গুগল অ্যাডস কি?

গুগল অ্যাডস কি? গুগল অ্যাডস কিভাবে কাজ করে?

অনলাইন দুনিয়ায় আমরা কোন তথ্য খোঁজার জন্য সবার প্রথম গুগলে সার্চ করি। গুগল তার ডাটাবেস থেকে লক্ষ লক্ষ ওয়েব পেজ স্ক্যান করে নির্দিষ্ট উত্তর সম্বলিত পেজ আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। এই পুরো প্রক্রিয়া গুগল কমপ্লিট করে মিলি সেকেন্ডের মধ্যে। এ কারণে গুগলকে পৃথিবীর সব থেকে সেরা সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়। সার্চ ইঞ্জিন বাদেও গুগল মেইল, ওয়েব ব্রাউজার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। আজকে আমরা গুগলের অন্যান্য পপুলার সার্ভিসের মত একটি সার্ভিস গুগল অ্যাডস সম্পর্কে জানবো। তো চলুন গুগল অ্যাডস কি? গুগল অ্যাডস কিভাবে কাজ করে? গুগল অ্যাডস শিখে কি টাকা আয় করা যায়? এগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গুগল অ্যাডস কি?

গুগল অ্যাডস যা প্রথমে গুগল অ্যাডওয়ার্ডস নামে ছিল তা গুগলের একটি অনলাইন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট প্লাটফর্ম। ২৩ অক্টোবর ২০০০ সালে গুগল এই সার্ভিস চালু করে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত এই বিশ বছরে গুগল অ্যাডস অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

যাইহোক, গুগল অ্যাডস প্রধানত একটি বিড প্লাটফর্ম। অর্থাৎ এটি অনেকটা পণ্য নিলামে ওঠানোর মত প্লাটফর্ম। এখানে আপনি ইন্টারনেট ইউজারদের জন্য আপনার সার্ভিস বা প্রোডাক্ট প্রোমোশনের জন্য বিড করবেন।

গুগল অ্যাডস, অ্যাড ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতার অ্যাড গুগল সার্চ রেজাল্ট পেজ এবং বিভিন্ন অ্যাডসেন্স এনাবল সাইটে ডিসপ্লে করে। শুরুর দিকে তাদের পেমেন্ট সিস্টেম ছিল মাসিক কিন্তু বর্তমানে তারা ডেইলি এবং বাজেট আকারে পেমেন্ট নেয়।

টপ ১০ সেরা স্মার্ট ফোন কোম্পানি

অর্থাৎ পূর্বে একটি অ্যাড ক্যাম্পেইন সেটআপ এবং পরিচালনা সবকিছু গুগল নিজে করতো। তারা যে যে কাজ গুলো করতো সেগুলোর মূল্য হিসেব করে প্রতিমাসে পেমেন্ট নিত। কিন্তু বর্তমানে তারা বাজেট অনুযায়ী অ্যাড ডিসপ্লে করে। যেমন ধরুন আপনি একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ৫ ডলার সিলেক্ট করলেন এবং প্রতিদিন সর্বচ্চো ১ ডলার খরচ করার লিমিট দিয়ে দিলেন। তাহলে গুগল ২৪ ঘণ্টার জন্য অ্যাড চালু রাখবে এবং টাকা শেষ হওয়ার সাথে সাথে অ্যাড বন্ধ করে দেবে। সর্বোপরি বলা যায় গুগল অ্যাডস একটি ইফেক্টিভ অ্যাড প্লাটফর্ম যেখানে কম খরচে বিশ্বের বেশি মানুষের কাছে নিজের অ্যাড পৌঁছানো যায়।

গুগল অ্যাডস কিভাবে কাজ করে?

গুগল অ্যাডস কাজ করার প্রক্রিয়া আপাত দৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও আসলে সহজ। তাদের পুরো সিস্টেম কাজ করে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আছে ততক্ষন পর্যন্ত অ্যাড চালু থাকবে। টাকা শেষ হলে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন প্রশ্ন থেকেই যায় এর কাজ করার ধরন নিয়ে। চলুন গুগল অ্যাডস নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেই।

২০০০ সালে শুরু হওয়ার গুগল অ্যাডওয়ার্ডস একটি মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে তারা মাসিক পেমেন্ট নিয়ে অ্যাড সার্ভিস পরিচালনা করতো। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যারা ছোট ব্যবসায়ী ছিল তারা সমস্যায় পড়ে যায়।

কারণ তাদের অ্যাড গুগল ম্যানেজ করার কারনে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছিলো না। তখন ২০০৫ সালে সেলফ-সার্ভিস পোর্টাল নামে অ্যাডওয়ার্ডস একটি সার্ভিস ঘোষণা করে যেখানে ইচ্ছা মত অ্যাড ম্যানেজ করা যেত। ২০১৬ সালে তারা শোকেস শপিং নামক একটি ফিচার চালু করে। এই ফিচারের মাধ্যমে রিটেল প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের পণ্য শোকেস আকারে সাজিয়ে অ্যাড দিতে পারতো।

২০১৭ সালে গুগল অ্যাডওয়ার্ডস ডেইলি বাজেট ফিচার ঘোষণা করে এবং এর পরের বছর গুগল অ্যাডস নামকরন করে। গুগল অ্যাডস দুইটি জিনিসের উপর নির্ভর করে কাজ করে। ইউজারের ইনটেনশন বোঝার জন্য কুকি এবং অ্যাড দেখানোর জন্য কীওয়ার্ড ইউজ করা হয়। কুকি ইউজ করার কারন হচ্ছে বিজ্ঞাপন দাতার অ্যাড যেন সঠিক এবং পটেনশিয়াল কাস্টমারের কাছে যায় তা নিশ্চিত করা।

অর্থাৎ আপনি যখন গুগলে সার্চ করেন তখন কি কি সার্চ করেন তা গুগল নিজেদের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে আপনাকে অ্যাড দেখানোর সময় সেই সার্চ ডাটা থেকে পাওয়া তথ্য যদি কোন অ্যাড ক্যাম্পেইনের সাথে মিলে যায় তখন সেই অ্যাড আপনাকে দেখানো হয়।

অন্যদিকে, গুগল অ্যাডস এ ক্যাম্পেইন চালু করতে হলে কীওয়ার্ড বাছাই করতে হয়। কারন আপনি যে কীওয়ার্ড বাছাই করবেন সে কীওয়ার্ড যখন সার্চ পরবে তখন গুগল আপনার অ্যাড দেখাবে। ধরুন আপনি একটি মোবাইল ফোনের অ্যাড চালু করবেন। এখন আপনি যদি “আইফোন মোবাইল” এই কীওয়ার্ড দিয়ে অ্যাড চালু করেন তাহলে ইউজার “আইফোন মোবাইল” লিখে সার্চ করলে আপনার অ্যাড দেখবে। 

কিন্তু এখানে ঝামেলা দেখা দেবে অন্য জায়গায়, বাজারে আইফোনের অনেকগুলো মডেল পাওয়া যায়। এখন এদের মধ্যে কোন মোবাইলের জন্য এই অ্যাড শো করানো উচিৎ হবে তা নিয়ে গুগল ঝামেলায় পরবে। অন্যদিকে, আপনি যদি “আইফোন ১১” এই কীওয়ার্ডে অ্যাড চালু করেন তাহলে কিন্তু আর এই সমস্যায় পড়তে হবে না। কীওয়ার্ড সঠিক ভাবে বের করার পর অ্যাড সেটআপ করতে হবে। এখানে আপনি টেক্সট এবং ইমেজ দুই ভাবেই অ্যাড সেটআপ করতে পারবেন। অ্যাড এর টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন কাস্টমভাবে সেট করতে পারবেন। অর্থাৎ গুগল অ্যাডস ইউজ করতে হলে আপনাকে আগে কীওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে হবে। তারপর সঠিক ভাবে বাজেট এবং অ্যাড রানিং রাখার সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

গুগল অ্যাডস শিখে কি টাকা আয় করা যায়?

হ্যাঁ অবশ্যই গুগল অ্যাডস শিখে আয় করা যায়। আপনি গুগল অ্যাডস শিখে দুই ভাবে আয় করতে পারবেন। প্রথমত ফ্রিল্যান্সিং করে দ্বিতীয়ত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে। চলুন এই দুই মাধ্যম সম্পর্কে জেনে নেই।

ফ্রিল্যান্সিং করে: ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে প্রতিনিয়ত অ্যাড ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং সেটআপ করার জন্য জব পোস্ট হয়। সেখানে বায়ার এমন কাউকে হায়ার করতে চায় যার বাস্তব জ্ঞান আছে। কারণ সঠিক অ্যাড ক্যাম্পেইন পরিচালনার উপর বায়ারের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সফলতা নির্ভর করে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে একেকটি গিগ উচ্চ দামে সেল হয়। সে দিক থেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাডস নিয়ে সার্ভিস দিয়ে অনেক স্মার্ট অ্যামাউন্ট আয় করা সম্ভব। 

অ্যাডসেন্স থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা কমিশন ভিত্তিক মার্কেটিং অনেক প্রফিটেবল। আপনাকে শুধু নামী-দামী অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে যে অফার গুলো বেশি পে করবে সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে বের করার পর ওই অফারের উপর অ্যাডস এ অ্যাড ক্যাম্পেইন সেটআপ করে প্রমোট করতে হবে।

উক্ত অ্যাডের ইউআরএল এর জায়গায় আপনার অফারের অ্যাফিলিয়েট লিংক দিয়ে দিতে হবে। এরপর অ্যাড রান করতে হবে। এখন কোন ভিজিটর যখন ওই অ্যাডে ক্লিক করবে তখন সে আপনার দেওয়া অ্যাফিলিয়েট লিংকে চলে যাবে। এতে সহজেই আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

এভাবে আপনার আয় নির্ভর করবে অ্যাফিলিয়েট থেকে পাওয়া কমিশনের উপরে। সেখান থেকে আবার কিছু অংশ অ্যাড রান করাতে খরচ হয়ে যাবে। কিন্তু তার পরেও প্রতি মাসে এভাবে একটি স্মার্ট অ্যামাউন্ট ইনকাম করা সম্ভব।

 উপরের লেখায় আমরা গুগল অ্যাডস কি এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা বিস্তারিত জানলাম। এছাড়াও গুগল অ্যাডস ইউজ করে আমরা সহজেই কীভাবে স্মার্ট একটি ইনকাম জেনারেট করতে পারবো সে সম্পর্কে জানলাম। শুধু গুগল অ্যাডস ভালো করে শিখতে পারলে মার্কেটপ্লেস এবং মার্কেটপ্লেসের বাইরে নিজের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। যাহোক আমাদের আজকের লেখা পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং নতুন কিছু যদি জেনে থাকেন তাহলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। গুগল অ্যাডস নিয়ে আপনার মনে আরও কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন ধন্যবাদ। 

Leave a Reply