ই-কমার্স

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে যা জানা জরুরি

ইন্টারনেট ইউজ করে পণ্য বিক্রি করার প্রক্রিয়া বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয়। করোনার কারণে এই মাধ্যম মানুষের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘরে বসেই মানুষ জামা-কাপড়, খাবার, এক্সেসরিজ সহ প্রায় সব জিনিস অনলাইনে অর্ডার করে নিজের বাসার গেট থেকে রিসিভ করছে। এসকল সুবিধা আমরা ই-কমার্স নামক ইন্ডাস্ট্রি থেকে পাচ্ছি। 

ই-কমার্স একটি বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি যা ইন্টারনেট ইউজ করে পণ্য কেনা-বেচার একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে চালডাল, ইভ্যালী, দারাজের মত বড় বড় ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছে। এছাড়াও অনেকে নতুন ভাবে এই বিজনেস শুরু করছে এবং করতে চাচ্ছে। যারা শুরু করতে চাচ্ছে তারা কিছু বিষয় সম্পর্কে জানা জরুরী। তো চলুন ই-কর্মাস বিজনেস শুরু করার আগে যা জানা জরুরি সেগুলো নিয়ে জেনে নেই।

সম্ভাবনাময় খাত

ই-কর্মাস একটি সম্ভাবনাময় খাত। দিন দিন মানুষ অনলাইন কেনা কাটার দিকে বেশি বেশি ঝুঁকছে। তারা দৈনিন্দ জীবনে প্রয়োজন এমন সকল পণ্য অনলাইনে কিনছে। আগে যেখানে মানুষ বড় বড় সুপারমার্কেট অথবা শপিং মলে যেত বর্তমানে সে হার দিন দিন কমে যাচ্ছে। যেহেতু মানুষের হাতে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে সেহেতু ই-কমার্স মার্কেট ধীরে ধীরে বেড়েই চলবে। 

এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে বর্তমানে মোট কাস্টমারের ৯০ ভাগ রিটেইল থেকে কেনাকাটা করে এবং বাকী ১০ ভাগ অনলাইন থেকে। কিছুদিন আগেও অনলাইনে কেনা কাঁটার হার খুব কম ছিল যা দ্রুত বেড়েই চলছে। অদূর ভবিষ্যতে পুরো মার্কেট অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাবে। আর এই অনলাইন দুনিয়ায় ই-কমার্স হবে একমাত্র ব্যবসা ক্ষেত্র।

ডেস্কটপ কিনবেন? না ল্যাপটপ কিনবেন?

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এদের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে অনেকেই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি ওয়েবসাইট থেকেই নিয়মিতভাবে মানুষ তাদের চাহিদা মত পণ্য কিনছে। তো ই-কমার্স শুরু করার আগে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন যে এটি একটি সম্ভামনাময় খাত। যেখানে সঠিক বিনিয়োগ আপনাকে সফল বিজনেসম্যান বানাতে সক্ষম।

মার্কেটিং শেখা

আপনি হুট করে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে প্রোডাক্ট অ্যাড করলেই যে সফল হবেন এমনটা না। ই-কমার্স নিয়ে সফল হতে গেলে আপনাকে অনেক লেখাপড়া এবং রিসার্চ করতে হবে। ই-কমার্স  একটি অনলাইন ভিত্তিক বিজনেস আইডিয়া। 

তো এখানে সফলতা ফেতে চাইলে আপনাকে মার্কেটিং শিখতে হবে। কারণ একমাত্র মার্কেটিং আপনার প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইট কে অনলাইনে সবার কাছে পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হবে। যদিও আপনি টাকা খরচ করে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কেটিং করিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু তারপরেও আপনাকে মার্কেটিং শিখতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার পণ্য এবং সার্ভিসকে অনলাইনে সবার সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। এতে মানুষ আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানবে এবং সেখানে কি কি পণ্য পাওয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে ধারণা পাবে। ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য আপনি কোর্সেরা, ইউডেমি, ইউটিউব এসব অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্ম ইউজ করতে পারেন। অথবা ভালো ভালো মার্কেটারদের থেকে কোর্স করে শিখতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার

সাধারণত অন্যান্য মার্কেটিং এর সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি অনেক কাজের একটি মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম পণ্য এবং সার্ভিসের প্রচারের জন্য একটি পারফেক্ট প্লেস। ইন্টারনেট ইউজারের অনেক বড় একটি অংশ এই দুই মাধ্যম ইউজ করে। আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যদি একটি পেজ এই দুই জায়গায় থেকে থাকে তাহলে আপনি ফ্রী তে এখানে মার্কেটিং করতে পারবেন। 

যেমন ধরুন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে থ্রিপিস পাওয়া যায়। এখন আপনি আপনার পেজে কয়েকটি থ্রিপিস এর পিকচার দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিলেন। তাহলে কাস্টমার সরাসরি এই লিংক থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকে থ্রিপিস টি কিনবে। এছাড়াও পোস্ট বুস্ট করে আপনি আপনার কাঙ্খিত কাস্টমারের কাছে আপনার পণ্য পৌঁছাতে পারবেন। 

তো ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করে নেজের প্রোডাক্ট পাবলিক করতে হয়ে এবং সেল বাড়ানো যায় তা শিখে নিতে হবে । এগুলো আপনি পিডিএফ বই, ইউটিউব ভিডিও অথবা কোর্স করে সহজেই শিখে নিতে পারবেন।

নিয়মিত স্ট্রাটেজি অপ্টিমাইজ করা

ই-কমার্স সব প্রোডাক্টে সেম স্ট্রাটেজি কাজ করে না। সময়ের সাথে সাথে স্ট্রাটেজি পরিবর্তন করতে হয়। বিজনেসে নতুন নতুন টেকনিক অ্যাপ্লাই করতে হয়। নতুন নতুন টেকনোলজি এবং মেথড ইমপ্লিমেন্ট করতে হয়। এতে যেমন সাইটের সেল বারে তেমন সাইট লেটেস্ট সকল সুবিধা দিতে পারে। 

যাইহোক, স্ট্রাটেজি অপটিমাইজেশন বিষয়টা হলো সাইট এর জন্য কি বেশি কার্যকর তা খুঁজে বের করা। অর্থাৎ ধরুন আপনি একটি অ্যাড ক্যাম্পেইন চালু করেছেন যেখানে একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল ইউজার টার্গেট করেছেন। এখন আপনার প্রোডাক্ট যদি হয় মেকআপ রিলেটেড সেক্ষেত্রে সেই অ্যাডে মেয়ে মানুষের এনগেজমেন্ট সবথেকে বেশি থাকবে।

তো এখানে আপনি যদি সকল ধরনের ইউজার টার্গেট না করে শুধু ফিমেল ইউজার টার্গেট করতেন তাহলে কিন্তু অল্প টাকায় অনেক বেশি ইউজারের কাছে অ্যাড দিতে পারতেন। মোটকথা বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে আপনাকে কোনটি কাজের তা বের করতে হবে। এবং সঠিক জায়গায় তা প্রয়োগ করতে হবে।

ব্রান্ডিং

অনলাইন দুনিয়ায় ব্রান্ডিং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ অনলাইনে কিন্তু কেউ আপনাকে সরাসরি চেনে না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্বাস করা নিয়ে তার মনে কোন হেজিটেশন থাকতেই পারে। যদি থাকে তাহলে কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট কিনতে সে কয়েকবার চিন্তা করবে। 

যেমন ধরুন আপনি একটি অ্যাপল মোবাইল কিনবেন। তো আপনাকে যদি অ্যাপল ষ্টোর থেকে একটি মোবাইল সাজেশন দেওয়া হয় তাহলে সেখানে আপনি প্রোডাক্ট নিয়ে কোন হেজিটেশন ফিল করবেন না। যদিও দাম নিয়ে হয়ত একটু চিন্তা করবেন যে বাজেটের মধ্যে কেনা যাচ্ছে কিনা। তো ব্যাপারটা আসলে এরকম। 

পুরোনো ফোন কেনার আগে ১০ টি বিষয় জানা জরুরি

অ্যাপল তাদের পার্সোনাল ব্রান্ডিং এর কারণে মানুষ চোখ বন্ধ করে অ্যাপল মোবাইল কিনে। সেরকম ভাবে আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডিং করতে হবে। এতে মানুষের মাঝে আপনার প্রতিষ্ঠান পরিচিতি পাবে এবং সহজেই ট্রাস্ট করবে।

অডিয়েন্স তৈরি

অডিয়েন্স হলো তারা যারা প্রোডাক্ট বা সাইট লাইভ হওয়ার আগেই ওয়েবসাইট বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা রাখে। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করে আপনার ওয়েবসাইট বা প্রোডাক্টের জন্য একটি ইউজার বেস বা শুভাকাঙ্ক্ষী গ্রুপ তৈরি করা। এতে আপনি যখন সার্ভিস লাইভ করবেন তখন সাথে সাথেই সেল পাবেন। তাছাড়া এরকম একটি অডিয়েন্স বেস থাকলে সার্ভিসের মার্কেটিং নিজে নিজেই হতে থাকে। 

প্রোডাক্ট সেল সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মোটকথা আপনি যদি ই-কমার্স ওয়েবসাইট শুরু করতে চান তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ বা গ্রুপ খুলে সেখানে মানুষদের মাঝে নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে আলোচনা করুন। মানুষের মাঝে আপনার সার্ভিস নিয়ে আগ্রহ গড়ে তুলুন যাতে তারা ভিজিটর থেকে কাস্টমারে পরিণত হয়।

কাস্টোমার এবং ভিজিটরের পার্থক্য

কাস্টোমার এবং ভিজিটর দুটোই আলাদা জিনিস। আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই যে সে কোন প্রোডাক্ট কিনবে তেমন কোন কথা নেই। আর সকল ভিজিটরকে আপনি কাস্টোমার বানাতেও পারবেন না। ই-কমার্স শুরু করার সময় প্রায় মানুষ ভিজিটরকে কাস্টমার ভেবে বসার ভুল করে। আর এভাবে তারা অযথা যত্রতত্র অ্যাড দেওয়ার মাধ্যমে টাকা নষ্ট করে। তাই ই-কমার্স শুরু করার আগে পটেনশিয়াল কাস্টোমার চেনার উপায় শিখে নিতে হবে।

ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার আগে আমাদের উপরে বর্ণিত বিষয় গুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে। এই পদ্ধতিগুলো সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে পারলে অনলাইন বিজনেসে সফল হওয়া সম্ভব। যাইহোক, আশাকরি পুরো পোস্ট পড়ে আপনার ভালো লেগেছে। ই-কমার্স সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করবেন ধন্যবাদ। 

Share

Leave a Reply