জীবন শুরু করলাম তখন থেকেই আবার আরেক ঝামেলা চলে আসলো মাথায় তা হল বাবা মা থেকে কিভাবে মাসে মাসে এভাবে টাকা চেয়ে যাবো,  এই ভাবনা থেকেই আমি তখন আবার মেন্টালি ভাবে প্রস্তুত হলাম আমি আবার শুরু করবো।

তখন আবার ফ্যামিলির কাছে ব্যাক করলাম ও তাদের আবার বুঝালাম উনারা আবার আমাকে সাহায্য করা শুরু করলেন। আলহামদুলিল্লাহ তখন শহরে ইন্টারনেট অনেক ভাল ছিল ও কাজ শেখার জন্য যথেষ্ট ছিল, আর সেই সুযোগ কে হেলায় না ফেলে শুরু করলাম আমার সেই পূর্বের মত স্কিল ডেভলোভমেন্ট করা। তখন ও ডিজাইন এর প্রতি অনেক ভালো লাগা কাজ করতো যার কারনে আমি এমন কিছু খুজতেছিলাম যেখানে আমি ডিজাইন এর মাধ্যমে একটা আর্নিং জেনারেট করতে পারবো। 

আর তখন ফেসবুকে একটা গ্রুপ পেলাম টিস্পিরিং বিডি যার এডমিন প্যানেল এ ছিলেন জাফর হোসাইন যাফি ভাই এবং মজার ব্যাপার হল আমি যখন টিস্পিরিং প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস সম্পর্কে জানতে পারি তখন যাফি ভাই বাংলাদেশ থেকে টপ সেলার হিসেবে পরিচিত হয়েছিল। তো স্বাভাবিকত ই আমি তখন যাফি ভাইয়ের গ্রুপ থেকে একটা ভাল মানে রিসোর্স পেয়ে গেছিলাম ও প্রিন অন ডিমান্ড নিয়ে ভাল একটা স্ট্রং জ্ঞান নিজের মাঝে উপলদ্ধি করতে পারছিলাম যে আমার দ্বারা কিছু হবে।

ইনফরমেশন কালেক্ট করাই আমার কাছে তখন প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে পড়ে আর তাই প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে যেখানে যা পেয়েছি তাই নোট করেছি। প্রিন্ট করেছি নোট করে নিয়েছি। আজো সেই নোট গুলো আমার ড্রয়ারে আছে মাঝে মাঝেই আমি সেগুলো দেখি । এই এক্টিভিটি গুলোই মূলত আমাকে অনেক দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। আর আমিও কাজ শেখার প্রতি নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাশী ছিলাম আর সেটাই আমাকে অনেক হেল্প করেছি। সহজ কথায় বলতে পারেন আমি অনেক বেশি শিখেছি সেই গ্রুপ থেকে যেখানে আমার প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর হাতে খড়ি হয়েছে। আমি আজো বা সারাজীবন ই হয়ত সেই গ্রুপ বা মেম্বার্সদের প্রতি ও এডমিন মডারেট দের প্রতি শ্রোদ্ধাভরে কৃতজ্ঞতার সহীত স্বরন করে যাবো। 

আর এসব কিছু বাহিরেও আমি সারাজীবন যাদের কাছে কৃতজ্ঞ তারা তো আমার বাবা মা । কারন উনাদের বিশ্বাস আমার প্রতি না রাখলে হয়ত কোন দিন ই আমি এখানে আসতে পারতাম না ! আমি মনে করি এই বিশ্বাস টুকু আমি তাদের মাঝে তৈরি করেছিলাম বলেই তারা আমাকে এভাবে সহায়তা করে গেছে।  আমি আশা করছি এভাবে আমার মত যারা স্ট্রাগল করে লাইফে সাক্সেস আনার চেস্টা করছেন আগে চেষ্টা করবেন নিজের আশে পাশের মানুষদের আপনার প্রতি একটা আত্নবিশ্বাস আনার ।

কাজ করতে গিয়ে কি কি অসুবিধায় পড়েছেন?

মূলত কাজ করতে গিয়ে আমাকে সে ধরনের কোন বড় অসুবিধায় পড়তে হয়নি। কারন বাংলাদেশে সব চেয়ে যে বড় ধরনের সমস্যা  হল ইন্টারনেট গত ও পেমেন্ট মেথড গত, কিন্তু সে দিক থেকে আমি এ ধরনের কোন সমস্যায় ফেস করিনি কারন প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস এর ক্ষেত্রে এত বেশি পরিমানে ইন্টারনেট বা গতি দরকার নেই আপনি যদি কোন ভাবে  আনলিনিটেড ও মিনিমাম একটা ইন্টারনেট এর গতির মাঝে থাকেন তবে অনায়াসেই প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর মত বিজনেস কে অনায়েসেই রান করা সম্ভব। আর পেমেন্ট মেথড গত প্রব্লেম আমি পেওনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার ক্রস এর মাধ্যমে সমাধান পেয়েছি । এর কারন বেশির ভাগ প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটপ্লেস গুলো পেমেন্ট মেথড হিসেবে পেওনিয়ার বা বাংক ট্রান্সফার রাখে!

আমি মূলত যখন ২০১৬ থেকে কাজ শুরু করেছিলাম তখন আমার প্রধান উদ্দ্যেশ্যই ছিল ইনফরমেশন কালেক্ট করা যা আমি আগেই বলেছি আপনাদের আর এ কারনেই আমার সব ইনফোরমেশন গুলো ছিল গোছালো তাই কোন অগোছালো তথ্য আমার মাথায় ভিড় না করার জন্য আমি মূলত আমার কাজ গুলো করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা ফেস করিনি। 

অনলাইন প্রফেশনালদের সাথে কিছু মুহূর্ত

তবে যখন কাজ করেছি বা কাজ শিখেছি তখন ছোট খাট কিছু প্রবলেম ফেস করছিলাম, সেই সময় বিভিন্ন গ্রুপ বা ইউটিউব এর মত প্লাটফর্ম থেকে খুব বেশি ইনফরমেশন না থাকলেও আমি সেখান থেকে যা পেয়েছি তা দিয়ে নিজে বার বার প্রচেষ্টা করে একটা অবস্থানে আসতে পেরেছি । এছাড়াও সেই সময় অনেক বড় ভাই যারা ভাল লেভেলের মার্কেটার হিসেবে মার্কেটে অনেক ভাল পজিশন এ ছিলেন তখন তাদের থেকেও আমি সহযোগিতা নিয়েছি । আমার এই সাফল্য বা অনুপ্রেরনায় অব্যশ্যই তারা আমার সাথে ছিলেন এবং আমি মন থেকে তাদের শ্রোদ্ধাভরে স্বরন করছি। 

সফলতা পেলেন কবে এবং কিভাবে?

সত্যি কথা বলতে সফলতা পাওয়ার জন্য আমাকে খুব বেশি স্ট্রাগল করতে হয়নি । এর প্রধান কারন আমি পুর্বেই বলেছি যে আমার সব ধরনের ইনফোরমেশন গুলো খুব দ্রুতই আমি আয়ত্বে আনতে পেরেছি প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখে গেছি ও একটা একটা করে প্লান সাজিয়েছি । ডিজাইনিং মার্কেটিং ও রিসার্চিং এর ব্যাপারে আমার সুন্দর একটা প্লান আছে সেগুলোকে আমি মূলত নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্লান মাফিক আমি কম্বাইন করি ও সেগুলো থেকে বেস্ট পটেনশিয়াল প্রফিট বের করে আনার চেষ্টা করি । 

আর এভাবেই প্লান মত আগানোর কারনে ঠিক ৪ মাসের মাথায় আমি প্রথম ১৫ ডলার এর একটা সেলস পাই ফাদার্সডের একটা ডিজাইন থেকে  আর মার্কেটপ্লেস হিসেবে ছিল Teespring.com  এর পর আমি চেস্টা করি যে ধরনের ডিজাইন গুলো থেকে সেল আশা শুরু করেছে সেই ধরনের আরো কোয়ালিটি ফুল ডিজাইন করে আমার স্টোরে আরো ডিজাইন প্রোর্টফোলিও বাড়াতে শুরু করি । এভাবে যখন আমি প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি ডিজাইন দেওয়া শুরু করলাম ঠিক তখন ই ফাদার্সডের একটি ডিজাইন অনেক বেশি সেলস হতে শুরু করে এই ১০০ ডিজাইন থেকেই এবং সেটা কোন রকম আমার ইনভেস্টমেন্ট বা পেইড এডস ছাড়াই। 

আর ঠিক এভাবেই সেই কৌশল গুলো আমি ফলো করে গিয়েছি এবং কিছুদিন পরেই আমি টিস্পিরং মার্কেটপ্লেস এ বড় কোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই টপ সেলার হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছি। বাংলাদেশ থেকে কিভাবে আমি টপ সেলার হয়েছিলাম সেই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনি ভিসিট করতে পারেন টিস্পিরিং এর অফিসিয়াল ব্লগ পোস্টঃ 

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি যখন এভাবে একটা নিউ মার্কেটপ্লেস এ এত বেশি পরিমান সেলস আশা শুরু করছিলাম তখন আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ওয়াও ! ইয়েস ই ক্যান ডু দিস! আলহামদুল্লিল্লাহ এর পর থেকে আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমার নিজের সর্বোচ্চ মেধা জ্ঞান ও কিছু বড় ভাইদের থেকে প্রিন্ট ওন ডিমান্ড বিজনেস ডেভলোপমেন্ট এর ব্যাপারে শিখতে শিখতে আমি নিজের  প্রিন্ড অন ডিমান্ড বিজনেস কে আরো কিভাবে স্কেলিং করতে হয় এগুলো নিয়ে জানতে শুরু করলাম। এবং শুরু থেকে ১ বছরের মাথায় আমি নিজের একটা অবস্থান খুজে পেলাম । 

অর্থাৎ  আমার ৬০০ টি কোয়ালিটিফুল ডিজাইন নিয়ে মার্কেটে লেগেছিলাম ও এগুলো আমাকে আশাহত করেনি আমার জন্য মাস শেষে একটা হ্যান্ডসাম এমাউন্ট এর প্রফিট দিয়ে যাচ্ছিল তারা। এভাবেই মূলত  আমার সাফ্যল্য আশা শুরু করে এবং আমি আমার প্রিন্ট অনডিমান্ড বিজনেস কে স্কেলিং করতে সক্ষম হই এবং আস্তে আস্তে মার্কেটিং ও প্যাসিভ আর্নিং এর দিকে ফোকাস করি । বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ আমি ডিজাইন পোর্টফোলিও বিল্ডিং করতে শুরু করি ও সবগুলো চ্যানেল থেকে আমার প্রফিট করতে সক্ষম হই ! 

এভাবেই ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমি প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস গুলো ভাল পরিচালনা করে যাচ্ছিলাম কিন্তু এর মাঝে জানুয়ারি মাসে আমার খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের থেকে আমি এমাজন কিন্ডেল ডিরেক্ট পাব্লিশিং কেডিপি বুক পাব্লিশিং সম্পর্কে নতুন জানতে পারি । এবং সেই সময়ে এমাজন কেডিপি নিয়ে খুব একটা কেউ জানত না বা রিসোর্স ছিল না যার কারনে আমাকে কিছুটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে। 

প্রথম দিকে বুক পাব্লিশিং এর কিছু বুঝতে না পারলেও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম বলে কিছু বুক পাব্লিশ করছিলাম এবং সেগুলো থেকে রেজাল্ট আশা শুরু করেছিল । যার কারনে আমি সেই পূর্বের মত আবারো সব কিছুর জন্য প্লান মাফিক এগোতে শুরু করলাম ইনফোরমেশন কালেক্ট করা শুরু করলাম ও সেই মত এগোতে থাকলাম। আলহামদুলিল্লাহ ঠিক ৫ মাসের মাথায় আমি ১ হাজার ডলার পার মান্থ এর একটি বুক সেলিং এর প্যাসিভ বিজনেস রান করতে সক্ষম হলাম। 

এর পর যখন আমি দেখলাম আমার মত এরকম আরো অনেকের সুযোগ আছে এই প্লাটফর্মে ভালো  কিছু করার তখন আমি বাংলাদেশে অনেক বড় ভাবে কিন্ডল ডিরেক্ট পাব্লিশিং এর পরিচয় করে দিয়ে একটা গ্রুপ খুলেছিলাম যার লিংক এখানে পেয়ে যাবেনঃ 

https://www.facebook.com/groups/455616135018538

এখানে আমি প্রতিনিয়ত আমার বুক পাব্লিশিং এর উপর টিপস ট্রিক্স গুলো শেয়ার করে যাচ্ছিলাম । সে সময় আমি বাংলাদেশে এত বড় ভাবে কিন্ডলে ডিরেক্ট পাব্লিশিং নিয়ে সবার মাঝে সঠিক ইনফোরমেশন গুলো শেয়ার করার একটু লাইভ কোর্স করানোর সিদ্ধান্ত নেই । এবং প্রথম বারেই আমার প্রায় ৫০ জন্য স্টুডেন্ট হয়েছিল ও তিন মাসের কোর্সের মাধ্যেমে কোয়ালিটি ফুল ইনফোরমেশন গুলো শেয়ার করার কারনে প্রায় ৯৫ ভাগ স্টুডেন্ট সফল ভাবে অনলাইনে আর্নিং করতে সক্ষম হয় ও মাসে ভাল একটা এমাউন্ট আর্নিং নিয়ে আসে । 

সব মিলিয়ে বলতে পারেন নিজেকে একজন সফল মেন্টর হিসেবে কিছু মানুষের কাছে তুলে ধরতে পেরেছি। বর্তমানে আমার এই বুক পাব্লিশিং এর উপর ফ্রি ও প্রিমিয়াম কোর্স আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনি এই ব্লগের শেষ এ জানতে পারবেন। আর এভাবেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি এবং আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভাল একটা পজিশনে আছি বলে মনে করছি। 

এখন বর্তমানে কি কি করছেন?

 বর্তমানে আমি এখনো সেই প্রিন্ড অন ডিমান্ড প্লাটফর্ম এর সাথেই আছি এবং এগুলোকে সর্বোচ্চ লেভেল পর্যন্ত আমি স্কেলিং করে যাওয়ার চেষ্টা করছি । যেহেতু প্রথম থেকে আমি প্যাসিভ আর্নিং এর প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী হয়েছি তাই আমি চেষ্টা করেছি যে ধরনের মার্কেটপ্লেস থেকে প্যাসিভলি অনেক ভাল সেলস বা আর্নিং জেনারেট হয় সেগুলোতে আরো ভাবে কাজ করার ।

আর তাই প্যাসিভ মার্কেটপ্লেস হিসেবে আমি এখন সবচেয়ে বেশি ফোকাস করেছি তা হল মার্চ বাই এমাজন , কিন্ডেল ডাইরেক্ট বুক পাব্লিশিং (KDP), এটসি ও এমাজন এফ বি এ সেলার সেন্ট্রাল এগুলো নিয়ে কাজ  করে যাচ্ছি এবং যেগুলোতে ডিজাইন এর মাধ্যমে আমি প্রিন্ড অন ডিমান্ড প্রডাক্ট গুলো সেলস করছি ! আলহামদুলিল্লাহ আমি এগুলো থেকে অনেক ভাল সাকসেস পাচ্ছি আশা করছি প্রিন্ট অন ডিমান্ড কে নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারব। 

বাবা ছেলে এক সাথে

 এছাড়াও এখন আমার ১০ জনের একটা প্রিন্ট অন ডিমান্ড মাস্টারমাইন্ড টিম আছে যারা রিসার্চ ডিজাইনিং প্রোডাক্ট ক্রিয়েশন ও পাব্লিশিং এর ব্যাপারে আমাকে হেল্প করে এছাড়াও আমার বর্তমানে কিন্ডেল ডাইরেক্ট পাব্লিশিং এর উপর একটি ব্যাসিক টু এডভ্যান্স কোর্স আছে যেখানে আমার প্রায় ২০০ জন প্রিমিয়াম স্টুডেন্ট আছে এবং আমি তাদের জন্য প্রিমিয়াম মানের কন্টেন্ট প্রোভাইড করে যাচ্ছি নিয়মিত। এছাড়াও বিজনেস কে স্কেলিং করার জন্য যা করার দরকার তা করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

আপনি কি নিজেকে সফল মনে করেন?

আসলে সত্যিকার বলতে সফলতা হচ্ছে এমন একটি জিনিস যা ব্যাক্তি ভেদে এটা নির্ভর করে। কারো কাছে মিলিয়ন ডলার এর বিজনেস স্কেলিং করে বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া একটা সফলতা বা কার কাছে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অল্প পরিমানে আর্নিং করে ও সেটার মাধ্যেম নিজের জীবন পরিচালনা করাও সফলতা । 

আমার ক্ষেত্রে যদি ধরেন তবে বলব আলহামদুলিল্লাহ আমি কত টা সফল সেটা বলতে না পারলেও অসফলতার কিছু আমি এখনো পাইনি। যখন থেকে আমি প্রিন্ড অন ডিমান্ড বিজনেস  শুরু করেছি আজ পর্যন্ত আমাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এবং প্রতিনিয়ত আমি এখান থেকে উন্নতি করে গেছি ও জীবনের প্রথম মেন্টরিং করেছি যেখানে আমার স্টুডেন্টদের সাক্সেস রেট প্রায় ৮৫% এর উপরে।  এছাড়া এগুলোর পাশাপাশি নিজের বিজনেস স্কেলিং করে যাচ্ছি ও সেই সাথে ১০ জনের একটা টিম পরিচালনা করছি।  এটাই আমি আমার সফলতা হিসেবে দেখছি এবং ভবিষ্যতে এটা বজায় রাখার জন্য আমার টীম ও আমার স্টুডেন্টদের নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি ।

তবে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি মানুষের কাছ থেকে বলতে পারেন এটাই আমার সফলতা যে নিজে আর্নিং করি এবং কিছু মানুষকে ইনকামের রাস্তা দেখিয়েছি ও আলহামদুলিল্লাহ তারাও ভাল করছে।

বর্তমানে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বা POD এর চাহিদা কেমন?

OMG ITS AMAZING ,  এই প্রশ্ন টার উত্তর আমি মনে করি আমাকে অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিলো যাই হক এখন দিচ্ছি ! ব্যাপারটা হচ্ছে সহজ কথায় যদি বলি তবে বলব বর্তমানে প্রিন্ট অন ডিমান্ড অন ফায়ার বিজনেস ! অর্থাৎ এটি একটি সুপার ডুপার স্কাই রকেট গতিতে চলছে। একটা জিনিস ভেবে দেখেন বর্তমানে এই কোভিড ১৯ এর কারনে মাস্ক একটি আব্যশ্যক জিনিস হয়ে গেছে আমাদের । এখন এই মাস্ক আমরা বাংলাদেশে যেমন ইচ্ছে তেমন পড়লেও কিন্তু অন্য দেশের এর চেয়ে কাস্টম মাস্কের চাহিদা অনেক বেশি। 

এখন কাস্টম মাস্ক একজন ব্যক্তি কোথা থেকে পাবে ? সে কি নিজে বানাবে? অবশ্যই  না !  আর এখানেই লুকিয়ে আছে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস এর মজা ! আপনি চাইলে যে কোন একজন ব্যাক্তির পছন্দ মত কোন বিষয়ের  উপর মাস্ক তৈরি করে মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বা এডভ্যাটারাইজিং করে আপনি সেই ব্যাক্তির কাছে পৌছালেন যার অই মাস্কটি খুব দরকার সেই ব্যাক্তি সেটি পরে অনেক ভাল অনুভোব করবে। আর এখানেই প্রিন্ড অন ডিমান্ড মার্কেটারদের সার্থকতা যে তার ডিজাইন করা বা সেলস করা কোন প্রোডাক্ট কেউ কিনে সেটা ইউজ করছে।

আর এরকম হাজারো প্রোডাক্ট আছে প্রিন্ড অন ডিমান্ড এর মাধ্যমে সেল করার যার কারনে এর চাহিদা দিন দিন অনেক গুন এগিয়ে যাচ্ছে। কাস্টোম টি-শার্ট জুয়েলারি মগ ক্যানভাস এবং বুক  এগুলোর মধ্যে অনেক পপুলার প্রোডাক্ট । আর সব চেয়ে মজার ব্যাপার হল এই প্রডাক্ট গুলো মানুষের অতি দরকারি জিনিস হবার কারনে এগুলো থেকে অনেক বেশি রেসস্পোন্স পায় একজন মার্কেটার !  আশা করি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি কেন প্রিন্ড অন ডিমান্ড বিজনেস অন ফায়ারে আছে সেটা নিয়ে একটু ধারনা দিতে পেরেছি ।

এখন যদি আপনাকে বলি যে প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর চাহিদা কেমন তা হল , আমি যখন ২০১৬ সালে প্রিন্ট অন ডিমান্ড শুরু করি তখন মার্কেট এ মাত্র অল্প কিছু প্রিন্ড অন ডিমান্ড মার্কেটপ্লেস ছিল । যেমন এমাজনের একটি প্লাটফরম মার্চ বাই এমাজন , টিস্পিরিং, ভাইরালস্টাইলস এর মত কিছু মার্কেটপ্লেস । কিন্তু এগুলোর সাফল্য পাওয়ার কারনে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্লাটফর্ম গুলো সেই সাথে বাড়তে থাকে প্রডাক্ট এর চাহিদা। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেবার কারণে মার্কেটাররা তাদের পছন্দ মত মার্কেটপ্লেস খুজে নেয় ও সেগুলোতে সেলস করে। 

এছাড়াও বর্তমানে কিছু হট মার্কেটপ্লেস আছে সেগুলো হল মার্চ বাই এমাজন ,শপিফাই প্রিন্ড অন ডিমান্ড , টি-পাব্লিক , রেডবাবল এমাজন কিন্ডেল ডাইরেক্ট পাব্লিশিং  ও এরকম আরো অনেক মার্কেটপ্লেস। মার্কেটপ্লেস গুলো যেমন হট সেই সাথে প্রডাক্ট গুলো হট এর প্রধান কারন ই হল মানুষের চাহিদা । ধারনা করা হচ্ছে আগামি ২০২৭ সালের মধ্যে পৃথীবীর বড় বড় বিজনেস এর মধ্যে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস ও জায়গা করে নিবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর চাহিদা এখন কেমন! 

আপনার কাজটা টিম ভিত্তিক কিভাবে করা যায়?

প্রত্যেক কাজের বড় একটা সফলতা নির্ভর করে একটা গ্রেট টিমের উপর। আপনার যদি নলেজেবল একটা গ্রেট টিম থাকে তবে আপনি যে কোন কিছু করতে পারবেন । আর ঠিক প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস ও এর বাইরে না। আমি যখন প্রথম নিজে একা একা শুরু করেছিলাম তখন আমাকে একাই রিসার্চ ও ডিজাইনিং ও মার্কেটিং করতে হত । যার কারনে আমি বেশি দূর এগোতে পারছিলাম না। 

কিন্তু নিজের আস্তে আস্তে আমার কাজ গুলো টিম ভিত্তিক করা শুরু করলাম তখন আমি নিজের ইমপ্রুভমেন্ট বুঝতে পারছিলাম ! যেখানে টিমের একজন রিসার্চ করবে একজন ডিজাইন করবে ও একজন মার্কেটিং এর ব্যাপারে নজর রাখছিলাম তখন থেকেই নিজের একটা ইমপ্রুভমেন্ট বুঝতে পেরেছি। 

যার কারনে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি প্রিন্ট অন ডিমান্ট হল একটি পারফেক্ট বিজনেস সিস্টেম যেখানে টিম ভিত্তিক কাজ করার অনেক সুফল আছে ও একটি খুব দ্রুত মার্কেট ডমিনেট করতে সাহায্য করে।  একটি টিমের মধ্যে একজন রিসার্চার থাকতে পারে যিনি মার্কেট রিসার্চ করবে ও ট্রেন্ডিং ব্যাপার গুলো খুজে বের করবে আর দুই একজন ডিজাইনার থাকতে পারে যার কাজ হবে মার্কেট এর ট্রেন্ডিং ডিজাইন গুলো তাদের টিমের জন্য তৈরি করা ও প্রোডাক্ট মেকিং এর কাজে মার্কেটার কে হেল্প করা যিনি মার্কেটিং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে  এই ডিজাইন বা প্রোডাক্ট গুলো তুলে ধরবে।  এভাবেই এই প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস এ টিম ভিত্তিক কাজ করে এগিয়ে যাওয়া যায়। আর আমিও ঠিক এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি । আলহামদুলিল্লাহ এখন আমার ১০ জনের একটা টিম আছে যারা আমার সাথে খুব ওতপ্রোত ভাবে আছে ও আমাদের টীমের সফলতা বজায় রাখার জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছে ! আমাদের সকলের জন্য আপনার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। 

Print On Demand বিজনেস এর ভবিষ্যৎ কি?

আমি প্রথমেই বলেছি বর্তমানে এটি একটি অন ফায়ার বিজনেস আপনি যাস্ট মার্কেট রিসার্চ আর গ্রেট ডীজাইন ও মার্কেটিং স্কিলের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছাতে পারলেই বুম যদিও এর জন্য আপনার কঠোর পরিশ্রম ও লেগে থাকার ম মানুসিকতা থাকতে হবে! 

এখন মানুষের ঘরে বসে শপিং এর চাহিদা অনেক বেশি সেই কারনে মানুষ অনলাইন থেকে কাস্টোম প্রডাক্ট পেতে অনেক ভালোভাবে ও দিন দিন সব ধরনের প্রোডাক্ট এর চাহিদা বাড়ার কারনে প্রিন্ড অন ডিমান্ড বিজনেস এর প্রফিট বেড়েই চলছে এবং এ রকম চাহিদা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে ও প্রিন্ড অন ডিমান্ড বিজনেস ও এই চাহিদার প্রতিফলন ঘটবে বলেই এর ভবিষ্যত অবশ্যই ভালো বলে মনে করছি । 

যখন আমি প্রথম প্রিন অন ডিমান্ড শুরু করি ঠিক তখন আমার যে পরিমান সেলস আসত এখন তার ৬৫ গুন বেড়ে গিয়েছে । যা দিন দিন আরো বাড়বে বলে মনে করছি । যেহেতু এই হিসেব গুলো আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি তাই হিসেবের ক্ষেত্রে অন্যের সাথে  কম বেশি হতে পারে। কিন্তু আসলে প্র্যতেকটা প্রিন অন ডিমান্ড মার্কেটার দের ই সমান তালে বাড়ছে বলে মনে করছি ! 

আর এ ধরনের গ্রোথ দেখেই মূলত আমি বলছি পূর্বে প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর ভবিষ্যত যা ছিল তা থেকে অনেক উজ্জল এখন এবং সাম্নের দিনে এর ভবিষ্যত আরো ভালো ভাবে বাড়বে। কেউ যদি প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে লেগে থাকে ও মার্কেট এর সঠিক চাহিদা বুঝতে পারে ঠিক টাইমে তিনি ঠিকি অনেক বড় একটা এমাউন্ট এর প্রফিট করতে পারবে এই প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটপ্লেস থেকে ! 

যারা নতুন প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে কাজ করতে চায় তারা কিভাবে এটি শুরু করতে পারে?

প্রিন্ট অন ডিমান্ড সব বিজনেস থেকে একটু আলাদা এখানে মার্কেট রিসার্চ ও মানুষের পছন্দের জিনিস গুলোর উপর অনেক বেশি বিবেচনা করতে হয়। আর তাই নতুন রা এসেই যে ভাল করতে পারবে ব্যাপার টা ঠিক সেরকম না । এখানে ভাল করতে হলে ভাল লেভেলের একটা হার্ডওয়ার্ক ও  ডেডিকেশন নিয়ে আসতে হবে। 

প্রাথমিক ভাবে প্রত্যেকটা মার্কেটপ্লেস এর উপর পড়াশুনা করতে হবে নিশ আইডিইয়া ফাইন্ডিং করতে হবে কম্পিটিটর দের বিট করার মত  ডিজাইন লাগবে আর যা প্রথম দিকে একজন মার্কেটারের পক্ষে সব কিছু একসাথে হ্যান্ডেল করা সম্ভব না ! কিন্তু লেগে থাকলে আস্তে আস্তে সব ই জানা সম্ভব আর তাই নিউবিদের জন্য এই প্লাটফর্মে কাজ করার পুরো ব্যাপার টা নির্ভর করবে ইনফোরমেশন কালেক্ট করা ও প্লান তৈরি করে সেই ভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারলেই সাফল্য খুব দ্রুতই ধরা দিবে বলে মনে করছি ! 

কুয়াকাটা ভ্রমণের মুহূর্ত

খুব ছোট করে যদি বলি আপনি যদি একজন নিউবি হন তবে আপনি কিভাবে এই প্রিন্ট অন ডিমান্ডে সফল হবেন তা হল, প্রথমে আপনাকে একটি মার্কেটপ্লেস চয়েস করে নিতে হবে,  এর পর আপনাকে মার্কেট রিসার্চ অর্থাৎ আমাদের ভাষায় যাকে বলি নিশ সিলেকশন করতে হবে , সেই নিশের উপর ডিজাইন মেকিং করে আপনার পছন্দ মত মার্কেটপ্লেস এ তা পাব্লিশ করতে হবে । 

আপনে যদি প্রথম থেকেই এই ডিজাইন টি সবার সামনে তুলে ধরতে চান সেক্ষেত্রে আপনে চাইলে ফেসবুক এডস বা গুগর এডস এর মাধ্যেমে করতে পারবেন । আর এ ছাড়াও অনেক প্যাসিভ মার্কেটপ্লেস সাইট আছে যেগুলোতে শুধু ডিজাইন সাবমিট করেও সেখান থেকে কমিশন জেনারেট করা যায়। এভাবে মূলত একজন নিউবি শুরু করতে পারে ও এই শুরু করার মাধ্যেমে তিনি দিন দিন এই মার্কেট এর ভ্যালু ও বিস্তারিত সব ইনফো গুলোতে হাতে আসতে থাকবে ও সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।  এভাবেই মূলত একজন নিউবি চাইলে এই বিজনেস শুরু ও এখান থেকে একটা প্যাসিভ এমাউন্ট এর রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারে ! 

[KDP এর সাথে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিন। আমরা জানি এটা নতুন সেক্টর]

KDP জিনিসটা কি? এবং কিভাবে কাজ করে?

KDP  হল কিন্ডেল ডাইরেক্ট পাবিশিং এটি মূলত এমাজন এর একটি সাব বিজনেস সেকশন যেখানে একজন ব্যাক্তি চাইলে প্রিন্ট ভার্শন ও ডিজিটাল ভার্ষনের বুক পাব্লিশ করতে পারে। এই প্লাটফরর্মে আপনি চাইলে কিন্ডলের ভার্শন এর ডিজিটাল বুক ও পেপারব্যাক বা প্রিন্ট ভার্ষনের এর মাধ্যমে নোটবুক জার্নাল ও প্লানার বা এরকম হাজারো রকম বুক পাব্লিশ করতে পারবেন। প্রতিটি বুক এর এভারেজ প্রাইস হয় ৩.৯৯ থেকে ৭.৯৯ এর মত সেখানে প্রতি বুক সেলস এর আপনি প্রফিট পাবেন ১.৫০-২ ডলার করে। আপনার কোন একটি বুক হাজারো বার সেলস হতে পারে আর যার কারনে আপনি প্রতি সেলস এই আপনার সেই রয়ালিটি আপ্নি পেতে পারেন।  প্লাটফরম টি একেবারে নতুন কিন্তু যারা প্যাসিভ আর্নিং এর স্বপ্ন দেখেন বলতে পারি তাদের জন্য একটা সম্ভবনাময় মার্কেট। 

KDP তে কাজ করে কেমন আর্নিং করা যায়?

কেডিপি প্লাটফর্ম টা একটা প্যাসিভ আর্নিং সিস্টেমের মত কাজ করে, অর্থাৎ আপনি এখন যদি এখানে কাজ করেন বা কিছু  বই পাবলিশ করেন তবে সেটা যে কোন সময় থেকে সেলস আসতে পারে বা কোন বুক যদি সেলস আশা শুরু করে তবে সেখান থেকে আপনি ভাল একটা এমাউন্ট এর রয়ালিটি আর্ন করতে পারবেন । 

যত বেশি কোয়ালিটি বই আপনি পাব্লিশ করে যাবেন তত বেশি বই আপনি সেলস করতে পারবেন। অব্যশ্যই কোয়ালিটি অনেক বড় একটা ইস্যু এখানে, এমাজনে ডিজাইন চুরি করা বা অন্যের ডিজাইন নিজের বলে চালানো অথবা বড় বড় কোন মুভি বা ট্রেডমার্ক এর কোন ইস্যু নিয়ে কাজ করলে আপনি সাথে সাথে ব্যান খেয়ে যেতে পারেন।  এগুলো এডিয়ে আপনি যদি এখানে ভাল ভাবে কাজ করতে পারেন তবে ভাল একটা এমাউন্ট এখান থেকে আর্নিং করতে পারবেন বলে মনে করছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি যে আপনি যদি কোয়ালিটি সম্পন্ন ৫০০ টি বই পাবলিশ করেন তবে আপনি এখান থেকে ৫০০-২০০০ পর্যন্ত আর্নিং করতে পারবেন । অবশ্যই সেটা নির্দিষ্ট টাইম বা আপনার অভিজ্ঞতা উপর ভিত্তি করেই সেটা সম্ভব।  আশা করছি বুঝতে পেরেছেন আর্নিং টা এখানে লিমিট না হলেও মূলত কত টা কাজ আর মান সম্পন্ন বই পাবলিশ করে যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করছে আপনার আর্নিং। 

এই প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ কি?

আমি পূর্বেই বলেছি কিন্ডলে ডাইরেক্ট পাব্লিশিং হল এমাজনের একটি প্লাটফর্ম যার কারনে এর ফিউচার নিয়ে চিন্তা করার কোন অবকাশ নেই । হয়ত অনেকেই জানেন এমাজনের প্রথম যাত্রাই হয়েছিল বুক বিজনেস দিয়ে যা তারা এখন ডিজিটাল ভাবে পরিচালন করছে যার কারনে বলতেই পারছি এ ভবিষ্যতে এই বিজনেস কত দুর এগিয়ে যাবে। এছাড়াই এই প্লাটফর্মের সাথে যুক্ত আছে হার্ড কাভার , এমাজন ইগনাইট, অডিয়েবল এর মত বড় বড় সেক্টর তাই আমরা এই প্লাটর্মের ভবিষ্যত অনেক ভালো হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি। 

আপনি নিজেকে ৫ বছর পর কোন পর্যায়ে দেখতে চান? আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

অনলাইন সেক্টরে নির্দিষ্ট একটা স্কিল নিয়ে লাইফ টাইম টিকে থাকা যাবে না, যদি না আপনি সময়ের সাথে নিজের স্কিলকেও আপডেট করে না নেন। এই ব্যাপার টা আমি প্রথম থেকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছিলাম। যার কারনে আমি প্রতিনিয়ত চেস্টা করে গিয়েছি যে কিভাবে আমি এখানে আরো উন্নতি করব এবং ভবিষ্যতে এ ধারা বজায় রাখব। পূর্বের ৫ বছরের কথা যদি চিন্তা করি তবে আমি দেখতে পাই আমার অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এবং পরের ৫ বছর ও এভাবেই পরিবর্তন এর মাঝ দিয়েই যাবে। 

এর মাঝে আমি চেস্টা করব আমার টিম মেম্বার্স দের নিয়ে একটা বড় প্যাসিভ আর্নিং এর সুব্যাবস্থা রাখা এবং সেই সাথে প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর পাশাপাশি  এরকম আরো যে অনেক অপর্চুনিটি আছে সেগুলো গ্রাব করে নিজের স্কিল ও টিমের মেম্বার্সদের স্কিল ডেভলোপমেন্ট করে সমইয়ের সাথে নিজেদের আপডেট রাখা । আপাতত এটাই আমার ফিউচার প্লান দেখা যাক আল্লাহ ভরসা কি হয়। 

[একটা ফানি প্রশ্ন করি কিছু মনে করবেন না]

শুনেছি ফ্রিল্যন্সারদের নাকি বিয়ে হয়না শ্বশুরকে বুঝাতে পারেনা বলে। আপনি অনেক আর্লি ম্যারেজ করতে পেরেছেন আলহামদুলিল্লাহ্‌। তো শ্বশুরকে আপনার পেশা সম্বন্ধে বুঝালেন কি করে?

প্রশ্নটা ফানি হলেও এটাই বাস্তব যে ফ্রিল্যান্সারদের বিয়ে করার সময় এগুলো নিয়ে পাড়া প্রতিবেশিদের মাঝে অনেক বেগ পেতে হয় তাদের বুঝাতে যে কিভাবে কি করা হয় । আমার ক্ষেত্রে আসলে এরকম কোন ব্যাপার ছিলোনা সচরাচর ই নিজের ভাল অফলাইন বিজনেস থাকার কারনে মূলত ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এতটা কেউ মাথা ঘামায়নি ।

ইন্ডিয়া ভ্রমণের সময়

 কিন্তু বিয়ের পর আমি চেষ্টা করেছি আমার সব ব্যাপার গুলো পরিষ্কার একটা ধারণা দেওয়ার যাতে তারা এগুলো নিয়ে কিছুটা ধারণা পায় । যদিও প্রথম দিকে তারা এই ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপার টা ভাল ভাবে নিতে পারছিল না কিন্তু যখন ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যেমে আমি আমার পরিবর্তন আনছিলাম তখন তারা ঠিকি বুঝে নিয়েছে যে হ্যাঁ এখানেও ভাল কিছু করা সম্ভব । 

আর আমি আর একটা ট্রিক খাটিয়েছিলাম যেটা আমাকে আরো তাদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করতে সাহায্য করেছিল তা হল আমার আশে পাশে থাকা কিছু ছেলে মেয়েদের ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক ধারনা ঢুকাতে পেরেছি ও তারা একশন নেওয়াতে তারাও ভাল করতে শুরু করে । এবং ফাইনালি আমি এই সমস্যা থেকে একেবারেই মুক্তি পেয়ে যাই যে জামাই কি করে! হাহহাহা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।  

বাংলাদেশে যারা আপনার সেক্টরে কাজ করছে তাদের ব্যাপারে সর্বশেষ কিছু উপদেশ দিন

সর্বোপরি প্রথমেই বলব যে আমার উপদেশ দেবার মত অবস্থা এখনো হয়নি। কিন্তু তার পরেও যেহেতু এই জগতে আছি নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ তো থাকেই। 

১। ইন্টারনেট এ নিজেকে স্কিল্ড করার অনেক বিষয় আছে যে কোন একটি সিলেক্ট করুন ও তার পেছনে নিরবিচ্ছন্য সময় দিন । দেখবেন ঠিক টাইমে নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর পাশাপাশি আর্নিং টা চলে আসবে। 

২। প্রিন্ট অন ডিমান্ড অনেক বড় একটা মার্কেট এখানে ভাল কিছু করতে গেলে আপনাকে খুব ক্রিয়েটিভ মাইন্ডের হবার চেষ্টা করতে হবে। কারন আপনার একটা ডিজাইন মানুষ পরিধান বা ব্যাবহার করবে এবং নিজেকে এক্সপ্রেস করবে এটা কোন সহজ ব্যাপার না। তাই এই বিজনেস এ সব সময় ই চোখ খোলা রেখে বুঝতে হবে এখন মার্কেট এর কিসের চাহিদা বেশি হবে । 

৩। স্মার্ট মার্কেটার এর মত খেলা শিখতে হবে এর মানে হচ্ছে শুধু একটা স্কিল নিয়ে পড়ে থাকলেই হবেনা মার্কেটপ্লেস, অডিয়েন্স , ডিজাইন ও ক্রিয়েটিভিটির সমোন্বয় ঘটানোর জন্যই স্মার্ট ভাবে কাজ করে যেতে হবে। 

৪। প্রতিনিয়ত নতুন প্রোডাক্ট টেস্ট করে যেতে হবে ।  নিয়মিত যে নতুন নতুন প্রোডাক্ট যেমন বুক জুয়েলারি , কার্ড মাস্ক এই টাইমের কাস্টম ডিজাইন এর চাহিদা এখন বেশি তাই এই টাইপের প্রডাক্ট গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত টেস্কিং করে যেতে হবে । 

৫। মার্কেটীং এর জন্য ইনভেস্টমেন্ট কে কাজে লাগাতে হবে। যদিও নিউবিদের জন্য এটা একটু কষ্টজনক ব্যাপার বাট তাতে কি কিছুদিন আগেই আমার একজনের সাথে কথা হয়েছে উনি যাস্ট ফেসবুক গ্রুপ মার্কেটীং করে ৫ হাজার ডলারের জুয়েলারি সেলস করে প্রফিট করেছে । আপনিও এমন অনেক কিছু করে একটা ইনভেস্টমেন্ট জোগার করতে পারেন। 

আরো অনেক কিছু আছে যাই হোক আশা করছি প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে আপনি একটা ব্যাসিক ধারনা পেয়েছেন । তবে আমি এটা অবশ্যই বলতে পারি প্রিন্ট অন ডিমান্ড খুবই একটা মজার বিজনেস এখানে মার্কেটিং কে কাজে লাগানো যায় , প্যাসিভ আর্নিং এর সোর্স আছে ও সেই সাথে ক্লাইন্ড বিজনেস মনিটরিং এর সুযোগ আছে। এরকম হাজার সুযোগ আছে এই প্রিন্ট অন ডীমান্ড এই বিজনেস এ । 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত বড় লেখা পড়ার জন্য আমি চেষ্টা করেছি যত টা বিস্তারিত বলা যায় তাই নিজের মত করে লিখেছি বলে লেখাটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে।  আমি চাইলে অনেক কিছু বাদ দিয়ে যেতে পারতাম তবে আমি তা করিনি। যাইহোক আশা করছি আপনি লেখাগুলো পড়ে অবশ্যই কিছু জেনেছেন ও প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে একটা ব্যাসিক ধারনা পেয়েছেন। 

Leave a Reply