ফাইভারে গিগ র‌্যাঙ্কিং

ফাইভারে গিগ কিভাবে অপটিমাইজ করবেন? ফাইভারে গিগ র‌্যাঙ্কিং

ফাইভার সারাবিশ্বে খুব অল্প সময়ে সাড়া জাগানো মার্কেটপ্লেস। এখানে কাজ পেতে বা কাজ দিতে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট তুলনায় সহজ। অনেক ক্লায়েন্ট এর ধারণা এই মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে সস্তায় কাজ পাওয়া যায়। ফলে তাদের ছোটখাট কাজ গুলো এই ওয়েবসাইট থেকে করিয়ে নিতে পারেন। আর এখানে কাজের জন্য বিডের জন্য পয়সা খরচ করতে হয় না। এক প্রকার ফ্রীতে কাজ করা যায়। এই রকম একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি আবহাওয়া থাকায় খুব অল্পদিনে ফাইভার জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে। 

কিন্তু নতুন যে সকল ফাইভার সেলার বা ফ্রিল্যান্সার আসছে মার্কেটপ্লেসে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ কাজ পায় না। ফাইভারে গিগের হিসেবে সর্বসাকুল্যে ৫% থেকে ১০% গিগ সফলতা পায়। আর বাদবাকি সকলে রিক্ত হাতে বসে থাকে। তাদের কাজ না পাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তবে সব গুলো কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরণের কারণ হচ্ছে- গিগ অপটিমাইজেশন। নতুন যারা আসে মার্কেটপ্লেসে, তারা মূলত গিগ অপটিপাইজেশনটি ঠিক ভাবে করতে পারেনা। অথচ এটি খুব খুব গুরুত্বপূর্ন একটি ফেক্টর। 

তাই আমাদের নতুন ফ্রিল্যান্সার ভাইদের কথা চিন্তা করে গিগ অপটিমাইজেশন কিভাবে সম্পূর্নভাবে করতে পারেন, তার একটি সঠিক বর্ণনা তুলে ধরেছি আজকের এই পোস্টে।

সঠিক টাইটেল নির্বাচন করা

টাইটেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক গিগ অপটিমাইজেশনে, কারণ এটি আপনার প্রথম সুযোগ, ছবি এবং টাইটেলের মাধ্যমে আপনার সম্ভাব্য বায়ারকে জানানো, আপনি কি কাজের অফার করছেন। তবে সব সময় চেষ্টা করবেন বায়ারের দিক থেকে চিন্তা করতে। আপনার টাইটেল কি বায়ারের রিকয়ারমেন্ট পূরণ করতে পারছে কিনা? বায়ার তখন আপনার গিগে ক্লিক করবে যখন সে তার কাজের প্রয়োজনের সাথে আপনার টাইটেলের মিল লক্ষ্য করবে। তাই টাইটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। 

ফ্রিল্যান্সার মাহমুদুল হাসান এর সফলতার গল্প জানতে এখানে ক্লিক করুন

  • টাইটেল আপনার নীশের উপর বেশি ফোকাস রেখে নির্বাচন করবেন। যেমন-  ‘I will design your logo’ না বলে যদি ‘I will design a logo for your business consulting service’ লেখেন তাহলে আরো বেশি ভালো হয়।
  • চেষ্টা করবেন, টাইটেলে অ্যাডজেক্টিভ গুলো ইভোকেটিভ করে লিখতে যেমন- ‘I will write blog post’ না লেখে যদি ‘I will write beautiful, powerful blog posts’ লেখেন তাহলে আরো কার্যকর হয়।
  • আর বায়ার কি চায়, সেই ধরণের টাইটেল নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গুগল ট্রেন্ডস বা গুগল এডওয়ার্ডস কিওয়ার্ড টুল ব্যবহার করতে পারেন। যা আপনাকে ধারণা দিবে কোনটি বেশি চাহিদা সম্পন্ন কি-ওয়ার্ড। 

গিগে দৃষ্টিনন্দন ছবি সংযুক্ত করা 

টাইটেলের পর সঠিক ইমেইজ নির্বাচন করা সবচেয়ে বেশি জুরুরি। বাংলায় প্রবাদ আছে, ‘আগে দর্শনদারি পরে গুণ বিচারী’। তাই ছবিকে যত সম্ভব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করবেন- ছবিতে আপনার কাজের নমুনা ফুটিয়ে তোলার। যদি আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে থাকেন, তাহলে চেষ্টা করবেন, ছবিতে আপনার কাজের নমুনা তুলে আনতে। একটি সুন্দর দৃষ্টি নন্দন ছবি সংযুক্ত করবেন আপনার গিগে। যেন বায়ারের চোখে পড়ে খুব সহজে। মনে রাখা দরকার, যদি আপনার এই গিগের টাইটেল এবং ছবি দেখে বায়ার পছন্দ করে, তাহলে আপনার অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। 

সতর্কতার সাথে মেটা ডাটা সংযুক্ত করা 

ফাইভারের ক্ষেত্রে মেটা ডাটা বোঝানো হয়েছে- কোন ক্যাটাগরিতে আপনার সার্ভিস অফার করছেন সেট। অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কাজের বর্ণনা আপনার গিগে দিয়েছেন, তা বায়ারকে যদি স্পেসিফিক করে না দেন, সে এবং ফাইভার সার্চ এলগরিদম কিন্তু তা সহজে খুঁজে পাবে না। তাই যত বেশি কাজের স্পেসিফিক করে গিগের মেটা ডাটা আপডেট করে দেওয়া যায়, তত সহজে ন্যাভিগেট করা সহজ হয়। এতে করে বায়ার সার্চ করার সাথে সাথে আপনার গিগ পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। 

ফাইভারে কাজ পাবার উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

গিগ সার্চ ট্যাগ অপটিমাইজ করা 

বায়ার আপনাকে খুঁজে পাওয়ার আরেকটি চরম উপায় হচ্ছে এই সার্চ ট্যাগ। আপনার গিগ যদি স্পেসিফিক কাজের উপর ফোকাস করা থাকে, তাহলে ঐ স্পেসিফিক কিওয়ার্ড আপনার গিগ সার্চ ট্যাগ অপটিমাইজ করার সময় ব্যবহার করুন।  এক্ষেত্রে আপনি গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার এর সহায়তা নিতে পারেন। কারণ গুগল জানে কার কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অর্থাৎ আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট স্পেসিফিক বিষয়ের উপর কাজ করেন, এবং ঐ কাজের সঠিক বর্ণনা সব যায়গায় দিতে পারেন তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  

সবগুলো প্যাকেজের সঠিক ব্যবহার করা

প্রতেক গিগে একটি অথবা তিনটি গিগ প্যাকেজ থাকে। আপনি যদি তিনটি গিগ প্যাকেজ ব্যবহার করেন, তাহলে বায়ারের জন্য আরো বেশি পরিমানে সুবিধা হয় ন্যাভিগেট করতে। তাই তিনটি গিগ প্যাকেজ ব্যবহার করা অতি উত্তম। 

  • বেসিক, স্ট্যান্ডার্ড এবং লাক্সারি প্যাকেজ গুলো ভিন্ন ভিন্ন লেভেল, সার্ভিস এবং প্রাইসিং দিয়ে সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। 
  • সোজা সাপ্টা বর্ণনা করবেন, আপনার কোন প্যাকেজে কি কি অফার করছেন, যা বায়ারকে বুঝতে সহায়তা করবে তার কোনটি আসলে প্রয়োজন। 
  • প্রত্যেক লেভেলে চেষ্টা করবেন, গিগ এক্সট্রা ব্যবহার করতে। এতে করে বায়ারদের আরো বেশি ফ্রিডম থাকে আপনার প্যাকেজ গুলো কেনার জন্য। 

আকর্ষণীয় ডেসক্রিপশন লেখা

গিগ টাইটেল, ইমেইজ, মেটাডাটা এবং সার্চ ট্যাগ আপনার গিগকে মার্কেটপ্লেসে সামনে আনতে চেষ্টা করবে। এইগুলোর সাহায্যে বায়ার খুব সম্ভাবনা থাকে আপনার গিগে ক্লিক করার। কিন্তু বায়ার আপনার গিগে আসার পর মূলত অর্ডার করবে আপনার গিগের বর্ণনা দেখে। আপনি যদি যথাযথ ভাবে গিগের বর্ণনা করতে পারেন, তাহলে বায়ার আকৃষ্ট হয়ে আপনাকে অর্ডার করতে পারে। ডেসক্রিপশন লেখাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, এক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ-

  • সব  সময় চেষ্টা করবেন, বায়ারের সাথে কথা বলার সময়, ‘you’ এবং ‘your business’ কথা গুলো ব্যবহার করতে।
  • আপনার গিগে ইউনিক কি অফার করছেন তা উল্লেখ করে হাইলাইট করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। 
  • আপনার এক্সপেরিয়েন্স, ইনসাইট এবং দক্ষতা এইগুলো উপস্থাপন করুন সুন্দর ভাবে। 
  • বায়ারকে বলুন সে কিভাবে আপনার সার্ভিস নিয়ে উপকৃত হবে। 

FAQ সংযুক্ত করা

অনেক সেলার আছেন, এই অংশটি খুব একটা বেশি প্রাধান্য দেন না, অথচ এই ফ্রিকুয়েন্টলি আস্কড কোয়েশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন র‍্যাংকিং এবং বায়ারের শুভ দৃষ্টি পেতে। তবে এক্ষেত্রে FAQ  সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। আপনাকে চিন্তা করতে হবে, আপনার গিগের অনুযায়ী বায়ারের মনে কি কি প্রশ্ন জাগতে পারে। এর জন্য আপনি অন্যন্য গিগের সহায়তা নিতে পারেন, তারা কি কি  FAQ এড করেছে, এতে করে বায়ার আপনার গিগ দেখে বুঝতে পারবে, আসলে আপনি তার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন কিনা। মোট কথা, আপনাকে বায়ারের ট্রাস্ট অর্জন করতে হবে, এই  FAQ দিয়ে। 

কাজের পূর্বে রিকয়ার্মেন্ট জেনে নেওয়া

আপনি একজন বায়ারের কাজ শুরু করার আগে কি কি বিষয়ের প্রয়োজন হতে পারে, তার সম্পূর্ণ তালিকা করে রিকয়ার্মেন্ট সেগমেন্টে দিয়ে রাখবেন, এতে করে আপনার এবং বায়ারের উভয়ের সময় বাঁচবে। রিকয়ার্মেন্ট না এড করলে তা আপনার কর্মঘন্টা থেকে ঐ সময় টুকু বাদ যাবে। ধরুন আপনি ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট অপটিমাইজ করবেন, এক্ষেত্রে ঐ ওয়েবসাইটেরর এডমিন এক্সেসটি চেয়ে রাখা ভালো। এতে করে অর্ডার প্লেস করার পর বার বার বায়ারকে জিজ্ঞেস করে নিতে হয় না।

ফাইভারে গিগ কি? গিগ কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি আপনার গিগ অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন সব কিছু এই রিকয়ার্মেন্ট বক্সে সংযুক্ত করে দিতে পারেন। 

গিগে ভিডিও সংযুক্ত করা 

ফাইভার কতৃপক্ষ বলে থাকে ভিডিও আপনার গিগের এঙ্গেজমেন্ট ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। বোঝাই যাচ্ছে ভিডিও ডেসক্রিপশন কতটা গুরুত্বপূর্ন। এই ভিডিও ডেসক্রিপশন আপনার গিগের ট্রাস্ট বৃদ্ধি করে থাকে। কাস্টমারের কাছে সহজে গ্রহনযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারে। ভিডিও ডেসক্রিপশন দেয়ার ক্ষেত্রে যা যা মাথায় রাখার চেষ্টা করবেন-

  • নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিবেন, তারপর যিনি দেখছে তাকে ধন্যবাদ দিবেন।
  • ভিউয়ারকে ‘You’ দিয়ে সম্বোধন করুন।
  • আপনার গিগের উপকারীতা বর্ণনা করুন। 
  • আপনার এক্সপেরিয়েন্সের বর্ণনা দিন, অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করুন। 
  • যিনি দেখছেন, তাকে অর্ডারের করার জন্য বলুন।

গিগের প্রুফরিড করা

আপনি যদি ফাইভারে নতুন হয়ে থাকেন, বা নতুন গিগ খুলতে আসেন তাহলে খুব বেশি সম্ভাবনা থাকে আপনার কোন মেন্টর রয়েছে। উনি যদি সফল ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে গিগ রেডি করার পর তাকে দেখান। কোথায় কি কি ভুল আছে ধরে দিতে বলেন, এর পর ঐগুলো সংশোধন করুন। ঐরকম মেন্টর না থাকলে ফেসবুক থেকে খুঁজে বের করুন। একজন নেটিভের পক্ষে আপনার ভাষা বোঝা সম্ভব কিনা এই সব দিক খেয়াল রাখুন। ভালো ইংরেজি জানে, এমন কাওকে দিয়ে ইংরেজি লেখা গুলো শুদ্ধ করে নিতে পারেন। 

বলা যায় এই সব নিয়মকানুন মেনে থাকলে আপনার অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তবে হলফ করে বলা যায় না যে, আপনি এই গুলো মানলেই অর্ডার পেয়ে যাবেন। উপরের সবগুলো ইনফরমেশন সংগ্রহ করা হয়েছে, ফাইভারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে, তাই নিশ্চিন্তে  ফলো করার চেষ্টা করুন, ধৈর্য ধরুন সফলতা আসবে ইনশাল্লাহ। ফাইভার গিগ অপটিমাইজ সম্পর্কে আরো কোন ধরণের প্রশ্ন থাকলে তা নিদ্বিধায় আমাদের কমেন্টে জানাতে পারেন।

Leave a Reply